এবার বিলুপ্ত হচ্ছে তুর্কি প্রেসিডেন্টের গার্ড বাহিনী


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

news_picture_35032_gad1 (1)


আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এবার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড বাহিনী। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এক টেলিভিশন চ্যানেলে জানিয়েছেন, এই বাহিনীর আর কোনও প্রয়োজন নেই।

শনিবার (২৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম এ হাবের টেলিভিশনকে জানান, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের প্রায় ৩০০ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষ এই বাহিনীটিকে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইলদিরিম বলেন, ‘এখন আর কোনও প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ড থাকছে না। এখন আর এর কোনও প্রয়োজন নেই।’

প্রেসিডেন্সিয়াল গার্ডের সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এর মধ্যে ২৮৩ জনকে অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার, বরখাস্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট। অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ব্যাপক ধরপাকড় শুরুর পর সেনাবাহিনী, বিচারবিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগ এবং সংবাদমাধ্যম এই গ্রেফতার-বরখাস্তের আওতায় এসেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অন্তত ৩৭ হাজার ৫০০ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেফতারের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১২০ জেনারেলসহ সাত হাজার সেনা সদস্য। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া আরও চার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার স্কুল, কলেজ, দাতব্য সংস্থা, শ্রমিক সংগঠন, ক্লিনিক, হাসপাতালসহ দুই হাজার ৩৪১টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছেন এরদোয়ান।

তুরস্কে তিন মাসের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারি থাকায়, এখন কোনও ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই ৩০ দিন পর্যন্ত আটক রাখা যাবে। এই মেয়াদ অনুমতিক্রমে আটকাদেশ আরও বাড়ানোও যেতে পারে।

এদিকে, শনিবার হালিস হানসিকে গ্রেফতার করা হয়। তুর্কি কর্তৃপক্ষ তাকে গুলেনের ‘প্রধান সহযোগী’ বলে দাবি করে জানিয়েছে, অভ্যুত্থান চেষ্টার দুই দিন আগেই তিনি তুরস্কে প্রবেশ করেছিলেন।

এর আগে শনিবার সকালের দিকে তুরস্কের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর এরজুরুম থেকে গ্রেফতার করা হয় গুলেনের ভাতিজা মুহাম্মেদ সাইত গুলেনকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানী আঙ্কারায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের সদস্যপদ থাকার অভিযোগও আনা হতে পারে। ২০১০ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আনা হয় সাইত গুলেনের বিরুদ্ধে। অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে এই প্রথম গুলেনের কোনও আত্মীয়কে গ্রেফতার করা হলো।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আরও বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে গুলেনের অপর এক ভাতিজাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফেতুল্লাহ গুলেনের শুরু করা আন্দোলনের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, এমন স্কুল পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়।

তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান দাবি করে আসছিলেন যে, ফেতুল্লাহ গুলেনই এই অভ্যুত্থান চেষ্টার মূল হোতা।

গুলেন ‘হিজমেত মুভমেন্ট’ নামের একটি জনপ্রিয় আন্দোলনের প্রধান তাত্ত্বিক নেতা। শনিবার এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আমার ওপর যে অভিযোগ করেছে, আমি তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না।’ তিনি তুরস্কের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য এরদোয়ানকেই দায়ী করেন। সাংবাদিকদের গুলেন বলেন, ‘এই সম্ভাবনা রয়ে যায় যে, এটি সম্ভবত একটি সাজানো ক্যু। এরদোয়ানের একেপি পার্টিই তা আয়োজন করেছে। আর এর মধ্য দিয়ে তারা গুলেনপন্থী এবং সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করার সুযোগ পাবে।’

উল্লেখ্য, ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে’ সশস্ত্র বাহিনী তুরস্কের ক্ষমতা দখল করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় পড়ে শোনানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এখন ‘শান্তি পরিষদ’দেশ চালাবে এবং কারফিউ ও সামরিক আইন জারি থাকবে। একই সঙ্গে তুরস্কের বিদ্যমান বৈদেশিক সব সম্পর্ক বহাল থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা প্রাধান্য পাবে। কারফিউর বিরোধিতা করে এরদোয়ানের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।