প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জার্মানির শপিং সেন্টারে হামলা, আইএস সমর্থকদের উল্লাস (ভিডিওসহ)


❏ শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক, স্পট লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিউনিখের একটি শপিং সেন্টারে হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। পুলিশও কোনো সংগঠনকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ি করেনি। এ হামলায় সর্বশেষ অন্তত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ মনে করছে একজনের বেশি হামলাকারী হামলা চালিয়েছে। শহরের মুজাখ এলাকায় অলিম্পিয়া শপিং মলের চারপাশের এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। শহরের সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।jarmaniমিউনিখ পুলিশ মানুষজনকে ওই এলাকার ধারে-কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মিউনিখ পুলিশ বলছে, এই হামলার সঙ্গে কোনো ইসলামী জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবে এ ঘটনার পর সোস্যাল মিডিয়ায় আইএস সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

এক টুইটে বলা হয়, ‘ইসলামিক স্টেট ইউরোপে বিস্তৃত হচ্ছে।’

দুই প্রত্যক্ষদর্শী এন-টিভি টেলিভিশনকে বলেন, সান্তা ক্লজের পোশাকে এক ব্যক্তিকে হামলাস্থল থেকে জনতার সঙ্গে চলে যেতে দেখেছেন তারা। একজন বলেন, সোনালী চুলের ওই ব্যক্তির হাতে অস্ত্র ছিল না, তবে একটি স্যুটকেস ছিল।

অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে ম্যাকডোনাল্ডসের একটি শাখার বাইরে কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি বন্দুক উঁচিয়ে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়ছে। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

বিপণিবিতানের একটি দোকানের কর্মী হারুণ বাল্টা বলেন, আমরা এখনো মলের মধ্যে আটকে আছি। বাইরের কোনো খোঁজ-খবরও পাচ্ছি না। উদ্ধার পেতে আমরা পুলিশের অপেক্ষায় আছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিপণিবিতানের ভিতরে এবং কাছাকাছি দুটি রাস্তায় গুলিবর্ষণ করতে দেখেছেন তারা। হামলার পর মিউনিখের প্রধান রেলস্টেশন থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিআর টেলিভিশন জানিয়েছে, মিউনিখের উত্তরের অনেক মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং লোকজনকে সেগুলোতে থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ঠিক পাশেই এই বিপণিবিতান, যেখানে ১৯৭২ সালে অলিম্পিক গেমসের সময় ১১ ইসরায়েলি অ্যাথলেটকে জিম্মি করার পর হত্যা করেছিল।

জার্মানির ভুর্সবুর্গে শরণার্থী এক আফগান কিশোর ট্রেনের ভেতরে ছুরি ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে চার যাত্রীকে আহত করার এক সপ্তাহ পর এ শুক্রবারের হামলা হল।

হামলার আগে জার্মানির বিচারমন্ত্রী হাইকো মাস একটি পত্রিকাকে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে, জার্মানি এখনো হামলার টার্গেট হয়ে আছে।

গত ১৪ জুলাই বাতিল দিবসে ফ্রান্সের নিস শহরে একটি উৎসবে এক তিউনিসীয় নাগরিক দ্রুতগতির ট্রাক উঠিয়ে ৮৪ জনকে হত্যার পর জার্মানিতে পরপর দুটি হামলার ঘটনা ঘটল। নিসের ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস।

ভিডিও দেখুন এখানে

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন