মাদারীপুরে পাটের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি-  চলছে পাট কাটার মৌসুম। কেউ পাট কেটে নদী, খাল, পুকুর, বিল ও ডোবায় জাগ দিচ্ছেন, কেউবা আবার ব্যস্ত সময় পার করছেন আঁশ ছাড়াতে। রাস্তার দুই ধারে ও বাড়ির উঠানে বাঁশের আড়ে চলছে পাট শুকানোর কাজ। হাট-বাজারে পাট বিক্রির জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন কৃষকরা।madaripurসরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদরসহ অন্যান্য উপজেলায় এবার ব্যাপক পাটের চাষ হয়েছে। পাটচাষীরা এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, এবং আঁশ আহরনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিমান মত বৃষ্টিপাতের কারনে পকুর, খাল-বিল এবং নদী নালায় পানির পরিমান বেড়ে যাওয়ায় পাট জাগের সমস্যা কমেছে। এতে করে জাগ দিতে বাড়তি খরচের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন চাষীরা।

তবে, পাটের বাজার দর ভাল গেলে লাভের আশায় করছেন জেলার চাষীরা। অনুকুল আবহাওয়া, সার, ও ভাল বীজের সহজলভ্যতা থাকায় মাদারীপুর সদর সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে পাটজাত পন্যের চাহিদা বাড়ায় উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা বেড়ে দাড়িয়েছে দেড়গুনে। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনে লাভের আশা করছেন চাষীরা।

অন্যান্য বছরের তুলনায় মাদারীপুর এবার যথাসময়ে খরা ও ভাল বৃষ্টিপাত, ভাল বীজের সহজলভ্যতা ও সার সংকট না থাকায় চলতি বছর পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরন হবে বলে আসা করছে সংশ্লিষ্টরা। এবার একটি পাট লম্বায় প্রায় ১২ ফিট হয়েছে। এবং পাটের আশও ভালো হবে আসা করেছে। এছাড়া, ভাল বৃষ্টিপাতের কারনে পাট জাগ দেওয়ার সমস্যা দুর হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে না চাষীদের। তবে পাট ব্যবসায়ীদের পাট গুদামজাতকরনের কারনে সাধারন পাট চাষীরা যাতে আর্থিকভাবে মার না খায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে পাটের সঠিক ও নায্য দাম নিশ্চিত করতে সংশিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চাষীরা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর সদরসহ অন্যান্য উপজেলায় পাটের চাষ বেড়েছে। চলতি বছর জেলায় ৩০হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে তা দাড়িয়েছে ৩২,২৮০হেক্টরে। অন্যদিকে, গত বছর জেলায় ২৮৬০০হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়। এবছর বাজারে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২০০০-২২০০ টাকায়।

কালকিনি উপজেলার আলিনগর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন জানান, পানির অভাবে পাটে সেচ দিতে গিয়ে ডিজেল ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ ব্যয় করতে হয়েছে। এমনিতেই প্রতি বছর পাটের ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না তার ওপর পাট বিক্রি করে এ বাড়তি উৎপাদন খরচ তোলা কঠিন হয়ে পরে আমাদের। এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বীজ বোনার সময় পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। ফলে সেচের মাধ্যমে আবাদ করতে হয়েছে। এতে করে খরচ একটু বেশি হয়েছে। এখন ভালো দাম পেলেই বাড়তি খরচটা পুষিয়ে নেয়া যাবে। কিন্তু প্রতি বছরের মতো এবারো যদি পাটের মূল্য কম থাকে তবে কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে।

সদর উপজেলার মস্তফাপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব হাওলাদার জানান, এ বছর ৫বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। এতে বিঘা প্রতি ৮-১০হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর বিঘা প্রতি উৎপাদন দাড়িয়েছে ৮-১০মণ। যদি পাটের দাম ভালো থাকে তাহলে আমার মুনাফা আসবে। আমি এবার ধান রেখে পাট চাষ করেছি।

চরমুগরিয়া এলাকার কৃষক মনির হোসেন বলেন, তিনি পাট চাষ করে অনেক টা লাভবান হচ্ছেন । পাট চাষ করে একদিকে পাটের খড়ি বিক্রি ও অন্য দিকে পাট বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হবো ।

বড়খালপাড় এলাকার কৃষক শওকত মাতুব্বর জানান, মাদারীপুরের বিভিন্ন হাটে বাজারে ভারতীয় পাটের যে বীজ পাওয়ায় যায় সেগুলো এ অঞ্চলের মাটিতে চাষের উপযোগী নয়। তাই সেচ দেওয়া সত্ত্বেও অনেকের পাট উৎপাদন ভালো হয়নি।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবদুর রাজ্জাক জানান, দুটি উপজেলা ব্যতীত অন্যান্য বছরের তুলনায় জেলায় এবার পাটের ব্যপক ফলন হয়েছে। এতে করে পাটচাষীরা আরো উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে, বাজারদর ঠিক থাকলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশাবাদ করছি।

প্রতিবছরই পাটের চাষ করে থাকেন মাদারীপুরের কৃষকরা। যশোর-খুলনাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার জুট মিলে উৎপাদিত পাটের ব্যাগ, সুতা ও কার্পেটের রয়েছে দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। তাছাড়া পাটখড়িরও রয়েছে চাহিদা। জ্বালানিসহ নানা কাজে পাট খড়ির ব্যবহার হয়ে থাকে। যে কারণে প্রতি বছর এ অঞ্চলে পাটের চাষ বাড়ছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন