শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাষন্ড মায়ের আত্মহত্যা

৮:৫৮ অপরাহ্ন | শনিবার, জুলাই ২৩, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, দেশের খবর, বরিশাল

134486_115

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরে শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাষন্ড মা আত্মহত্যা করেছে। আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে রাজাপুরের আঙ্গারিয়া গ্রামের মিলবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে দু’সন্তানকে ঝুলিয়ে মা শিউলী বেগম(৩০) ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় বড় মেয়ে চাঁদনী আক্তার (৬) ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও ছোট ছেলে ইউসুফ (৪) মারা গেছে। শিউলী বেগম আঙ্গারিয়া গ্রামের মিলবাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। দেলোয়ার ঢাকায় বাসচালক হিসেবে কর্মরত।

দেলোয়ারের ভাইয়ের স্ত্রী শেফালি বেগম জানান, শনিবার বিকেলে শিউলী বেগমের সঙ্গে তার স্বামীর ফোনে ঝগড়া হয়। এর পর ঘরের দরজা বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে শিউলী বেগম।

ভাঙচুরের শব্দ থেমে যাওয়ার পর শিউলীর বড় মেয়ে আঙ্গারিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদনী ‘বাঁচাও বাঁচাও’বলে চিৎকার করে। এ সময় প্রতিবেশীরা এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে খুলতে ব্যর্থ হয়ে টিনশেড বিল্ডিংয়ের চালের টিন খুলে দেখতে পান ঘরের ফ্যানের সঙ্গে দু’সন্তানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ওই একই ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে শিউলী নিজেও ফাঁস দিয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন চাঁদনীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

বেঁচে যাওয়া চাঁদনী আক্তার জানায়, দুপুরের পর বাবার সঙ্গে তার মায়ের ফোনে ঝগড়া হয় এবং ফোনটি ভেঙে ঘরের বাইরে ফেলে দেয়। পরে মা রাগ করে ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে তাকে (চাঁদনীকে) ধরে জোর করে একটি টুলের ওপর দাঁড় করিয়ে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

পরে ছোট ভাই ইউসুফের গলায়ও ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে মা নিজেও ওই ফ্যানেই ফাঁস লাগিয়ে পা দিয়ে টুল ফেলে দেয়। তখন তার গলার ফাঁস আটকে যেতে লাগলে মাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার শুরু করে।

রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে নিজঘরের ফ্যানে দুই সন্তান চাঁদনী ও ইউসুফকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শিউলী বেগম নিজেও ওই ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।