জার্মানিতে সন্ত্রাসী হামলায় মিউনিখে আটকে পড়া মানুষরা মসজিদে আশ্রয় নিতে পারবেন


❏ শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   জার্মানির মিউনিখে অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে হামলার পর পুরো মিউনিখ শহরে ট্রেন, বাস ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক মানুষ বিভিন্ন দোকান, শপিং সেন্টার ও রাস্তায় আটকা পড়েছেন। এসব আটকে পড়া মানুষদের সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় মুসলিমরা। মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটকে পড়া মানুষরা চাইলে মসজিদে আশ্রয় নিয়ে রাত্রি যাপন করতে পারবেন।

মিউনিখের স্থানীয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ ডিআইটিআইবি এ ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদ মাধ্যম স্পেইজেল।

টুইট

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় সন্ত্রাসী হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। মিউনিখের একটি শপিং সেন্টারে এ হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। পুলিশ তিন হামলাকারীদের গ্রেফতারে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডসে তিন বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছে। উত্তর মিউনিখের বেশ কয়েকটি সড়ক পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে এবং মহাসড়কে অবস্থান না করার নির্দেশ দিয়েছে। জার্মান বর্ডার পেট্রল হেলিকপ্টার মিউনিখের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তিন বন্দুকধারীর খোঁজে পুরো মিউনিখ শহর প্রায় অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাস, ট্রেন ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জার্মান পুলিশ পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার হুমকি পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া পুলিশের অভিযানের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে পুলিশ জানিয়েছে, শহরের অলিম্পিক পার্কে এখনও পুলিশের অভিযান চলছে। পুলিশ এখনও বন্দুকধারীর অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। তাই সাধারণ মানুষদের ঘরের ভেতরেই থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হামলার পরপরই দেখা গেছে আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলি করার আগে ওই বন্দুকধারী নিজেকে জার্মান ও সিস অসলেন্ডার নামে পরিচয় দেয়।

শপিং সেন্টারে হামলার পর এখন পর্যন্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দায় স্বীকারের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরটি ডট কম জানিয়েছে, হামলার পর আইএস সমর্থকরা টুইটারে উল্লাস প্রকাশ করছেন।

এর আগে সোমবার জার্মানির একটি ট্রেনে আফগান কিশোরের কুঠার হামলার পর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। এর মধ্যেই শপিং সেন্টারে এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জার্মানিতে কুঠার হামলাটি ছিল জিহাদি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রথম হামলা। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। হামলাটির দায় স্বীকার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। সূত্র: স্পেইজেল, ডয়চে ভেল।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন