‘কল্যাণপুরের ঘটনা ইতিহাসের সফল অভিযান’


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান ‘অপারেশন স্ট্রম-২৬’ কে ইতিহাসের সফল অভিযান বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।dmp_মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। জঙ্গি আস্তানায় চালানো অভিযান ‘স্টর্ম-টোয়েন্টি সিক্স’ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে অভিযান ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার সামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপি কমিশনার।

কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, ‘জঙ্গিদের’ সবার বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। হামলাকারীদের বয়স, পোশাক, চেহারা, অবয়ব, চালচলন, কথা বলার ধরন সবকিছু মিলে মনে হয়েছে তারা উচ্চবিত্ত শ্রেণির। প্রাথমিকভাবে যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়েছে, তারা গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারীদের গ্রুপের।

ব্রিফিংয়ে ডিএমপি জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি তাজা গ্রেনেড (পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়), চার থেকে পাঁচ কেজি জেল বিস্ফোরক, ১৯টি ডেটোনেটর, চারটি ৭.৬২ পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন, ২২টি গুলি, একটি তলোয়ার, তিনটি কমান্ডো চাকু, ১২টি গেরিলা চাকু, ‘আল্লাহু আকবর’ লেখা দুটি কালো পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে কি না, তা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অনেক আলামত পেয়েছি। তদন্ত চলছে। এখনই কিছু বলব না।’

ভোর ৫টা ৫১ মিনিট থেকে শুরু করে সকাল ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানকে ইতিহাসের অন্যতম সফল অভিযান বলে চিহ্নিত করেছেন আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সব জঙ্গি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। শুধু একজন পুলিশ সামান্য আহত হয়েছে। নিহত ‘জঙ্গিদের’ নাম, পরিচয় ও ঠিকানা জানা যায়নি বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া হবে। সেখান থেকে পরিচয় খোঁজা হবে বলে তিনি জানান।

কমিশনার বলেন, জঙ্গিরা চলতি (জুন) মাসের ২০ তারিখ কল্যাণপুরের ৫ নং সড়কের ৫৩ নম্বর তাজ মঞ্জিলের ৫ তলায় ভাড়া নেয়। পুলিশকে তাদের তথ্য অবগত না করায় বাড়ির মালিককে আটক করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে ওই জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন স্টোর্ম-২৬’ চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের অপারেশনে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। পরে তাদের মেস থেকে বিপুুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থলে ১১ জন ছিল। রাতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের মধ্যে দুজন পালানোর সময় একজনকে আটক করে। পাশাপাশি পুলিশ পুরো ভবনটি ঘিরে রাখে। পরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটি) ইউনিট, সোয়াট অভিযানের প্রস্তুতি নেয়। অনুমতি নিয়ে সোয়াটের নেতৃত্বে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫১ মিনিটে ১ ঘণ্টার অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলিবিনিময় হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। নিহত হয় ৯ জঙ্গি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন