• আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অবশেষে জাতীয়করন হলো রাণীনগর শের-এ-বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়

১২:৪৫ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই প্রতিনিধি: অবশেষে জাতীয়করণ হলো অবিভুক্ত বাংলার প্রধান মন্ত্রী শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক এর নামে প্রতিষ্ঠিত উত্তর বঙ্গের (তৎকালীন সময়ে) একমাত্র মহাবিদ্যালয় নওগাঁর রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়টি।

sre-a-bangla-collageবর্তমান সরকার অঙ্গিকার করেছিলেন যে, প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কম্বাইন (কো-এডুকেশন) কলেজ ও একটি স্কুল সরকারী করার জাতীয়করণ করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয়করন করা হলো রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়টি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ৩০ জুন ২০১৬ ইং তারিখে ৭এ/০৯/সি-২/২০১৩/৫৬৩৯(ক)/৫ নং স্মারক লিপিতে এই জাতীয়করেনর তালিকা প্রকাশ করেন। স্মারকে দেশের ১৯৯টি কলেজের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেখানে রাণীনগর শের-এ বাংলা (ডিগ্রী) মহাবিদ্যালয়ের ক্রমিক নং ১১৯। এই জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলো। তাই অত্র কলেজের ছাত্র/ছাত্রী, অবিভাবক, এলাকাবাসি ও সুধীমহল বর্তমান উন্নয়নমুখী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা, ১৯৭২ সালে নওগাঁ জেলার রাণীনগর থানায় উচ্চ শিক্ষার প্রথম ও মনীরিষীদের নামে উত্তরবঙ্গের একমাত্র কলেজ শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক স্মরণে উত্তরবঙ্গের কৃতি সন্তান আব্দুল জলিল (সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী) এর সভাপতিত্বে ও রাণীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন কে সদস্য সচিব/ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে কিছু বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই মহাবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার সময়ে টিনশেডের তৈরি কয়েকটি কক্ষ নিয়ে শিক্ষাদান করার যাত্রা শুরু হয় মহাবিদ্যালয়টির। পরবর্তিতে ১৯৮৫ সালে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ গঠিত হওয়ার পর তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কেসি মশিউর রহমান (বাচ্চু চৌধুরী), উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাদি, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরিদশর্ক শামসুল হক কোরায়েশী এর সহযোগীতায় কলেজটি শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলে ১৯৮৬ সালে এমপিও ভুক্ত হয়।

১৯৯৪ সালে এডিবির অর্থায়নে উচ্চ মাধ্যমিক প্রকল্পের অধিনে ত্রি-তল ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে নতুন চারতলা ভবনের কাজ চলমান। গত ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ হতে উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শাখায় কম্পিউটার সায়েন্স ও সেক্রেটারীয়েল সায়েন্স ট্রেড চালু হয় এবং এডিবি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকল্পের শর্ত থাকায় পরবর্তিতে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে শর্ত উত্তীর্ণে স্নাতক (পাশ), বিএ, বিএসএস কোর্স চালু হয়।

বর্তমানে অত্র মহাবিদ্যালয়ে ১ হাজার ৫৩ জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যায়নরত। শুধু শিক্ষাতেই নয় স্কাউটে গত ১৪ সনে মহাবিদ্যালয়টি ৪টি বিভাগে নওগাঁ জেলার মধ্যে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতি বছর এই মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভালো ফলাফল অর্জন করে দেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। এখানকার অনেক শিক্ষার্থীরা আজ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন।

উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আমার চরম সৌভাগ্যের বিষয় যে, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে উপজেলার এই প্রসিদ্ধ বিদ্যাপিঠকে জাতীয়করন করা হয়েছে তা দেখে যেতে পারলাম।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মফিজ উদ্দিন বলেন, ভাবতে ভালোই লাগছে যে, এই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার গরীব-অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাছে সরকারি কলেজে পড়ালেখা করতে পারবে। এই কলেজ জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে উপজেলা বাসী আরেক বার প্রমাণ পেলো যে, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। আমরা অচিরেই এই জাতীয়কন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান শিক্ষক মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, এটা ভাবতে খুব ভালো লাগছে যে, আমরা যে কলেজে পড়ালেখা করেছি সেই কলেজটি অনেক কাঠ-খড় পোড়ানোর পর বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকার জাতীয়করন করলেন। তাই সরকারের প্রতি রইলো অশেষ কৃতজ্ঞতা।

মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোফাখ্খর হোসেন পথিক সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে আজ আমাদের এই প্রাপ্তি। তাই মহাবিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ বর্তমান শিক্ষামুখি সরকারের প্রতি রইলো অকৃত্রিম ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।