পুলিশের তালিকাভুক্ত নিখোঁজ সেই মুন্না স্ত্রীসহ বাড়িতে হাজির


❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

যশোর প্রতিনিধি- অবশেষে আজ সোমবার ভোরে স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়সহ বাসায় ফিরলেন কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না। তাকে যশোর পুলিশ জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত বলে দাবি করছে। বর্তমানে মুন্না পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।munnaসম্প্রতি যশোর পুলিশ জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত যে পাঁচজনের ছবি ও নাম দিয়ে পোস্টার বের করে, সেখানেও মুন্নার ছবি ও নাম রয়েছে। মুন্না যশোর শহরের শঙ্করপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার চা-দোকানি আবদুস সোবহানের ছেলে। বছর তিনেক আগে তিনি বাড়ি ছাড়েন।

বাড়িতে ফেরার পর মুন্না দাবি করেন, তিনি জঙ্গি নন। যশোর এসে শুনছেন পুলিশ তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য নাম-ছবিসহ পোস্টার ছেপেছে। যশোর পুলিশের ছাপানো জঙ্গি তালিকাসম্বলিত পোস্টারে নিজের নাম ও ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্না।

মুন্না বলেন, ‘মায়ের ওপর রাগ করে বাড়ি ছেড়েছিলাম। তিন বছর ঢাকায় ছিলাম। একটি ডেকোরেটরের দোকানে ও প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করি। বিয়েও করেছি, কাজ করেই খাই। কোনো ধরনের জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

মুন্নার বাবা সোবহান বলেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলায় জুয়ায় জড়িয়ে পড়ায় মায়ের বকুনি খেয়ে মুন্না বাড়ি ছাড়ে। পরে এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। কোতোয়ালি থানার একজন দারোগা এলাকায় তদন্তে আসেন। তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন যে মুন্না জঙ্গি না।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু থানার এক কর্তা সরকারদলীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির কথামতো তাকে জঙ্গি হিসেবে সাব্যস্ত করেন। এরপর আমার ছেলেকে জঙ্গি বলতে শুরু করে পুলিশ।’

মুন্না দাবি করেন, বাড়ি ছাড়ার পর তিনি ঢাকার ইসলামবাগ এসি মসজিদ গলির জনৈক ডিশ-মাহমুদের প্লাস্টিক কারখানায় ও পরে জিঞ্জিরা খেজুরবাগ বালুরচর এলাকায় রফিকের ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করেন। সেখানে আলাপ হয় বাংলাবাজারে বই বিতরণকারী মনির খানের মেয়ে ইয়াসমিন আক্তারের সঙ্গে। কিছুদিন প্রেম করার পর মাসছয়েক আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

মুন্নার বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে দেশদ্রোহী হলে তার সাজা হোক। কিন্তু বিনাদোষে যেন শাস্তির শিকার না হয়।’ তিনি বলেন, ‘মুন্না ধর্মকর্ম খুব একটা করত না। বকাঝকা করে তাকে জুমার নামাজ পড়তে নিয়ে যেতাম।’

নববধূসহ মুন্নার ফেরার খবরে সোমবার সকাল থেকেই সোবহানের বাড়িতে আশপাশের লোকজন ভিড় করতে শুরু করে। এদিকে বেলা ১১টার দিকে মুন্নাকে নিয়ে তার বাবা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন থানায় যান। তিনি এখন পুলিশ হেফাজতে আছেন।

এ ব্যাপারে যশোরের পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান বলেন, তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন নিখোঁজ থাকায় তাকে জঙ্গি হিসেবে ধরা হয়েছে। এখন সে জঙ্গি কি না তা খোঁজ নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন