শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ডুবোচর স্রোতের সাথে ধেয়ে আসছে অসংখ্য পলি: ফেরী চলাচলে অচলাবস্থা


❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মোঃ রুবেল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: তীব্র স্রোতের কারণে শিমুলিয়া কাওড়াকান্দি নৌরুটের এখনো ফেরী চলাচলে অচলাবস্থা কাটেনি। আজ সোমবার বিকেল ৬টা পর্যন্ত এ নিয়ে ৪ দিন অতিবাহিত হলেও শিমুলিয়া নৌরুটে ডাম্ব (টানা) ও মিডিয়াম ফেরী চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। বর্তমানে এ রুটের ১৮টি ফেরীর মধ্যে বন্ধ রয়েছে মোট ৯টি ফেরী। টানা ফেরীর টাগ আইটিগুলো স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না।

fari

তাই ফেরী কর্তৃপক্ষ শনিবার রাত থেকে ৭টি ফ্লাট ফেরী চলাচল পুরোপুরিভাবে বন্ধ রাখা হলেও আজ সোমবার নতুন করে ৩টি ডাম্ব ফেরী চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও ফেরী ফরিদপুরও দিনের বেলায় চলতে সক্ষম হলেও রাতে এ ফেরীটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। আজ সোমবার দিনের বেলায় এ নৌরুটে মোট ১৮টি ফেরীর মধ্যে অতিরিক্ত সময় নিয়ে ৪টি রো রো, ৪টি কে টাইপ, ৩টি ডাম্ব ও একটি মিডিয়াম মোট ১২টি ফেরী পদ্মায় সার্বক্ষণিক সচল ছিল। এদিকে ফেরী চলাচলে বিঘ্নিত হওয়ার কারণে বিকেল শিমুলিয়া ঘাটে বেড়েই চলেছে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি। এর আগে গত দুই দিন সকাল থেকে শিমুলিয়া ঘাটে ফেরী পারপারের অপেক্ষায় রয়েছে আড়াই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক। এদিকে গত কয়েকদিন থেকে এ অচলাবস্থার কারণে যাত্রী দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে প্রতিদিনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী যান পারাপার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে বিকেল ৬টার দিকে ট্রাক পারপার শুরু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অতি সম্প্রতি চলতি ভরা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে মাঝপদ্মায় স্রোত বিরাজ করতে থাকে। সে সময় শিমুলিয়া ঘাটের অদূরে মূলপদ্মায় বড় বড় ঢেউয়ের সাথে সাথে স্রোতের তীব্রতা বেশী করে দেখা দিলে নৌরুটে ¯্রােতের সাথে ধেয়ে আসতে থাকে অসংখ্য পলি। শিমুলিয়া চরজানাজাত নৌরুটের শিমুলিয়া থেকে ১ নটিক্যাল মাইল অদূরে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টের মুখেই ঘূর্ণায়মান পানির তীব্র স্রোতের তোড়ে ফেরী চলছে খুবই ঝুঁকি নিয়ে। এতে করে এ পয়েন্টে সামান্য এ দূরত্ব অতিক্রম করতে রো রো ফেরীর ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। অন্যদিকে কোন রকমে স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে ফ্ল্যাট (ডাম্পু) ফেরী চলাচল করলেও এ ফেরীর ক্ষেত্রে ১ থেকে দেড় ঘন্টা সময় লেগে যাচ্ছে। অন্যদিকে টার্নিংয়ের মুখে ঘূর্ণায়মাণ স্রোতে পলি জমে জমে একটি ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ার উপক্রম হলেও এটি স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

মাওয়া বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) খন্দকার খালিদ নেওয়াজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, অচলাবস্থার সামান্য একটু উন্নতি হয়েছে। কেননা নতুন করে বন্ধ থাকা আরো ৩টি ডাম্ব ফেরী গতকাল চলাচল করতে সক্ষম হয়েছে। এ নৌরুটে ১৮টি ফেরীর মধ্যে দিনে চলেছে ৪টি রো রো, ৪টি কে টাইপ, একটি মিডিয়াম ও ৩টি ডাম্ব ফেরীসহ মোট ১২টি ফেরী। তবে রাতের বেলায় ৭টি ডাম্ব ও একটি মিডিয়াম ফেরী ফরিদপুর নৌরুটে চলাচল বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে তিনি আরো জানান।