সংবাদ শিরোনাম
‘আমি এমন একজনের ভোট পেয়েছি, যার নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প’ | বার্সেলোনাকে হেসে খেলে হারিয়ে রিয়ালের এল ক্লাসিকো জয় | ‘আমি ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি, বিরোধী দলের নেতারা ক্ষমতায় ফিরবে না’- ইমরান | বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো প্রেমিকা! | গৃহকর্মী সাদিয়ার বাড়িতে শোকের মাতম, জড়িতদের ফাঁসির দাবি | তেঁতুলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২ জন | পঙ্গপালের আক্রমনে দিশেহারা ইথিওপিয়া, খাদ্য সংকট চরমে! | ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের মানসিক পরীক্ষা করা দরকার: এরদোগান | চুল কেটে সিনেমা থেকে বাদ পড়লেন বাপ্পি চৌধুরী! | মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ: অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারকে আটক করেছে জনতা |
  • আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

রংপুরে র‍্যাবের তালিকায় নিখোঁজ থাকা সবার খোঁজ পাওয়া গেছে

২:৩৬ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ২২, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

শাহরিয়ার মিম, রংপুর ব্যুরো চীফ: র‍্যাবের প্রকাশ করা নিখোঁজ তালিকার ২৬১ জনের মধ্যে রংপুরের ৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। এদের ৪ জন এখন বাড়িতে অবস্থান করছেন। একজন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আট মাস ধরে আটক। আর একজন রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত।

নিখোঁজ তালিকায় নিজেদের নাম এবং ছবি দেখে অবাক হওয়াসহ উদ্বেগে রয়েছেন তাদের অভিভাবক এবং পরিবারগুলো। ইতিমধ্যে তারা পুলিশের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করেছেন।

তারা বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হলেও তখন পুলিশ এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেনি। ছেলেরা ফিরে আসার পর নিজেই থানায় গিয়ে সংবাদ দিয়ে ডায়েরি প্রত্যাহার করা হলেও কোন তদন্ত করা হয়নি। আর পুরনো সেই সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরেই নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দিনভর নিখোঁজ হওয়া ৬ জনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের দেয়া নিখোঁজের ১৫৯ নম্বর তালিকায় আছে রেজওয়ানুর রহমান। তার ডাক নাম রাকিব। তার বাড়ি নগরীর কামালকাছনা বৈরাগী পাড়ায়। বাবা মজিবর রহমান চাকরি করেন রংপুর এলজিইডিতে। আর রেজওয়ানুর রহমান রাকিব তিন বছর ধরে কাজ করে রংপুর প্রেসক্লাবের নিচ তলায় একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ করে। ওই দোকানটি স্থানীয় একটি পত্রিকার ফটো সাংবাদিকের।

রাকিবের বাবা মজিবর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ মার্চ বাড়ি থেকে অভিমান করে ঢাকায় যায়। পরের দিন রংপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। এর একদিন পরেই রেজওয়ানুর বাড়িতে ফোন করে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে জানায়। এর দুদিন পরেই সে বাড়িতে ফেরে।
তিনি বলেন, এরপর আমি থানায় যাই এবং সাধারণ ডায়েটি প্রত্যাহার করার জন্য পুলিশকে বলি। পুলিশ আমাকে জানায়, আপনি বাড়িতে যান, জিডি প্রত্যাহার হয়ে গেছে। এরপর আমি বাড়িতে চলে আসি। কিন্তু কয়েকদিন থেকে আমার বাড়িতে প্রশাসনের লোকজন আসছে খোঁজ নিতে। আমি হবাক হই! বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। রেজোয়ানুর জানায়, বাবা মার সঙ্গে অভিমান করে ঢাকায় যাই এবং দুদিন পর ফিরে আসি।
রেজোয়ানুর রহমানের মা রশিদা বেগম জানান, আমার এক ছেলে এক মেয়ে। আমার ছেলে মেয়েরা যথেষ্ট ভদ্র। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছেলে সিগারেট তো দূরের কথা পান পর্যন্ত খায় না।

rab-rongpur

এদিকে নিখোঁজের তালিকায় থাকা ইকবালের স্বজনদের অভিযোগে অনুসন্ধান করতে যাওয়া হয় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে গিয়ে জানা যায় ইকবাল হোসেন গত আট মাস থেকে এই কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাবন্দি আছে। তার বাড়ি রংপুরের মনোহরপুরে। সে ওই এলাকার মহুবর হোসেন এর পুত্র। কারগারের থাকা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার আব্দুল কুদ্দুস।

স্বজনরা জানান, ইকবাল ঢাকায় একটি রড কোম্পানী কাজ করত। পরে রংপুরের এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের জের ধরে সে রংপুরে এসে পালিয়ে দুজনে বিয়ে করে। এরপর ইকবালের নামে শিশু ও নারী নির্যাতন নামে মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে । তখন থেকেই সে জেলহাজতে রয়েছে।

