• আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট’

২:৫০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

রবিউল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর- দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা বরাদ্দের ৮০ শতাংশই চুরি হয়। ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলে ১৫০ কোটি টাকা (অর্ধেক) যায় এমপিদের পকেটে। বাকি ১৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ যায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে। আমরা চোখ বন্ধ করে এ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি বলে- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু যে বক্তব্য দিয়েছেন তার বিচার বিভাগীর তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।inu_আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশিষ্ট শাখায় এই রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে, একটি কমিশন গঠন করে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রিট আবেদনে এমপিদের নামে বরাদ্দকৃত প্রকল্প বন্ধেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে স্থানীয় সরকার সচিব, অর্থসচিব, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা সচিবসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করার আবেদন করছেন কেন জানতে চাইলে আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্যরা টিআর কাবিখার বরাদ্দ গ্রহণ করেন। তাই তাদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে সংসদ সদস্যদের চুরি করার বিষয়টি প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, রোববার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে পিকেএসএফ ভবনে ‘গ্লোবাল সিটিজেনস ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সামিট ২০১৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা বরাদ্দের ৮০ শতাংশই চুরি হয়। ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলে ১৫০ কোটি টাকা (অর্ধেক) যায় এমপিদের পকেটে। বাকি ১৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ যায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে। আমরা চোখ বন্ধ করে এ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সব এমপিই হয়তো চুরি করেন না। কিন্তু বেশিরভাগ এমপিই এ কাজটি করেন। এ জন্য উন্নয়ন বাজেটের অর্থ সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে দেয়া উচিত। এতে উন্নয়ন বৈষম্য কমে আসবে।’

ওই বক্তব্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠে। অব্যাহত সমালোচনার মুখে গতকাল সোমবার সংসদ অধিবেশনে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তথ্যমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতেই তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিআর-কাবিখা প্রসঙ্গে একটি বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝির কারণে সংসদ সদস্যরা কষ্ট পেয়েছেন। এ জন্য আমি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। গতকালই গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছি। আমি মূলত আমার সেই বক্তব্যে অতীতের সরকারের অনিয়মের কিছু তথ্য দিয়েছিলাম। এ সময় কিছু উদাহরণ টেনেছিলাম মাত্র।’

তার এ বক্তব্যের পর আবারও সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা ইশারায় সবাইকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

পরে দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এমপি ও জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে আমার মন্তব্যে অনভিপ্রেত ছিল। সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাচ্ছি।’

নুরুল হক নুর ৯ দিনে কত টাকা গণচাঁদা পেলেন নুররা?

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০