দিনাজপুর-পার্বতীপুর সড়কটি দীর্ঘ ৩০ কিঃ মিঃ মরণ ফাঁদে পরিণত


❏ শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মোঃ রফিকুল ইসলাম, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দিনাজপুর-পার্বতীপুর সড়কটি দীর্ঘ ৩০ কিঃ মিঃ এলাকা বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে সড়কটির দুই ধারের মাটি সরে যাওয়ায় কারণে নিচু স্থানে পানি জমে থাকার কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব গর্তের কারণে সড়কটিতে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় বিভিন্ন যানবাহনকে সাইড দিতে গিয়ে রাস্তার ধারে উল্টে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে এই ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা।

soru-sorok

প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে দুই সহস্রাধিক ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস, পিকআপ ভ্যান, কার্ভাড ভ্যান, ট্রাঙ্কলরি, ইজিবাইক, মটর সাইকেল, নছিমন, করিমন, রিকশাভ্যান চলাচল করায় সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সড়কটি যাতায়াতের জন্য একেবারেই বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি সরু ও বেহাল দশা হওয়ার কারণে যে কোন মূর্হুতে আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।

উপজেলার ঘুঘুরাতলীতে অবস্থিত বেশ কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী জানান, রাস্তাটি সরু ও সাইড দেয়ার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সাইকেল, ভ্যান ও টেম্পুতে করে যাতায়াত করা বর্ষা মৌসুমে খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও গাড়ির চাকার মাধ্যমে ছিটকে আসা পানি দিয়ে পড়নের কাপড় ও ইউনিফর্ম নষ্ট হয়ে যায়।

চিরিরবন্দরের ব্যবসায়ী নেতা মোকারম হোসেন মুকুল, শ্রমিক নেতা আসলাম আলী,  ট্রাক ড্র্রাইভার আব্দুল মতিন ও আব্দুর রশিদ জানান, সড়কটি চওড়া ও সংস্কার করা অতীব জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা না হলে সড়কটিতে দুর্ঘটনা লেগেই থাকবে। মানুষ অকালে প্রাণ হারাবে এবং অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করতে হবে।

চিরিরবন্দর প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও বেলতলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এফ এম মোরশেদ-উল-আলম জানান, এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আপাতত ইটভাটার ইটের গুড়া দিয়ে রাস্তার পার্শ্বের গর্তগুলি ভরাট করে মোটামুটি দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, সদর এলাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ এ ব্যস্ত সড়কটি সংস্কারে জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ ইকবালুর রহিম এমপির নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

চিরিরবন্দরে নিখোঁজ হাফেজ সহ দুই জনের অনুসন্ধানে পুলিশ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার নিখোঁজ হাফেজ আনারুল হক সহ দুই জনের সন্ধানে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেতুঁলিয়া গ্রামের বাহারউদ্দিন শাহপাড়ার হবিবর রহমান ওরফে হবি চুড়ি-ফিতা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন এবং সংসার পরিচালনা করেন। তার রয়েছে ৩ ছেলে। বড় দুই ছেলে আতিকুল ও আতারুল রিকশা-ভ্যান চালান। তাঁর তৃতীয় ছেলে হাফেজ আনারুল হক (২২) তেঁতুলিয়ার ভূষিরবন্দর হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে কোরআনের হাফেজ হন। এরপর খানসামা উপজেলার পাকেরহাটে জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে লজিং শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হন। গত ৩ বছর পূর্বে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে বেরিয়ে যায়। এর কিছুদিন পূর্বে সে বাড়িতে এসে আবারো গোপনে চলে যায়।

নিখোঁজ আনারুলের পিতা হবিবর রহমান জানান, ৪/৫ বছর পূর্বে হাফেজ হওয়ার পর সে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় এবং গত রমজানের আগের রমজান মাসে ফিরে আসে। সে বাড়িতে ক’দিন থাকার পর আবারো পালিয়ে যায়। এ নিয়ে থানায় কোন সাধারণ ডাইরী করা হয়নি।

প্রতিবেশি আলমগীর হোসেন ও নশরতপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জান্নাতুন ফেরদৌসী জানান, আনারুল কোরআনের একজন হাফেজ। সে বাড়িতে এসে ১৪/১৫ দিন অবস্থান করে অনেকটা নিরবে ও গোপনে চলাচল করেছে। তারা আরো জানান, হবির পরিবার একেবারেই অতি সাধারণ ও সাদা-মাটা জীবন যাপন করেন। তারা সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। তারা কোন নাশকতা কাজের সাথে জড়িত নন। কিন্তু হাফেজ আনারুল কেন এবং কি কারণে নিখোঁজ রয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়।

থানা পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নান্দেড়াই গ্রামের মণিশাপাড়ার ওর্য়ার্কাস্পার্টির নেতা ওয়াজেদ আলী ও আওয়ামী লীগ ওয়ার্ড নেত্রীর ছেলে ক’টি সন্ত্রাস, নাশকতা, ভোট কেন্দ্র পোঁড়ানো এবং পুলিশকে হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামী রাশেদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলেও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তার ও তার পরিবারের উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনিছুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নিখোঁজের সাথে জঙ্গি কার্যক্রম, নাশকতা বা অন্য কর্মকান্ডের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও অন্য নিখোঁজের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। তিনি আরও জানান, উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মতবিনিময় করে শিক্ষক-শির্ক্ষাথীদের সহযোগিতায় পাড়ার নিখোঁজ ছেলে-মেয়েদের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য, আনসার-ভিডিপি, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, ইমাম সহ গোপন সোর্সদের মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন