পায়ে দুই অঙুলের কারণে যে উপজাতিদের উট পাখি বলা হয়..!


❏ বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র

news_picture_35114_leg1


চিত্র বিচিত্র ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার কনভেনশন অনুযায়ী, ‘উপজাতি হিসেবে তারাই বিবেচিত হবে, যারা নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রথাগত জীবন যাপন করে। যাদের সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রা মূল জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা এবং যাদের নিজস্ব সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রথা ও আইন আছে।’

সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রায় উপজাতিরা শুধু মূল জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা নয়, শারীরিক বৈশিষ্ট্যেও তারা মূল জনগোষ্ঠী থেকে খানিকটা ভিন্ন। কোনো কোনো উপজাতির শারীরিক বৈশিষ্ট্য মূল জনগোষ্ঠী থেকে এতটাই আলাদা যে, তাদের ভিনগ্রহের মানুষ বলে মনে হয়।

জিম্বাবুয়ের ভেডোমা এমনি একটি উপজাতি, যারা অদ্ভুত এক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এই উপজাতির প্রতিটি শিশু দুই পায়ে ১০টির পরিবর্তে চারটি আঙুল নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বৈজ্ঞানীকভাবে এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ইক্টোড্যাক্টলি এবং এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যর জন্য ভেডোমাদের বলা হয় দোপায়ী বা উট পাখি উপজাতি।

ভেডোমা উপজাতির বসবাস জিম্বাবুয়ের কেনিয়াম্বা অঞ্চলে। মুয়াজামুটান্ডা নদীর অববাহিকায় বসবাবাসরত এই উপজাতিকে বলা হয় হান্টার গেদারস। হান্টার গেদারস সেই সমস্ত উপজাতিকে বলা হয়, যারা কোনো চাষাবাদ করে না এবং খাদ্যের জন্য বন ও বন্য প্রাণীর উপর সম্পুর্ণ নির্ভরশীল।

ভেডোমা উপজাতি ডেমা ভাষায় কথা বলে। ভেডোমা রূপকথা অনুসারে তাদের বিশ্বাস, তাদের পূর্বপুরুষরা বাউবো নামে একটি গাছ থেকে জন্মগ্রহণ করেছে। সুতরাং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে গাছের প্রভাব খুব বেশি।

জিম্বাবুয়েতে ভেডোমাদের নিয়ে বহু রূপ কথা প্রচলিত রয়েছে। জিম্বাবুয়ের কিছুসংখ্যক লোক বিশ্বাস করে, এই জনগোষ্ঠীর লোকেরা জাদুবিদ্যা জানে এবং এই জাদুবিদ্যার সাহায্যে তারা বনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। যাযাবর জীবনে অভ্যস্ত ভেডোমারা ফাঁদ পেতে বন্য প্রাণী শিকার, মাছ ধরা, মধু আহরণ এবং বন্য ফল-মূল সংগ্রহ করে তাদের খাদ্যের সংস্থান করে।

জিম্বাবুয়েতে ইউরোপীয় উপনিবেশের পূর্বে ভেডোমারা মুতাপা সম্রাজ্যের (১৪৩০-১৭৬০) সঙ্গে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে তাদের ওই সময় থেকে কৃষিকাজবিহীন এক প্রকার নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য করা হয়। এরপর জিম্বাবুয়েতে ইউরোপীয় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হলেও ভেডোমাদের জীবনযাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। তারা এখনো সেই আগের মতো প্রাচীন অরণ্যচারী, গুহাবাসী জীবন যাপন করে যাচ্ছে।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন