যখন দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটানো কষ্টকর তখন নীলাবতীও সাদা বুড়ি হয়ে যায় (ভিডিও)

২:৩৩ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

Saidpur_1somoyerkonthosor


সৈয়দপুর প্রতিনিধি- বয়স ৯০ ছুঁই ছুঁই। সবাই তাকে ‘সাদা বুড়ি’ নামে চেনে। ভালো নাম নীলাবতী। ৯০ বছর বয়সেও ইট ভেঙে সংসার চলে ‘সাদা বুড়ি’র। মাথার চুলগুলো ছেলেদের মত ছাঁটা। পরণে বিধবার সাদা শাড়ি। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করে হাতুড়ি দিয়ে ইট ভেঙে চলেছেন। ছেলের সংসারে বোঝা না হয়ে গায়ে-গতরে খেটে চলেছেন। এভাবেই চলছে তার জীবন।

বয়স হয়েছে তাই চোখের নজরও কমে এসেছে। মাঝেমধ্যে হাতুড়ির বারি ইটে না পড়ে তার হাতে পড়ছে। এতে অসহ্য যন্ত্রণায় কয়েকদিন কষ্ট পেয়েছেন, বিছানায় পড়ে ছিলেন প্রায় তিন মাস। তার ডান চোখের মাংস বেড়েছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই এই ৯০ বছর বয়সেও সাদা বুড়িকে ইট ভাঙার কাজ করতে হচ্ছে। এই বয়সেও পরিবারের বোঝা হতে চান না তিনি। তাই রোদের প্রখরতায় আর বৃষ্টির সময় মাথায় ছাতা তুলে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে শহরের বাঙালিপুরে বিটিসিএল প্রাচীরের সাথে আপনমনে ইট ভাঙেন।
উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর বাড়াইশাল হিন্দুপাড়ায় সাদা বুড়ির বাড়ি। প্রতিদিন প্রায় ৮/১০ কিলোমিটার সড়ক পায়ে হেঁটে ইট ভাঙতে আসেন তিনি। শরীরে শক্তি খুব একটা পান না। তবুও এক একটি করে ইট হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ছোট ছোট খোয়া তৈরি করেন। একটি ইট ভাঙলে বিনিময়ে পান ১ টাকা। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০টি ইট ভেঙে রোজগার করেন তিনি।
সাদা বুড়ির নিজের ভিটেমাটি নেই। তাই সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলে আছেন। স্বামী ভোলানাথ চন্দ্র রায় মারা গেছেন তাও ৩০ বছর হল। সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। ধারদেনা ও অতিকষ্টে মেয়েগুলোর বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে কাঞ্চন (৪৫)। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন কাঞ্চন। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই ইটভাঙার কাজ করছেন সাদা বুড়ি। যতদিন সুস্থ আছেন ততদিন কাজ করতে ভয় নেই সাদা বুড়ির। ভয় যখন তার জীর্ণ শরীর আর চলার শক্তি দিবে না তখন কিভাবে চলবেন?
ভিডিও চিত্র-
https://www.youtube.com/watch?v=J8vtuRrjHyo&feature=youtu.be