ঘোল খাওয়া স্বাস্থ্যর জন্য ভালো


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ লাইফস্টাইল

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দারুণ গরমে ক্লান্ত। রোদের তাপে মাথা যন্ত্রণা। দই দিয়ে বানানো ঘোল তেষ্টা মিটিয়ে আমাদের শরীর ঠাণ্ডা ও ক্লান্ত ভাব দূর করতে দারুণ কাজ করে। ভিটামিন, খনিজে পূর্ণ ঘোলের গুণও অনেক। খুব কম ফ্যাট থাকে বলে হার্টের জন্য ভালো।

ghol

ঘোলের উপাদান প্রোটিন রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। পরিপাকে সমস্যা ও অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় ঘোল। আলফা হাইড্রক্সি এসিড থাকে বলে ঘোল ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে। শরীরকে ডিহাইড্রেশন হওয়া থেকে বাঁচায়। শরীর ঠাণ্ডা রাখে। প্রতিদিন একগ্লাস করে ঘোল খেলে শরীরের  সমস্যা নিয়ে আর মাথা ঘামাতে হবে না। জেনে নিন ঘোলের গুণাগুণঃ 

১. বদহজম রুখে দেয়

অ্যাসিডিটি-র সমস্যায় জর্জরিত হলে ঘোলের মতো ঔষুধ নেই। ভরপেট খাওয়ার পর একগ্লাস ঘোল বদহজমের সমস্যা জটজলদি মিটিয়ে দেয়। বদহজমের ফলে শারীরিক কষ্টও লাঘব করে নিমেষে।

২. পেট ঠান্ডা করে

মশলাদার খাবার খাওয়ার পর পেট ব্যথা বা শরীর হাঁসফাঁস করলে রেহাই দিতে পারে একমাত্র ঘোল। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ঝাল-মশলা খাওয়ার জেরে যে পেট জ্বালা করলে, ঘোলে থাকা প্রোটিন সেই মশলাকে হজম করাতে সাহায্য করে। ফলে শরীরও চাঙ্গা হয়ে যায়।

৩. হজম ক্ষমতা বাড়ায়

ঘোলে থাকা মশলা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে বদহজমের জেরে বারবার উদগার ওঠা থামিয়ে দেয়। অ্যাসিড কাটিয়ে পেট সুস্থ করে দেয়। রোজ খেতে পারলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়।

৪. ভরপুর ক্যালসিয়াম

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। তাহলে হাড় ও দাঁতের সমস্যা হয় না। এক কাপ দুধে ৩০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এক কাপ দই-তে থাকে ৪২০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। কিন্তু এক কাপ ঘোলে থাকে ৩৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। অর্থাত্‍‌ বড় গ্লাসে একগ্লাস ঘোল খেতে পারলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না।

৫. রোগা হতে সাহায্য করে

ঘোল হজমশক্তি বাড়ায়। ফলে বাড়তি ফ্যাট শরীরে জমতে দেয় না। রোজ অনেকটা করে ঘোল খেলে ফ্যাট ধীরে ধীরে কমতে থাকে। নিজেকে চাঙ্গাও লাগে।

৬. পুষ্টিতে ঠাসা

ঘোল খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয় না একই সঙ্গে এতে প্রচুর পুষ্টিকর উপাদানও থাকে। ঘোলে প্রচুর পরিমাণে পটশিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে। একাধিক মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্স সমৃদ্ধ ঘোল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ঘুমও ভালো হয়।

৭. কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার ও ক্যান্সারের যম

ঘোলে থাকে বায়োঅ্যাক্টিভ প্রোটিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ঘোলে থাকা নানা অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ব্লাড প্রেসার কমায়। সঙ্গে ক্যান্সারকেও রুখে দেয়।

৮. ডিহাইড্রেশন হয় না

গরম কালে সঙ্গে এক বোতল ঘোল রাখতে পারলে শরীর শুষ্ক হয় না। ক্লান্তি দূর করে দেয়। কিংবা খুব গরমে ঘর্মাক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এক গ্লাস ঠান্ডা ঘোল খুব উপকারী।

৯. দুধে অ্যালার্জি

দুধে অ্যালার্জি বা ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্ট অনেকেই। দুধ খেলেই অ্যাসিডিটি হয়। সেই সব ব্যক্তিদের জন্য ঘোলের বিকল্প নেই। ঘোলের স্বাদে তাঁদের কোনও অসুবিধা হয় না।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন