সংবাদ শিরোনাম
আড়াইহাজারে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ঘোষণাসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল | টাঙ্গাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ২ | ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন চলছেই, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন | সিলেটে ডাক্তার দম্পতির বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার | কিশোরগঞ্জে আইপিএল নিয়ে জুয়ার আড্ডায় অভিযান, ১৩ জনের জেল-জরিমানা | নিষ্ঠুর পিতার বিকৃত রুচি! নিজ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় পিতা কারাগারে | পুলিশ ও জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করতে হবে: জিএমপি কমিশনার | মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু | বাড়ছে ডেঙ্গু, ৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি | যমুনা নদী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে নাগরপুরে মানববন্ধন |
  • আজ

দলীয় এমপিদের স্ব নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশও দিলেন হাসিনা

2:09 পূর্বাহ্ন | বুধবার, জুলাই 27th, 2016 জাতীয়

 সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – সময় খুব বেশি নেই জানিয়ে সরকারের উন্নয়নের জয়গান নিয়ে দলীয় এমপিদের জনগণের দোরগোড়ায় স্ব স্ব নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের জরুরি সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন  বুধবার রাতে শেষ হবে। অধিবেশন শেষে দলীয় সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন সংসদ নেতা। এ সময় একাধিক এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সতর্ক করার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধে না জড়ানোর আহ্বান জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী এখন থেকেই আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এমপিদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র দুই বছর তিন মাস বাকি আছে। তাই এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোরও নির্দেশ দেন তিনি। তিনি সজাগ ও সতর্ক থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য দলীয় এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সব অঞ্চলে শুধু জঙ্গিবাদবিরোধী কমিটি গঠন করলেই চলবে না, এসব কমিটিকে কার্যকর করে নিজ নিজ এলাকায় জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও তাদের মদতদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। সর্বত্র এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সারাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গঠনে দলীয় এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সংসদ নেতা আরো বলেন, দেশের দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে নিয়ে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে। এগুলোকে সত্যিকার অর্থেই কার্যকর করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি এদের কারা মদত দিচ্ছে, বিপথে চালিত করছে, অর্থ-অস্ত্রের জোগান দিচ্ছে সেসব মূল হোতাদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্স খুঁজে বের করে একে পুরোপুরি দমন করতে চায়। এজন্য অন্য সবার মতো এমপিদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক এমপি জানান, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে শান্তির ধর্ম ইসলামের প্রকৃত ব্যাখ্যা জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য দলীয় এমপিদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে যে অভিন্ন খুতবা দেয়া হয়েছে, সেটি সব মসজিদে সঠিকভাবে পাঠ করা হচ্ছে কী না- সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ‘বর্তমানে যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চলছে, সেটি প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা নয়’- শোলাকিয়ার খতিব ফরিদ উদ্দিন মাসউদের নেতৃত্বে দেশের এক লাখ আলেমের যৌথ বিবৃতিও দেশজুড়ে প্রচার করতে হবে। এটি নিশ্চিত করতে এমপিদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কেউ আর যাতে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদে যুক্ত না হয়, বিপথে না যায়- অভিভাবক ও শিক্ষকদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এমপিদের কার্যকর ভূমিকা পালনেরও নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সরকারের যেসব উন্নয়ন কাজ হয়েছে, আরো কি কি উন্নয়ন কাজ করা হবে- সেগুলো বারবার জনগণের মাঝে ভালোভাবে তুলে ধরতে হবে। নির্বাচনের তিন মাস আগেই দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে হবে। সেজন্য এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। এ সময় এমপিদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং সৃষ্টি না করার নির্দেশ দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের জন্য কাজ করার তাগিদ দেন। এ ছাড়া সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী হবে, এ বছরই হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা তৈরি না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নারী এমপিরা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। মহিলা আসনে যেসব এমপি আছেন, তাদের নিজ নির্বাচনী এলাকা তৈরি করার দরকার নেই। তাদের আমি মনোনয়ন দেব না। আপনাদের যেজন্য এমপি বানিয়েছি সেই সংগঠন গোছানোর কাজ করুন। নিজে নিজে এমপি প্রার্থী হওয়া যাবে না, মনোনয়ন দেব আমি। কে মনোনয়ন পাবে সেটা আমি দেখব। আপনারা সংগঠনের জন্য কাজ করুন। নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা তৈরি করতে গিয়ে আমাদের আসনগুলো নষ্ট করলে কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে না।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অল্প সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও সরকার এ পর্যন্ত সফলভাবেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলা করছে। যে কোনো ঘটনা ঘটার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বল্পতম সময়ে সেগুলো দমন করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সঠিকভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। তারা এসব ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ তদন্তের অগ্রগতিও হচ্ছে। রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি দমনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সারারাত ধরেই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘেরাও করে রেখেছিল। রাতে অভিযান চালালে নিরপরাধ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, এই আশঙ্কায় সকালে অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফলভাবেই অভিযান চালিয়ে এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীকে দমন করেছে।
দলীয় সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নারী সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। তাই সারাদেশে এদের প্রতিরোধে নারী সংগঠনকে শক্তিশালী করে নারী সমাজের মাঝেও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
বৈঠকে সরকারদলীয় কয়েক এমপিও বক্তব্য দেন। তারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ বলেন, পুলিশের মধ্যে যারা আছেন, তাদের সবাই কিন্তু আমাদের নয়। বিএনপি-জামায়াত ও স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের লোকও সেখানে রয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন করতে হলে এদিকেও নজর দিতে হবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যেও তো সমস্যা আছে। আর সবগুলো ঘটনা তো পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোকাবিলা করেছে। কল্যাণপুরের জঙ্গি হামলার প্রচেষ্টাও তো আমাদের পুলিশ বাহিনী মোকাবিলা ও দমন করেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে আবদুল মান্নান, এ কে এম শামীম ওসমানসহ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রীরা এমপিদের সঙ্গে ভালো আচরণ করেন না। তারা জঙ্গি দমনে নিহত পুলিশ সদস্যদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের প্রস্তাব করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে না জড়ানোর নির্দেশ দেন।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. হাছান মাহমুদ, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, বজলুল হক হারুণ প্রমুখ।