বরগুনার বাঁশবুনিয়া খালের সেতু ভেঙ্গে পানিতে, ছয় গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে


❏ রবিবার, জুলাই ২৪, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এম এ সাইদ খোকন, বরগুনা প্রতিনিধি- বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের বাশ বুনিয়া খালের সেতুটি কয়েক দিন পূর্বে ধ্বসে খালের পানিতে পড়ে যায়। সেতু ধ্বসের ফলে ওই এলাকার ৬টি গ্রামের মানুষ এবং ২টি বিদ্যালয়েল শত শত শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ চরমে পৌচ্ছেছে। বর্তমানে পাড়াপারের জন্য ছোট একটি ডিঙ্গী নৌকাই এখন তাদের ভরসা।indexআমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ৪০ লাখ টাকা ব্যায় করে হলদিয়া ইউনিয়নের বাঁশ বুনিয়া খালে একটি লোহার সেতু নির্মান করা হয়। সেতু দিয়ে জগৎ চাঁদ, মধ্য টেপুরা, উত্তর টেপুরা, দক্ষিণ টেপুরা, পূর্ব টেপুরা ও দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আমতলী উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে আসছে।

এছাড়া এই সেতুর পশ্চিম পারে রয়েছে জেবি সেনের হাট সরকারী প্রাথিমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই সেতু পার হয়ে পূর্ব পার থেকে দুটি বিদ্যালয়ে প্রায় একশ থেকে দেড়শ শিক্ষার্থী প্রতিদিন আসা যাওয়া করে। কিন্তু আকস্মিক ভাবে রোয়ানুর প্রভাবে গত ২১ মে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মুশল ধারে বৃষ্টির সময় কয়েক জন যাত্রী সহ সেতুটির মাঝ বরাবর ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের অংশ ধ্বসে খালের পানিতে পরে যায়। এসময় সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যাত্রী দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাসিম ফকির, সোহেল মোল্লা ও জাহিদুল মৃধা খালে পরে গুরুতর আহত হন।

এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের ডাক চিৎকার শুনে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করান। সেতুটি ধ্বসে পড়ায় উল্লেখিত গ্রাম সহ দুটি বিদ্যালয়ের ছোট ছোট কোমল মতি শিশুদের পারাপারে মহা ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এলাকা বাসী নিরুপায় হয়ে তাদের চলাচল ঠিক রাখার জন্য বর্তমানে সেতুর পাশ দিয়ে একটি তিন তক্তার ডিঙ্গী নৌকায় খেয়া পারা পার হিসেবে চালু করেছেন।

ছোট নৌকার খেয়া পারাপার হতে গিয়ে অনেক নারী পুরুষ ও শিশুদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভাটার সময় খেয়া পার হতে গিয়ে খালের কাঁদা পানিতে মানুষজন একাকার হয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে কাঁদাপানি ভেঙ্গে খাল পার হতে হয় তাদেরকে। অনেক সময় কাঁদায় জামা কাপর নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে এনিয়ে একদিকে যাতায়ত করতে হয়। জগৎচাঁদ গ্রামের ষাটোর্ধ আছিয়া বেগম বলেন, বাবা মোরা বুড়া মানুষ এই রহম ভাবে ডোঙ্গায় কইরা খাল পার অই ক্যামনে। এর চেয়ে মইরা যাওয়া ভাল।

জেবি শেনের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিশ কান্তি হালদার জানান, খেয়া পারা পার হতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ৩-৪ বার নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। নৌকা ডুবির ফলে পঞ্চম শ্রেণির লামিয়া, দ্বিতীয় শেণির নাসির, চতুর্থ শেণির দিশারী ও শিশু শেণির ইমরান নামে চার শিশু পানিতে ডুবে মারাত্মক ভাবে আহত হন। তারা এখন নৌকার কথা শুনলেই ভয়ে আতকে উঠেন।

এছাড়া নৌকাডুবির ফলে তাদের মূল্যবান বই খাতা সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে যায়। দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবিএম ছোবাহান বলেন, তেুর অভাবে খেয়া নৌকায় বিদ্যালয়ের শিশুরা পারপার হতে গিয়ে কাঁদায় জামা কাপর নষ্ট করে ফেলেন এ নিয়ে সারাদিন তাদের ক্লাশ করতে হয়ে এতে তাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্ট হয়ে যায় ফলে লেখা পড়ায় মন বসে না। যতদ্রুত সম্ভব বিদ্যালয়ের শিশুদের কথা বিবেচনা করে সেতুটি নির্মান করা প্রয়োজন। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধা জানান, এলাকাবাসীর দু:খ দুর্দশা লাঘবের জন্য সেতুটি নির্মানের জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো: নজরুল ইসলাম জানান, সেতুটি নির্মানের জন্য বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে। বারাদ্ধ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন