• আজ সোমবার, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৪ জুন, ২০২১ ৷

ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ছররা বন্দুকের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ


❏ বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক -ভারত-শাসিত কাশ্মীরে বিতর্কিত পেলেট গান বা ছররা বন্দুকের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেলেব্রিটিদের ফোটোশপড ছবি ব্যবহার করে অনলাইনে চালানো একটি ক্যাম্পেন ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

অশান্ত কাশ্মীরে শত শত যুবক গত কয়েকদিনে এই পেলেট গানে জখম হয়েছেন – তাদের অনেকে দৃষ্টিশক্তি অবধি হারাতে বসেছেন।

এখন পাকিস্তান-ভিত্তিক একটি গ্রুপ শাহরুখ খান, অমিতাভ বচ্চন বা নরেন্দ্র মোদির মতো ভারতীয় তারকা বা রাজনীতিকদের মুখ পেলেট গানে গুলিবিদ্ধ হলে কেমন দেখাবে – সেই ছবি পোস্ট করে প্রশ্ন তুলছে – এই পরিচিত মুখগুলো জখম হলে পেলেট গানের ট্র্যাজেডি কি তখন গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে?

এই অভিনব ক্যাম্পেন ফেসবুক-টুইটারে অকল্পনীয় সাড়াও ফেলেছে মাত্র আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যেই।

কাশ্মীরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় এই পেলেট গান বা ছররা বন্দুক ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে আর গোড়া থেকেই এই বন্দুক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ভারত সরকার পার্লামেন্টে যদিও এটাকে নন-লিথাল ওয়েপেন অর্থাৎ প্রাণঘাতী অস্ত্র নয় বলেই দাবি করেছে – কিন্তু ঘটনা হল এই বন্দুকের কার্ট্রিজ থেকে চারিদিকে ছিটকে পড়া অসংখ্য ছররা বহু বিক্ষোভকারীকে সাঙ্ঘাতিকভাবে ঘায়েল করছে।

এই বন্দুক হাঁটুর নিচে লক্ষ্য করে চালানোর কথা থাকলেও স্পষ্টতই তা মানা হচ্ছে না। ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য বলছে অ্যাসল্ট ওয়েপেনের চেয়ে পেলেট গান অনেক ভাল আর বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতেও এর জুড়ি নেই। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কথা দিয়েছেন, পেলেট গানের বিকল্প কী হতে পারে সরকারের নিযুক্ত একটি কমিটি তা খতিয়ে দেখবে।

ভারতীয় সেলেব্রিটিদের ছবি ব্যবহার করে পেলেট গানের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেনটা শুরু করেছে ‘নেভার ফরগেট পাকিস্তান’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপ – ঘটনাচক্রে যার সূত্রপাত হয়েছিল পেশোয়ারের স্কুলে শিশুদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর তার প্রতিবাদ জানাতে।

ওই গ্রুপটির কর্ণধার মহম্দ জিবরান নাসির তার দুজন শিল্পী বন্ধু বাতুল আকিল আর মুর্তাজা আব্বাসের সাহায্যে ভারতের বিখ্যাত চিত্রতারকা, ক্রিকেটার, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী নেত্রীদের ছবি পেলেট গানে গুলিবিদ্ধ হলে কেমন দেখাবে সেই ছবি ফটোশপ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন – সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন একটা করে ছোট্ট চিঠি।

সেই চিঠি লেখা হয়েছে ডাক্তারদের বা গুলিবিদ্ধ যুবকদের বকলমে – যার মূল কথাটা হল এই পরিচিত মুখখুলো আক্রান্ত হলে কি আপনার বিবেক জেগে উঠবে? এই তালিকায় নরেন্দ্র মোদি, সোনিয়া গান্ধী, শাহরুখ খান, হৃতিক রোশন, অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই, কাজল, সৈফ আলি খান এরা কেউ বাদ যাননি – এমন কী ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের ছররাবিদ্ধ মুখের ছবিও দেওয়া হয়েছে।

সেটা এই কারণে যে বহু কাশ্মীরি অ্যাক্টিভিস্টির পোস্ট সম্প্রতি ফেসবুক ব্লক করে দিয়েছে বলে অভিযোগ, ক্যাম্পেনাররা তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

জিবরান নাসির আহ্বান জানিয়েছেন, এই সেলিব্রিটিদেরকে সবাই ছবিগুলো পোস্ট করুন – আমরা চাই যাতে তারা মুখ খুলতে বাধ্য হোন।

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে মোবাইল ইন্টারনেট ফের চালু হয়েছে পুরো একদিনও হয়নি – তার আগেই কিন্তু এই ক্যাম্পেন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে বলা যায়।

সারা দুনিয়াতেও কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন চালাচ্ছে যে গোষ্ঠীগুলো, সেই জেকেএলএফ বা বিভিন্ন সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য ফেসবুক বা টুইটারে শেয়ার করেছেন এই সব ছবিগুলো। বহু কাশ্মীরি যুবক-যুবতী ফেসবুকে লিখেছেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে যখন ভারত কাশ্মীরে ঢুকতে দিচ্ছে না, তখন আমাদের এই ধরনের প্রচারনাই দরকার।

কেউ আবার লিখেছেন, এর পরও কি দুনিয়া বুঝবে কাশ্মিরীদের কী যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে?

বাকি ভারত আবার এই ক্যাম্পেনের বিরুদ্ধে যথারীতি সরব। তারা কেউ লিখেছেন নেভার ফরগেট পাকিস্তান নামের আড়ালে যখন কাশ্মীরের আজাদির কথা বলা হয় তখন ভন্ডামিটা ধরতে কষ্ট হয় না।

ভারতীয়রা অনেকে আবার মন্তব্য করেছেন – ‘যে পাকিস্তান ৩০ লক্ষ বাঙালিকে খুন-ধর্ষণ করেছে আর রোজ একশো বালোচকে হত্যা করছে তাদের কাছ থেকে মানবাধিবারের জ্ঞান শুনব না’।