• আজ বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ২১ অক্টোবর, ২০২১ ৷

জেলে থাকা জঙ্গিদের পরিবারে দুবাই থেকে হুজি শীর্ষ নেতা টাকা পাঠায় প্রতি মাসে


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর :  জেলে থাকা জঙ্গিদের পরিবারে দুবাই থেকে হুজি শীর্ষ নেতা টাকা পাঠায় প্রতি মাসে  আর এই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দেয়ায় আপাতত তার প্রধান দায়িত্ব এমনটাই জানিয়েছেন  গ্রেফতারের পর পুলিশি রিমান্ডে থাকা মাওলানা নাজিমউদ্দিন ।

 হরকাতুল জিহাদ আল ইসলাম বাংলাদেশের (হুজি) এক শীর্ষ নেতা থাকে দুবাইয়ে। প্রতিমাসেই সে টাকা পাঠায় দেশে। তবে তা নিজের পরিবারের  জন্য নয়। টাকা পাঠায় সংগঠনের সেসব নেতাকর্মীদের জন্য, যারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জেলে আছে, বা পুলিশের ভয়ে পলাতক রয়েছে। মাওলানা নাজিমউদ্দিন এই টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দেয় ৫১ নেতাকর্মীর পরিবারের মধ্যে। এটাই ছিল ।

huji

শুক্রবার রাতে পুরনো ঢাকার কোতোয়ালি এলাকা থেকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয় মাওলানা নাজিমউদ্দিনকে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলার পর বৃহস্পতিবার চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মাওলানা নাজিমউদ্দিনের অপর দুই সহযোগী হলো প্রকৌশলী সাইদুজ্জামান ও আনাস।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি দক্ষিণ) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘দুবাই প্রবাসী হুজির এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে অর্থ লেনদেনের অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে মাওলানা নাজিমউদ্দিনসহ তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’ ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আনতো। কেউ যাতে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য হুন্ডির একটি মাধ্যম দুই-থেকে তিনবারের বেশি ব্যবহার করতো না।’
৯০ এর দশকে আফগান ফেরত মুজাহিদরা হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি (হুজি) নামে একটি সংগঠন করে। ১৯৯৯ সালে কবি শামসুর রেহমান হত্যাচেষ্টা, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা, ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বোমা হামলা ও ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলাসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে হুজির বিরুদ্ধে। উগ্র জঙ্গিবাদ কার্যক্রম ও মতবাদ প্রচারের অভিযোগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এই সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগে পরে বিভিন্ন সময়ে হুজির শীর্ষ নেতারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে গোপনে ঢিমেতালে সংগঠনটির কার্যক্রম চলছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, হুজির আগের মতো আর সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা নেই। তাদের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পর জেলে পাঠানো হয়েছে। শীর্ষ জঙ্গি নেতাদের একজন গ্রেফতার হলে আরেকজন দলকে সংগঠিত করার দায়িত্ব পেয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মাওলানা নাজিমউদ্দিন ঢাকা উত্তরের প্রধান হিসেবে হুজিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, হুজির যেসব নেতাকর্মী কারাগারে আটক রয়েছে, বা পলাতক জীবন-যাপন করছে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে সংগঠন থেকে সংসার খরচের জন্য সাংগঠনিকভাবে অর্থ দেওয়া হয়। দুবাই প্রবাসী এক হুজি নেতা ৫১টি পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে। সে মাওলানা নাজিমউদ্দিনের মাধ্যমে এই টাকা দেশে পাঠাতো। নাজিমউদ্দিন হুজি নেতা কর্মীদের বাসায়  চার হাজার থেকে বার হাজার টাকা করে মাসে মাসে দিয়ে আসতো। গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে তারা মাওলানা নাজিমউদ্দিনকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাকে গ্রেফতার করেছেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, নাজিমউদ্দিন মিরপুরের আকবর কমপ্লেক্সের একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। থাকতো মাদ্রাসার পাশেরই এক বাসায়। তার দুই সহযোগীর একজন প্রকৌশলী সাইদুজ্জামান কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি সম্পন্ন করেছে। সে মাওলানা নাজিমউদ্দিনের মাধ্যমে হুজির দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিল। মাদ্রাসা পড়ুয়া আনাসও হুজির কার্যক্রমে অংশ নেয় মাওলানা নাজিমউদ্দিনের মাধ্যমে। জিজ্ঞাসাবাদে আনাস জানিয়েছে, তার ওপর দায়িত্ব ছিলো ইসলামী আইন কায়েম ও জিহাদের ডাক সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা। বিনিময়ে তাকে কেরাণীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল নাজিমউদ্দিন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন,গোপনে হুজি সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। এদের সহযোগীদের অনেকের বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন