• আজ সোমবার, ২ কার্তিক, ১৪২৮ ৷ ১৮ অক্টোবর, ২০২১ ৷

নীলফামারীতে তরুনীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে ভন্ড পীর আটক !


❏ মঙ্গলবার, জুলাই ২৬, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

ধর্ষ


মোঃ মহিবুল্লাহ্ আকাশ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক তরুণীকে জোর করে অপহরণের পর বাড়িতে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগে রংপুর জেলার তারাগঞ্জের মমিনুর ইসলাম নামের এক পীরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে সেই পীরের বাড়ি থেকে ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। রোববার সকালে সৈয়দপুর উপজেলার পশ্চিম বেলপুকুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে মেয়েটিকে অপহরণ করে নিয়ে আসেন মমিনুর ইসলাম।

জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার শিয়ার ডাঙ্গা এলাকায় বসবাসরত মৃত লতিফ হোসেনের ছেলে আশেকে রাসুল শাহসুফী মাওলানা ভন্ড পীর মমিনুর ইসলাম মমিন (৪৮) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুরিদ তৈরি করেন।

এই সুবাদে তারাগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববতী সৈয়দপুর থানার পশ্চিম বেলপুকুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে কয়েক দিন মুরিদ তৈরি করতে গেলে ওই গ্রামের এক তরুণীর (১৯) দিকে কুদৃষ্টি পড়ে মমিনুরের।

গত রোববার ভোর ৫টার দিকে মমিনুর তার একজন সঙ্গীকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ওই গ্রামে যান। এ সময় ওই তরুণী বাড়ি থেকে বের হলে তাকে অপহরণ করেন। এর পর বাড়িতে এনে আটকে রেখে তিন দিন ধরে ধর্ষণ করেন। এ দিকে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে সোমবার সৈয়দপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন ওই তরুণীর বড় ভাই।

পরে পরিবারের লোকজন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পীর মমিনুর মেয়েটিকে জোর করে তুলে এনে তার বাড়িতে আটক রেখেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পরিবারের লোকজন মনিনুরের বাসায় গেলে তিনি তরুণীকে বিয়ে করবেন বলে জানায়। এর পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দিতে চান। এর পর মেয়েটির পরিবারের লোকজন তারাগঞ্জ থানায় খবর দেয়। থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে এসে মমিনুরকে আটক ও তরুণীকে উদ্ধার করেন।

এলাকার লোকজন জানায়, মমিনুর ইসলাম মমিন ভণ্ডপীর। আসলে তিনি নারী লোভী। ওই পীর এ যাবৎ ১০টি বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে চারজন বিভিন্ন কারণে মারা গেছেন। বাকিরা পালিয়ে গেছেন।

তারাগঞ্জ থানার ওসি আঃ লতিফ মিয়া জানান, ‘ভণ্ডপীরকে আটক করা হয়েছে। মেয়ে ও ভন্ডপীর থানা হেপাজতে আছে। যেহেতু মেয়ের ভাই সৈয়দপুর থানায় জিডি করেছেন সেহেতু আমরা দুজনকেই সৈয়দপুর থানায় হস্তান্তর করব। সেখানকার কর্তৃপক্ষ আইনী ব্যবস্থা নেবেন।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমীরুল ইসলাম জানান, ভিকটিম ও ভন্ড পীরকে নিয়ে আসার জন্য তারাগঞ্জ থানায় ফোর্স পাঠানো হয়েছে। সৈয়দপুর থানায় তাদেরকে নিয়ে আসার পর অভিযোগ অনুযায়ী আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন