নিহত এক জঙ্গির দাবিদার দুই জেলার দুই পরিবার!


❏ বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় নিহত নয়জনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এক যুবককে তাদের ছেলে বলে দাবি করেছে দুটি পরিবার।

নিহতের মধ্যে নিজেদের সন্তান রয়েছে বলে জানিয়েছে তিনটি পরিবার। ছবির ষষ্ঠ যুবককে সেজাদ রউফ অর্ক ওরফে মরক্কো বলে তার বাবা তৌহিদ রউফ ধারণা করছেন, যদিও তিনি নিশ্চিত নন।news_picture_35127_jongi1এ বিষয়ে ডিএমপির উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৌহিদ রউফ আমাদের কাছে এসে বলেছেন- ‘সেজাদ আমার ছেলে, আমরা ছবি দেখে ধারণা করছি।’ তখন লাশ শনাক্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয় তৌহিদকে।

তৌহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লাশ দেখেছি। চেহারায় পুরোপুরি মিল নেই। ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন রয়েছে।’

অন্যদিকে তৃতীয় সারির মাঝের নিহত যুবককে জোবায়ের হোসেইন (২০) বলে শনাক্ত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে ডিএমপি প্রকাশিত ছবি দেখে ওই যুবকে নিজেদের ছেলে বলে চিহ্নিত করেন নোয়াখালীর পশ্চিম মাইজদীর সুধারামপুর উপজেলার আব্দুল কাইয়ুম ও আয়েরা বেগম। জুবায়ের তাঁদের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট।

এদিকে একই ছবি দেখিয়ে তাঁকে নিজের ছেলে সাব্বিরুল হক কনিক বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বরুনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরী। তবে লাশ দেখে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

নোয়াখালীর পরিবারটির দাবি, নিহত যুবক নোয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী বাহাদুরসহ গত মে মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছে সে।

গুলশান হামলার ঘটনার পর এই মাসেই সন্তানের নিখোঁজের বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন আব্দুল কাইয়ুম। নিখোঁজের পর থেকে একবারও পরিবারের সঙ্গে জুবায়ের যোগাযোগ করেননি বলে জানান তাঁর বাবা। ফেসবুকে প্রকাশিত জঙ্গিদের ছবি দেখেই তিনি তাঁর ছেলেকে শনাক্ত করেন। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ জানিয়েছেন, নোয়াখালী থেকে নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে জুবায়েরও একজন।

এদিকে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানান, আজিজুল হক চৌধুরী বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে কর্মরত। তাঁর দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে সাব্বিরুল হক কনিক সবার বড়। সে চার মাস ধরে নিখোঁজ। তবে পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে এত দিন বিষয়টি থানায় জানাননি আজিজুল হক চৌধুরী। ডিএমপি প্রকাশিত নিহতদের ছবি দেখে সেখানে থাকা তৃতীয় সারির মাঝের যুবককে সাব্বির বলে সন্দেহ হয় আজিজুল হকের । তবে লাশ দেখে পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন