সরকার বন্দোবস্ত দিলেও জমিতে চাষের ধান ঘরে তুলতে পারছেননা ভূমিহীন জহুরা


❏ সোমবার, জুলাই ২৫, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

জাহিদুল ইসলাম রিপন, কলাপাড়া প্রতিনিধি ভূমিহীন জহুরা খাতুনের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী মহলের কারনে। সরকারের বন্দোবস্ত দেয়া খাস জমির উপর নজর পড়েছে ওই মহলটির। ভূমি বন্দোবস্ত পেয়ে বৃদ্ধা জহুরা বেগম জমিতে চাষাবাদ করেন। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বর্গা চাষে জমি না দেয়ায় তার ক্ষেতের কাঁচা-পাকা ধান বারবার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় প্রভাবশালী মহলটি মামলা দিয়ে তাকে চাষাবাদ পর্যন্ত করতে দিচ্ছেনা। বর্তমানে জমির জন্য বিধবা এ মহিলা প্রতিকার চাইতে ভূমি বন্দোবস্তের দলিলসহ কাগজপত্র নিয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে।

তার দুর্দশার কথা বলে জহুরা খাতুন কান্নাবিজরিত কন্ঠে জানান, তিনি চালিতাবুনিয়া মৌজার ৪২৩ নম্বর খতিয়ানের ৮০৩ ও ৮০৪ নম্বর দাগ থেকে এক একর কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত পায়। যার বন্দোবস্ত কেস নম্বর ১০৩ কে/২০০০-০১। দলিল নম্বর ১০১৫, তারিখ-১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১০। জীবনের শেষ সময়ে সরকারের দেয়া এ জমিতে নির্বিঘ্নে চাষ করে সন্তানদের নিয়ে দু’মুঠো খেয়ে জীবন পার করবেন এমন স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্ত এলাকার প্রভাবশালী কেফায়েত উল্লাহ মুন্সি, ফারুক, নসা হাংসহ সাতজন তার সে স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়।

জহুরা খাতুন আরও জানান, তার জমির ওপরে নজর পড়েছে ওই প্রভাবশালী মহলের। ভূমি অফিস থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ২০১৪ সালে ভোজন ধান চাষ করেন। কিন্তু কেফায়েত উল্লাহ মুন্সিকে জমি বর্গা চাষ করতে না দেয়ায় ২৮ নভেম্বর ২০১১সালে তার জমির ধান কেটে নিয়ে যায়। কেফায়েত মুন্সী ও তার দলবল দেশীয় অশ্রুসজ্জিত হয়ে শুধু ধান কেটে নেয়নি, জহুরা খাতুনকে মারধরও করেছে।

VUMIHIN-JOHURA

এ বিষয়ে তিনি কেফায়েত উল্লাহসহ সাত জনকে আসামী করে কলাপাড়া বিজ্ঞ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। কেফায়েত মুন্সি সুবিধা করতে না পেরে জাকিরকে দিয়ে জমির সীমান পিলার তুলে ফেলে পুনরায় তার জমির ধান কাটান। বাধ্য হজয়ে পুনরায় জাকির মোল্লাসহ ছয়কে আসামী করে কলাপাড়া বিজ্ঞ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।বারবার চাষের জমির ধাœ কেড়ে নেওয়ায় জহুরা খাতুন পাগল প্রায় হয়ে গেছেন। এখন জমির কাছে গেলে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

এবিষয়ে জানার জন্য কেফায়েত উল্লাহ মুন্সির মুঠোফোনে বারবার ফোন করার পর তিনি রিসিভ করেন। কিন্তু সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পর তিনি কোন কথা না বলেই ফোন কেটে দেন।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন