আতঙ্কে পুরো জার্মানি এখনও ৩ বন্দুকধারীকে ধরতে পারেনি পুলিশ


❏ শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলের শহর মিউনিখের মুজাখ এলাকায় অলিম্পিয়া শপিং সেন্টারে হামলার ছয় ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও জড়িতরা চিহ্নিত হয়নি। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় এ হামলা শুরু করা তিন বন্দুকধারী এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ ।

তারা ঘাঁপটি মেরে আছে, না পালিয়ে গিয়েছে সে ব্যাপারে সন্দিহান পুলিশ। রাত ১০টার দিকে জার্মানির এলিট কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ‘জিএসজি-নাইন’ মিউনিখ পুলিশের সাথে অভিযানে যোগ দেয়। তারাও হামলাকারীদের অবস্থান আন্দাজ করতে পারছে না। এ ঘটনায় শুধু মিউনিখ নয়, পুরো জার্মানি জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

jar

খোদ জার্মান প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম গুক জানিয়েছেন, মিউনিখের এই হামলার ঘটনায় তিনি ‘আতঙ্কিত’। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘আমি সকল আক্রান্তের কথা ভাবছি এবং তাদের কথা, যারা এখন তাদের প্রিয়জনের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন।’

বিবৃতিতে জনগণের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জোয়াকিম আরো বলেন, ‘জরুরী সেবায় নিয়োজিতরা এই ভয়াবহ সন্ধ্যায়ও জনতাকে রক্ষা এবং তাদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে।’

এই হামলা নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার জার্মান পার্লামেন্টের সিকিউরিটি কাউন্সিলের জরুরী মিটিং আহবান বরা হয়েছে। দেশটির ডিফেন্স মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বিচার মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রী, উন্নয়ন মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এতে অংশ নেবেন বলে বিবিসি’র খবরে প্রকাশ।

এদিকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বা ছবি আপলোড করে তদন্ত সাহায্য করার জন্য বলেছে মিউনিখ পুলিশ। এর জন্য তারা একটি লিংক (edienupload-portal01.polizei.bayern.de) দিয়েছে। এর আগে তারা মেইনস্ট্রিম ও সোস্যাল মিডিয়ার অনলাইন লাইভে অভিযানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করে। পুলিশের অভিমত, ওগুলো শুধুমাত্র আক্রমণকারীদের সাহায্য করবে।

মিউনিখ হামলায় রাত পৌনে ১০টা অবধি মোট নয় জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন হামলাকারীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া রাত পৌনে বারোটার দিকে তারা জানিয়েছে, আরো ১০ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে তারা।

মিউনিখে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। যে কারণে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছে বহু মানুষ। অনেকের বাসায় আক্রান্তদের আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। আশ্রয়ের জন্য খোলা রাখা হয়েছে মসজিদসহ বিভিন্ন উপাসনালয়গুলো।চারিদিকে এক অস্বস্তিকর আতঙ্ক। শেষ খবর পাওয়া অবধি, হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন