ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

অনীল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: গত ১৫ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনেই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার কারনে বানভাসি মানুষজন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। গরু-ছাগলের-খাদ্যের চরম অভাব দেখা দিয়েছে।

bonnar-pani

এরই মধ্যে ডোবায় প্রবেশ করা বন্যার পানিতে ডুবে নাইম নামের রামপ্রসাদ গ্রামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন জরুরী ত্রান সামগ্রী হিসাবে ৫ টি ইউনিয়নে মাত্র ১০ মেটিক টন বন্যার্ত মানুষের জন্য চাল বরাদ্দ করেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ধরলা, নীলকমর ও বারোমাসিয়া নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নুরুলে বাড়ী থেকে পশ্চিম ধনিরাম খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ১ কিলো মিটার রাস্তা ধরলার তীব্র স্রোতে ভেঙ্গে গিয়ে ওই এলাকার ৩ শত পরিবার নতুন করে পানিবন্দী হয়েছে। শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ওয়াপদা বাঁধটি ভেঙ্গে গিয়ে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজারেরও অধিক মানুষ।

ফুলবাড়ী, নাওডাঙ্গা, শিমুলবাড়ী, বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড়ের বন্যা কবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। কুঠিবাড়ী মর্ডান উচ্চ বিদ্যালয়ে ভিতর এক বুক পানি। ফুলবাড়ী থেকে বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম, প্রানকৃঞ্চ, পুর্ব ধনিরাম পানির তেড়ে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফুলবাড়ী উপজেলা শহরের উপকন্ঠে পানি থৈ থৈ করছে। ফুলবাড়ী সদরের বালাতারী গ্রাম এখন পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করছে। নাওডাঙ্গা পুলের পাড়ের মসজিদ মন্দির সহ জেলেপাড়া প্রায় ৩০টি বাড়ী এখন পানির নিচে। অথচ এখানে ১৯৮৮ সালের বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারেনি। এ বানভাসিদের ঘরে খাবার নেই। নেই জ্বালানির ব্যবস্থা। অনেকেই বাড়ীঘর ছেলে আশ্রয় নিয়েছে উচু জায়গায়। উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা সহ ২০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ধরলার পানি ৭৫ বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানিমাছকুঠি, ভুরিয়ারকুঠি, নন্দিরকুঠি গ্রামের কয়েক শত শত পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। এখানকার কয়েক শত একর জমির রোপা আমন ধান ক্ষেত, বীজতলা যাওয়া সহ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়াও প্লাবিত হয়েছে উপজেলার গোরকমন্ডল, চর গোরকমন্ডল, পুর্বফুলমতি, বালাতাড়ি, পেছাই, পশ্চিম ফুলমতি, কিশামত শিমুলবাড়ী, রোশন শিমুলবাড়ী, সোনাইকাজী, যতিন্দ্র নারায়ন, কবিরমামুদ, রামপ্রসাদ, প্রানকৃঞ্চ, চন্দ্রখানা, পশ্চিম ধনিরাম, পূর্ব ধনিরাম, মেকলি, বড়লই, বড়ভিটা, চর বড়লই, খোচাবাড়ী ও রাঙ্গামাটি গ্রাম। বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ খয়বর আলী জানালেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী। চর বড়ভিটা, চর বড়লই, চরমেকলি ও পশ্চিম ধনিরামের খুবই খারাপ। শুধুমাত্র চরমেকলিতে ১০ দিন ধরে প্রায় ৪ শ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। চরমেকলির মৃত পানাউল্যাহর ছেলে খালেদ আলী (৬৮), মৃত কদর আলীর ছেলে আজিজুল হক (৪১), মৃত নছিয়ততুল্যাহর ছেলে আফছার অলী (৪২) জানান, আমরা ১২ দিন থেকে পানিবন্দী অবস্থায় থাকলেও কেউ আমাদের খোঁজও নেয়নি কোন ত্রান সমগ্রীও পাইনি।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিয়া সোহেল সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আমার ইউনিয়নের বর্ন্যাত মানুষের জন্য ৪ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ধরলার তীরবর্তি সোনাইকাজী গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩২) একই গ্রামের মজিবরের ছেলে ওবায়দুল হক (৩১) ও মেহের গোয়ালের স্ত্রী পাতানি (৪৯) জানালেন, বানের পানিতে ভাসছি কেউ এসে খোঁজ নিল না। ত্রান সামগ্রী পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তারা সরাসরি উত্তর দেন “না”। অন্যদিকে ফুলবাড়ী লালমনিরহাট সড়কের পশ্চিমপাড়ে নির্মানাধীন ধরলা সেতুর উত্তর পশ্চিম দিকে ধরলার স্রোত প্রখর থাকায় ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে সেখানে।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, সরকারীভাবে ১০ মেটিক টন বরাদ্দ পেয়েছি তা গত সোমবার বিতরণ করেছি। আবার বন্যার্ত মানুষের জন্য ১ লাখ টাকা ও ২০ মেট্রিক টন চাল চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন পাঠানো হয়েছে।