র‍্যাবের নিখোঁজের তালিকায় ১৫৮ নম্বরে আছে শায়েস্তা খাঁ। তার বাবা আব্দুস সবুর খান রংপুর সেনানিবাসে মেস ওয়াটার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমার ছেলে এইচ এসসি পরীক্ষা শেষে তার আরো তিন বন্ধু মিলে ঢাকায় বেড়াতে যায়। কিন্তু আমরা সেটা জানতাম না। এরপর ১৭//২০১৫ তারিখে আমি রংপুর কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যার নম্বর ৮৯২। কিন্তু পরে জানতে পারি তারা ঢাকায় আছে এবং সেনাবাহীতে চাকুরির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনা জানার পর তারা সবাই বাসায় ফেরে এবং আমি তিনদিন পর নিজে থানায় গিয়ে ডায়েরি উইথড্র করি। তখন ডিউটি অফিসার ছিল খায়রুন। তিনি লিখেও দেন।

তিনি বলেন, সেই থেকে আমার ছেলে আমার কাছেই আছে। তাকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করে দেই। সে সেখানে পড়া লেখা করছে। কথা হয় শায়েস্তা খানের সঙ্গেও। সে নিজেও জানায় ঢাকায় যাবার বিষয়টি।

শায়েস্তা খানের বাবা জানান, কয়েকদিন থেকে আমার বাসায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন আসছেন। আমি বিষটি আমার সিনিয়র অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি বলেন, শুধু আমার ছেলের বিষয়ে নয় আমার আরেক সহকর্মী শফিউল ইসলাম। উনি রংপুর সেনানিবাসে মেস কুক হিসাবে কাজ করেন ( ১৫ এমপি ইউনিট)। তার ছেলে রংপুর সেনা নিবাসে সিকিউরিটি গার্ড হিসাবে কর্মরত। তাকেও নিখোঁজের তালিকায় দেয়া হয়েছে।
নিখোঁজের তালিকায় থাকা কাজী সাব্বির হোসেন রংপুরে ডিসির মোড় কেরানী পাড়ার‘কাজী আশরাফ ভবন’এ থাকত। এখন সেখানে আলোর ভুবন নামের একটি বে- সরকারী সংস্থা আছে। ওই সংস্থার পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সাব্বিরের বাবা কাজী আশরাফ রংপুর সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজে অধ্যাপনা করতেন। তারা এখন চুয়াডাঙ্গায় থাকেন। সেখানে কাজী সাব্বিরসহ পরিবারের লোকজনও থাকেন। মাঝে মধ্যে রংপুর আসেন তারা।

নিখোঁজের তালিকায় থাকা রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে জানাযায়, তারা কেউ সেখানে থাকে না। এক সময় তিন শতক সরকারি খাস জমিতে বাড়ি ছিল তাদের। পরে তারা তা বিক্রি করে চলে যায়। রেজাউল পাগল ছিল বলে তার পাশের বাড়ির ইউসুফ আলী জানান। তিনি বলেন, রেজাউল পাগল মাটিসহ যা পায় তাই খায়। কিছুদিন আগে গাইবান্ধায় একটি বাড়িতে ডাকাতি হয়। ওই বাড়ির বারান্দায় শুয়ে ছিল রেজাউল। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল খানায় পাঠায়। এক পুলিশের সহযোগিতায় তাকে তার মা রোজিনা বেগম জেল খানা কেরে বের করে । এখন তারা আগের বাড়িতে থাকে না। কোথায় থাকে কেউ জানে না।

রংপুর গোয়েন্দা সুত্র নিশ্চিত করে জানায়, নিখোঁজের ১৫৭ নম্বর তালিকায় থাকা শামিম মিয়া এবং ১৬৪ নম্বরে থাকা সাদ্দাম হোসেন বাড়িতে থাকে। এছাড়াও ১৬৫ নম্বরে তাকা নাজিরুল ইসলামের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি রংপুরের যে নয় জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে এর মধ্যে ৪ জন বাড়িতে থাকে। একজন কারাগারে আর একজন রংপুর সেনা নিবাসে কর্মরত। একজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আর একজন মাঝে মধ্যে রংপুরে আসে। থাকে চুয়াডাঙ্গায়।

র‍্যাব রংপুর-১৩ এর অপারেশন অফিসার এএসপি দোলন মিয়া জানান, র‍্যাব হেড কোয়ার্টার এর সহযোগিতায় আমরা অনুসন্ধান করে এ তালিকা তৈরি করেছি। কেউ ফিরে এসে থাকলে তা আবার অনুসন্ধান করে তালিকা সংশোধন করা হবে।

রংপুর কোতয়ালী থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, তারা যখন নিখোজ হয়েছিল আমাদের কাছে ডায়েরি করেছে আমরা ডায়েরি গ্রহন করেছি। এরপর ফিরে এলে সে তথ্যও আমাদের কাছে আছে। কিভাবে তারা নিখোঁজের তালিকায় গেল সে বিষয়ে র্যাব ভালো জানবে।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই

শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

corona দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৬১

শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২০

mash মাশরাফির দুই সন্তান করোনায় আক্রান্ত

বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২০