সংবাদ শিরোনাম
ফরিদগঞ্জে অবৈধ ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন চলছেই, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন | সিলেটে ডাক্তার দম্পতির বাসা থেকে তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার | কিশোরগঞ্জে আইপিএল নিয়ে জুয়ার আড্ডায় অভিযান, ১৩ জনের জেল-জরিমানা | নিষ্ঠুর পিতার বিকৃত রুচি! নিজ মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় পিতা কারাগারে | পুলিশ ও জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করতে হবে: জিএমপি কমিশনার | মির্জাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু | বাড়ছে ডেঙ্গু, ৩৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি | যমুনা নদী সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবিতে নাগরপুরে মানববন্ধন | সারাদেশে ১০ হাজার কি.মি. নদী খনন করা হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী | আশুলিয়ায় চাঞ্চল্যকর শিশু আসিফ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন |
  • আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নীলফামারীর আলোচিত তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় মা ও ‘প্রেমিক’ গ্রেফতার !

২:২১ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৮, ২০১৬ অপরাধ, দেশের খবর, রংপুর

atok-121433


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট- সাভারের হেমায়েতপুরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জের দুই ভাইসহ তিন কিশোর হত্যার ঘটনায় তাদেরই মা নাসরিন বেগম ও তার কথিত প্রেমিক কেরু মানিক ওরফে কেরু ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোরে সাভারের আমিনবাজার থেকে কথিত প্রেমিক ও কিশোরগঞ্জ থেকে মা নাসরিন বেগমকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান র‌্যাব-৪ এর উপাধিনায়ক মেজর মো. খুরশীদ আলম।

তিনি জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে কথিত প্রেমিক কেরু মানিককে আমিনবাজার থেকে আটক করা হয়। এরপর নিহত সহোদর কিশোরদের মা নাসরিন বেগমকে কিশোরগঞ্জ থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

মা নাসরিন বেগম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুই সহোদর ও তাদের ফুফাতো ভাইকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তারা দুজনেই এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। আজ দুপুর ১২টায় এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে শুক্রবার সাভারের হেমায়েতপুরে দুই কিশোরসহ তাদের ফুফাতো ভাই খুন হয়। পরদিন শনিবার সকালে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে প্রান্ত দুগ্ধ খামারের ভেতরে থাকার ঘরের একটি কক্ষ থেকে ওই তিন কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো- প্রান্ত দুগ্ধ খামারের কর্মচারী জিয়াউর রহমানের ছেলে নাছির (১৫) ও জীবন (১৬)। এবং তাদের ফুফাতো শাহাদাৎ (১৪)।

এদের সবার বাড়িই ছিল নীলফামারি জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা উত্তর জুম্মাপাড়া গ্রামে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এস আই জাকারীয়া হোসেন জানায়, গত ১৪ মে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে সাভার হেমায়েতপুরের প্রান্ত ডেইরী ফার্ম নামে একটি গরুর খামারে শ্রমিকদের থাকার ঘর থেকে দুই ভাই ও ফুফাতো ভাইসহ তিন তরুনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তারা তিনজন প্রতিদিনের মত রাতে খাবার খেয়ে ঐ কক্ষে ঘুমাতে যায়। সকালে অনেক ডাকাডাকি করে কোন শব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙ্গে তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করে। এছাড়া তাদের শরীরে কোন আঘাতের চিহৃ ছিল না।

তবে ঘটনার পর থেকে মায়ের আচরন সন্দেহজনক মনে হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। হঠাৎ করে নাসরিন বেগম তার বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে নীলফামারীর থেকে তাকে আজ গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, নাসরিন বেগমের সঙ্গে সাভারের আমিনবাজারের কেরু ডাকাত নামে একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই বিষয়টি নাসরিন ছেলেরা দেখতে পায় ও জানতে পারে। ফলে কেরু ও নাসরিন বেগম তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো রাতে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেয়। খাবারের  ফলে বিষ ক্রিয়ায় দুই সহোদর ও তার ফুফাতো ভাই মারা যায়। অন্যদিকে নাসরিনের স্বামী জিয়াউর রহমান কোন কারনে রাতে খাবার না খেলে বেঁচে যায়।

রহস্যজনক মৃত্যুর কারণে জনমনে সৃষ্টি হয়েছিল নানা প্রশ্নের। অবশেষে উদঘাটিত হলো সেই রহস্যের।