• আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

`আমার মেয়ে তো পাগল, জঙ্গি হলে আমরা তার শাস্তি চাই’

১১:৪৫ পূর্বাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, ঢাকা, দেশের খবর

narsingdi-ruma

মোঃ হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: গুলশানের অভিজাত রেস্টুরেন্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নরসিংদীতে এক নারীকে আটক করার বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ রুমা বেগম নামে ওই নারীকে গোয়েন্দারা আটক করেছে জানালেও সরকারের কোনও সংস্থা তাকে ধরার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করছে না।

ওই নারীর পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে রুমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি এ বিষয়ে কিছু স্বীকার করছে না।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, ‘(ওই নারী) কাউকে আটক করা হয়েছে, এ কথা আমাদের কেউ বলেছে?’। গণমাধ্যমে তো এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে- এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু জানি না’।

আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরও রুমাকে আটকের বিষয়ে বলতে পারেননি। কাউকে আটক করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও শুক্রবার ঢাকা বা নরসিংদী আদালতে রুমাকে কাউকে উপস্থাপন করা হয়নি।

তবে নরসিংদীর শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘চরখুপি গ্রাম থেকে ঢাকার ডিবি পুলিশ রুমাকে ধরে সরাসরি ঢাকায় নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে আর কোন তথ্য নেই’।

হলি আর্টিজানে হামলাকারী পাঁচ জঙ্গিই কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন। তবে তাদের আরও বেশ কিছু সহায়তাকারী রেস্টুরেন্টটির বাইরে ছিলেন বলে কমান্ডো অভিযানের পর জানিয়েছিলেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। আর র‌্যাব রেস্টুরেন্টের বাইরের একটি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে যাতে চারজন ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা যায় যাদের একজন নারী।

artizan_120944ওই ভিডিও প্রকাশের তিন দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের চরখুপি গ্রাম থেকে রুমা বেগমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দাবি, ভিডিওতে যে চারজনকে দেখা গিয়েছিল তাদের একজন এই রুমা।

রুমার গ্রামের পাড়ি পলাশ উপজেলার খরকুটা গ্রামে। ওই এলাকাটি শিবপুর ও পলাশ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা এবং যে এলাকাটি থেকে তাকে ধরা হয়েছে সেটি রুমাদের বাড়ির পাশের।

রুমার ছবি এবং পরিচয় প্রকাশের পর এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ‘আটক’ রুমা বেগম মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই নারীর স্বজনরাও একই কথা জানিয়েছেন।

এই নারীর চাচাতো বোন পরিচয় দেয়া তরুণী (যার নামও রুমা) সাংবাদিকদের জানান, পাঁচ বছর আগে বিবাহ বিচ্ছেদের পর এই নারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। কিছুদিন ভালো থাকলে আবার কিছুদিন উদ্ভ্রান্ত আচরণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা ছাড়াও নিজের পোশাকও ছিড়ে ফেলেন। কখনো নিজের চুল পুড়িয়ে দেন। ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দাও একই কথা জানিয়েছেন।

রুমার বাবা শাহাবুদ্দিন বদু বলেন, ‘আমার মেয়ে তো পাগল। সে যদি জঙ্গি হয়, তাহলে কেবল বাবা না, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও তার উপযুক্ত শাস্তি চাই। কিন্তু আমার মেয়ে কই সেটাই তো জানি না’।

রুমার বোন সাবিনা বেগম স্বীকার করেছেন, গুলশান হামলার সময় তার বোন ওই এলাকায় ছিলেন। তার দাবি, রুমা তখন ফুটপাতে বসে চা খাচ্ছিলেন। সাবিনা বলেন, ‘আমার বোন জঙ্গি হলে তার শাস্তি আমরা চাই। সঠিক প্রমাণ না পাওয়া গেলে তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়’।

তবে মানসিক ভারসাম্যহীন রুমা হামলার সময় হলি আর্টিজানের পাশে ছিলেন-সে বিষয়ে কোনও কিছু জানা যায়নি স্বজনদের কাছ থেকে।

cyber ফ্রান্সে বড় সাইবার হামলার ঘোষণা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

selim ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০