৬ বছরের শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করলো সৎ মা, পুলিশের হাতে আটক


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

নওগাঁ প্রতিনিধি: জেলার মান্দা উপজেলায় আরাফাত হোসেন (৬) নামে এক শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির সৎ মা সাথী আক্তারকে (২২) আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আরাফাত ওই গ্রামের মকলেছার রহমানের ছেলে।murder child

স্বজনরা জানায়, শিশুটির নিজের মা আঙ্গুরী বিবিকে প্রায় আড়াই বছর আগে তালাক দেন মোকলেছার রহমান। তার বাবা প্রায় এক বছর আগে শ্রীরামপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের মেয়ে সাথী আক্তারকে বিয়ে করেন। সৎ মায়ের সংসারেই শিশু আরাফাত বেড়ে উঠছিল। বিয়ের পর থেকেই সৎ ছেলেকে ভাল নজরে দেখত না এবং কারণে-অকারণে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। রোববার দুপুরে আরাফাতকে ক্ষীর (পায়েস) খেতে দেওয়া হয়েছিল।

স্বজনদের অভিযোগ, সেই ক্ষীরের সঙ্গে বিষ মাখিয়ে আরাফাতকে হত্যা করা হয়। পরে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আরাফাত মারা গেছে বলে ঘটনা সাজাতে চেয়েছিল সাথী আখতার।

নিহতের নানা শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাথী ওই সংসারে আসার পর থেকেই তার নাতি আরাফাতের সঙ্গে খারাপ আচরণ করত। বিভিন্ন সময় তাকে গলা টিপে বা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিত। এসব কথা আরাফাত আমাদেরকে বলেছে। তাকে সৎ মা বিষ খাইয়ে হত্যার পর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নিহত আরাফাতের দাদি জাহেরা বিবি জানান, রোববার সকালে নাতি আরাফাতকে সুস্থ অবস্থায় রেখে তিনি পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে রোববার দুপুরে তিনি আরাফাতের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পারেন।

নিহত আরাফাতের বাবা মকলেছার রহমান স্থানীয় সতীহাট বাজারের সাহাবুদ্দীনের ফার্নিচারের কারখানায় কাজ করছিলেন।

এই ঘটনার সময় আরাফাতের বাবা মকলেছার রহমান স্থানীয় সতীহাট বাজারের সাহাবুদ্দীনের ফার্নিচারের কারখানায় কাজ করছিলেন।

এব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, শিশুটিকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাথী আক্তার গ্যাস লাইট বিস্ফোরণে শিশুটি মারা গেছে বলে দাবি করছেন। কিন্তু মৃতের শরীরের খুব সামান্য অংশ পুড়েছে। দুই পা এবং পেটের কিছু অংশ পুড়েছে। এই পুড়ায় শিশুটি মারা যাওয়ার কথা নয়। হয়তো তাকে আগেই হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নিহত আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন