সংবাদ শিরোনাম
ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত | রংপুরে প্রেমের ফাঁদে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, সেই এএসআই বরখাস্ত | বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করলো ফ্রান্স | যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে লালপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত | রংপুরে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে | শেরপুরে বাঁশঝাড় থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার | ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, অবৈধ গর্ভপাতের দায়ে নার্স গ্রেপ্তার | নোবিপ্রবির দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ | ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাঁকোই ১৫ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা | নৌবাহিনী কর্মকর্তাকে মারধরের মামলা প্রভাবমুক্ত তদন্ত হবে: ডিএমপি কমিশনার |
  • আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি আব্দুল্লাহর বাবা ও ভাই পুলিশের হাতে আটক, লাশ চান না পরিবার ও এলাকাবাসী!

১:১৯ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর- ঢাকার কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে নিহত জঙ্গী আব্দুল্লাহ ওরফে মোতালেবের বাবা ও ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। জঙ্গি হওয়ায় আব্দুল্লাহ’র লাশ চায় না তার পরিবার ও এলাকাবাসী। আজ সরেজমিনে গিয়ে মিলেছে এমনি কথা। abbullaআব্দুল্লা’র বাড়িতে চলছে থমথমে অবস্থা। জঙ্গী সম্পৃক্ততা থাকা সে জাতির শত্রু, পাশাপাশি ভঙ্গ করেছে পরিবারের বিশ্বাস। তাই তার লাশ নিতে চায় না পরিবারের সদস্যরা। গ্রামবাসীও চায় না তার লাশের দাফন হোক তাদের এলাকায়। এদিকে রাতেই নিহত আব্দুল্লাহ’র বাবা সোহবার আলী ও বড় ভাই নূরুল ইসলামকে আটক করে ঢাকায় পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, তারা আটক নন, ডিএনএ মিলানোর জন্য তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, আর আব্দুল্লাহ যে জঙ্গী সম্পৃক্তায় জড়িত তার কোন তথ্য ছিল না তাদের কাছে।

২৫ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজ বাড়িতে জঙ্গী আস্তানায় হানা দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে নিহত হয় ৯ জঙ্গী যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ নামে একজনের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বল্লভপুর এলাকায়। এক বছর বাড়ি থেকে উধাও ছিলেন আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ প্রাইমারী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে বল্লভপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

এরপরে হাকিমপুর উপজেলার হিলি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে করতে নওগা আলাদিপুর হেফজ মাদ্রাসায় চলে যায়। সেখান থেকে সে পরে নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে দেবই কাজিরবাদ আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে দাখিল পাস করে। একই মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে কৃতিত্বে সাথে পাশ করে আলিম।

এর পর এক বছর আর বাসায় আসেনি আব্দুল্লাহ। সে ছিলো বাড়ি থেকে উধাও। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইল ফোন করে জানায়, রূপগঞ্জে দেবই কাজিরবাদ আলিম মাদ্রাসাতেই সে ফাজিল পড়ছে। কিন্তু বাস্তবতায় ওই মাদ্রাসায় ফাজিলে পড়ার কোন সুযোগ নেই। আলিম পর্যন্তই পড়া-লেখা হয় সেখানে।

আব্দুল্লাহ’র মা মোসলেমা খাতুন জানায়, যে সব নম্বর থেকে আব্দুল্লাহ্ ফোন দিতো কথা বলার পর বন্ধ থাকতো ওইসব নম্বর। বুধবার সকালে র‌্যাব এর একটি বিশেষ দল বাড়িতে আসার পর আব্দুল্লাহ নিহত হওয়ার খবর পান পরিবারের লোকজন। এর আগে তারা জানতেন না আব্দুল্লাহ নিহত হয়েছেন। এক সপ্তাহ আগেও বড় ভাই রাজমিস্ত্রি নূরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন আব্দুল্লাহ।

আরেক ভাই কাঠমিস্ত্রি আবুল কালাম আজাদ জানান, মাঝে মাঝে ফোন করে মা ,বাবা,ভাইদের সাথে আব্দুল্লাহ কথা বললেও আমরা পরে ওই নম্বরে ফোন করলে পেতাম না তাকে। একই কথা জানালেন, আরেক ভাই রাজমিন্ত্রি আব্দুস সালাম। তিনি জানালেন, বাবা সোহবাব আলী বয়সের ভাবে নুয়ে পড়েছেন। কানে শুনেন কম। আমাদের সব চেয়ে ছোটভাই মোহাম্মদ আলী শেরপুর পলিটেকনিক কলেজে পড়া-লেখা করেন। একমাত্র বোন মাসুদাকে বিয়ে দিয়েছি দু’বছর আগে পাশ্বের গ্রামেই। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছিনা আমার ভাই জঙ্গি। সে মারা গেছেন। এ নিয়ে তারা আতংকে আছেন।

নিহত জঙ্গী সদস্য আব্দুল্লাহর ভাই আবুল কালাম ও আব্দুস সালাম জানিয়েছে, পড়ালেখার জন্য সে ঢাকায় গিয়ে পরিবারের সাথে ও জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। এমন ভাই আর কারও যেন না হয়, তার লাশ গ্রহন করতে চান না তারা।

ছেলে জঙ্গী, নিহত হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এই ঘটনা শোনার পর থেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন আব্দুল্লাহর মা মোসলেমা খাতুন। বিছানায় শুয়ে থেকেই জানালেন তার ছেলে ভাল ছিল, কিভাবে এই পথে আসল তা জানেন না তার মা ও পরিবার।

আর নিহতের বড় আব্বা জানালেন, লেখাপড়া শিখে সে আলেম হবে এমন ইচ্ছা ছিল তাদের। কিন্তু সেই ইচ্ছায় পানি ফেলে দিয়েছে সে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, তার ব্যবহার ভাল ছিল। পরিবারের সাথে দুরত্বের কারনে সে জঙ্গীর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। কিন্তু যেহেতু সে জাতির শত্রু, মানুষ হত্যা করে সেহেতু তার লাশ গ্রামের মাটিতে হোক এটা তারা চান না।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানায়, নিহত আব্দুল্লাহর নাম-পরিচয় জানার পরেই তার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও এক ভাইকে আটক করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এটি আটক নয়, ডিএনএ মিলানোর জন্য তাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। নবাবগঞ্জে আরও জঙ্গী সদস্য রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ জঙ্গী ছিল এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল না।

সোহরাব আলী ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পরিবার নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। তারা নওগাঁতেই বসবাস করতেন। সেখানে অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন আছেন। পরে পেশাগত কারণে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এসে বসবাস শুরু করেন তারা।

selim ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০