সংবাদ শিরোনাম
আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী | এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানোর সিদ্ধান্তে সরকার অটল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী | ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা সমগ্র মানব জাতির জন্য অনুসরণীয়’- রাষ্ট্রপতি | দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মঙ্গল কামনা প্রধানমন্ত্রীর | ভুল স্বীকার করে সেই নোটিশ প্রত্যাহার জনস্বাস্থ্য পরিচালকের | ‘জাতি বিনির্মাণে মানুষের মনন তৈরিতে গণমাধ্যম অনন্য’- তথ্যমন্ত্রী | শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাসস্থানে থাকার নির্দেশ | রংপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: এএসআইয়ের রিমান্ড আবেদনের শুনানি ৪ নভেম্বর | সিরাজগঞ্জে খাস জমিতে রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ | পর্দার নির্দেশনা দেয়া জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালককে শোকজ |
  • আজ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

তিস্তা বইছে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপরে

৪:৪৩ অপরাহ্ন | রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে তিস্তা নদীর পানি আবারো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ রবিবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০ মিটার)।

tister-pani

বিকেল ৩ টায় কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিস্তার পানি প্রবাহ পেয়েছে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার উপরে। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে টানা বর্ষন অব্যাহত থাকায় তিস্তার উথাল পাথাল ঢেউ আর শোঁ শোঁ শব্দ তিস্তাপাড়কে কাঁপিয়ে তুলছে। শনিবার রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা ও লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তার চর ও চর গ্রামে বসবাসরত মানুষজনকে নিরাপদে সরে নেয় জনপ্রতিনিধিরা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরন কেন্দ্র সুত্র জানায়, গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ১৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ১২ ঘন্টার ব্যবধানে সন্ধ্যা ৬টায় তা বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপরে চলে আসে। রাত ৯টায় সেটি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সুত্রমতে গত দুইদিন ধরে ভারতের গজল ডোবায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ধারনা করা হচ্ছে উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও গজলডোবার জলকপাট খুলে দেয়ায় তিস্তার প্রবাহ দুর্বার গতিতে বাংলাদেশে ধেয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান। তিনি জানান, কি পরিমান উজানের ঢল আসছে তা মনিটরিং করা হচ্ছে। সেই সাথে তিস্তা ব্যারাজ ও ফ্লাড ফিউজ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আজ রবিবার সন্ধায় তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভারতের জলপাইগুড়ি, কুচবিহার এলাকার বাংলাদেশ অংশে প্রবেশদার মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তা অববহিকায় রেড এ্যালার্ট জারী করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। শনিবার সকাল হতে আজ রবিবার বিকেল পয্যন্ত সরকারীভাবে বনার্তদের মাঝে ৩০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শনিবার নীলফামারী জেলা ও ডিমলা উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ হতে ২ হাজার পরিবারের মাঝে দুই বেলা (খিচুরী) খাওয়ানো হয়েছে। ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান ৫০ টি পরিবারের মাঝে ১০ কেজি চাল ১ কেজি ডাল, ১ কেজি আলু বিতরন করেন।

এছাড়া শনিবার ৩৭৬টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বাঁধে ঠাই নেয়া পরিবার গুলি দূর্বিসহ জীবন যাপন করছে। তারা চাতক পাখির মতো ত্রানের আশায় রাস্তার পানে চেয়ে আছে। কখন কে নিয়ে আসবে ত্রানের গাড়ী।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ও ভেন্ডাবাড়ী গ্রামে ৬শ পরিবারের বসতভিটা হাটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। টেপাখঢ়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহীন বলেন, টাবুর চর, জিঞ্জির পাড়া, একতার চর সহ আশেপাশের ১০টি গ্রামের সহ¯্রাধিক পরিবারের বসতভিটা কোমর পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সরকারীভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো বাঁধে আশ্রয় নিলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানায়, উপজেলার তিস্তা নদীর সংলগ্ন ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর সার্বিক খোঁজ খবর জানার জন্য তথ্য কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।