জামিনে মুক্ত যশোরের ‘জঙ্গি তালিকায়’ শীর্ষে থাকা সেই মুন্না


❏ বুধবার, জুলাই ২৭, ২০১৬ Breaking News, আলোচিত বাংলাদেশ

যশোর প্রতিনিধি- যশোরে পুলিশের জঙ্গি তালিকায় শীর্ষে থাকা কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্না (২৪) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার দুপুরে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলাম তাকে জামিন দেন। মুন্নার পক্ষের আইনজীবী এমএ গফুর এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মুন্না পোস্টারে তার ছবি দেখছেন

মুন্না পোস্টারে তার ছবি দেখছেন

মঙ্গলবার মুন্নাকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে জামিন দেন।

আইনজীবী এমএ গফুর বলেছেন, মুন্নার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপতার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোর্ট তাকে জামিনে মুক্তি দেন। সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুন্না মুক্তি পান।

সম্প্রতি যশোর পুলিশ ৫ জনকে জঙ্গি কানেকশনে অভিযুক্ত দেখিয়ে শহরে ব্যাপক পোস্টারিং করে। ওই পোস্টারের শীর্ষে নাম ছিল শহরের শংকরপুর এলাকার গোলপাতা মসজিদ এলাকার চা দোকানি আবদুস সোবহানের ছেলে কামরুজ্জামান তুহিন ওরফে মুন্নার নাম ও ছবি। ওই পোস্টারিংয়ের পর ছেলের নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনে মরিয়া হয়ে ওঠে তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

২৪ জুলাই ভোরে আকস্মিকভাবে বাবার সঙ্গে স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষের তিন আত্মীয়সহ মুন্না শঙ্করপুরের বাসায় ফেরেন। মুন্না বাসায় ফিরেছে এমন খবর চাউর হওয়ার পরপরই মিডিয়ার কর্মীরা হাজির হন তার বাসায়। এ সময় মিডিয়া কর্মীদের নানা প্রশ্নের মুখে মুন্না দাবি করেন তিনি জঙ্গি নন। যশোর এসে শুনছেন পুলিশ তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য নাম-ছবিসহ পোস্টার ছেপেছে। যশোর পুলিশের ছাপানো জঙ্গি তালিকা সম্বলিত পোস্টারে নিজের নাম ও ছবি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুন্না।

তিনি বলেন, ‘মায়ের ওপর রাগ করে বাড়ি ছাড়ি। ঢাকায় ছিলাম বছর তিনেক। প্রথমে ডেকোরেটরের দোকানে, পরে প্লাস্টিক কারখানায় কাজ নিয়েছি। কাজ করে খাই। বিয়েও করেছি। কোনো ধরনের জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

পরে ২৫ জুলাই যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় হাজির হয়ে বলেন তিনি নিখোঁজ নন। অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে ছিলেন।

সে দিন কোতোয়ালি থানায় পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেছিলেন, মুন্নার পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হয়েছিল সে জঙ্গি তৎপরতার সাথে যুক্ত। সে হিসেবে তাকে সন্দেহ করা হয়েছে। যদি সে নিরাপরাধ হয় তাহলে আইনি সহায়তা নিশ্চয় পাবে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এবং আইনি সহায়তা চেয়েছিল।

শুধু পুলিশ না বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করে রিপোর্ট দেয়া না পর্যন্ত মুন্না পুলিশ হেফাজতে থাকবে বলে জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মুন্নাকে ১৫১ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বুধবার সকালে তার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে যায়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে জামিন দেন।

এর আগের সংবাদ

পুলিশের তালিকাভুক্ত নিখোঁজ সেই মুন্না স্ত্রীসহ বাড়িতে হাজির

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন