সংবাদ শিরোনাম
সাকিবের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় মাগুরায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ | বগুড়ায় ‘এক ঘণ্টার ডিসি’ হলেন পুষ্পা | প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় বিক্ষোভ | মির্জাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডে ট্রাক, অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু | যমুনায় ইলিশ ধরার অপরাধে ১৫ জেলের কারাদণ্ড, জব্দকৃত মাছ মাদ্রাসায় বিতরণ | রংপুরে সংঘবদ্ধভাবে কিশোরী ধর্ষণে এএসআইয়ের সম্পৃক্ততা আদালতে স্বীকার | অবশেষে ডিবির এএসআই রাহেনুল গ্রেফতার | ফ্রান্সের ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে মামলা করলেন এরদোয়ান | এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ম্যাক্রোঁর নালিশ | এবার ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিলেন জাকির নায়েক |
  • আজ ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

অনিশ্চয়তা আর অজানা আতংক মাথায় রাজধানীর লাখো ব্যাচেলর !

২:৪৪ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০১৬ আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ, স্পট লাইট

অপ্রত্যাশিত এমন বিড়ম্বনার মুখে ফের গ্রামেই কি ফিরতে হবে রাজধানী জুড়ে থাকা লাখো ব্যাচেলরদের ?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাহাঙ্গীর আলম,  সময়ের কণ্ঠস্বর-

রাজধানীতে আগাগোড়াই ব্যাচেলর মানেই বিড়ম্বনার জীবন।অনেক কস্টেও  মেলে না বাড়ি ভাড়া। বাড়ি ভাড়ার জন্য ঘুরতে ঘুরতে নোটিশ দেখে থমকে দাঁড়াতে হয়। লেখা থাকে ‘ব্যাচেলর ভাড়া দেয়া হয় না’। এই কস্ট কেবল যে শুধু ব্যাচেলরদের বেলাতেই তা কিন্তু নয়। ‘বিবাহিত ব্যাচেলর’রাও শিকার হন এমন বিড়ম্বনার । স্ত্রীকে গ্রামে রেখে ঢাকায় এলেই তারাও বিবেচিত হন ‘ব্যাচেলর’ হিসেবে।

এরপর অনেক কষ্টে বাড়ি ভাড়া মিললেও যত দোষ বেচারা ব্যাচেলরের! বারান্দায় যায়, উকি মারে, বান্ধবীকে বোন পরিচয়ে বাসায় নিয়ে আসে, রাতে দেরিতে ফেরে, উচ্চ শব্দে গান শোনে এমন শত অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে লেগেই থাকতো আগে থেকেই  । এবার ‘মরার উপর অনেকটা খরার ঘা’য়ের মতো রাজধানী জুড়ে বিভিন্ন বাসায় ভাড়া থাকা লাখো ব্যাচেলরের জীবনে নেমে এসেছে নতুন এক বিড়ম্বনা।

বাংলাদেশে চলমান জঙ্গী হামলা নিয়ে সতর্ক অবস্থায় পুলিশ প্রশাসন। রাজধানী সহ সারাদেশজুড়ে দিনরাত একের পর এক অভিযানে ধরা পড়ছে শত শত জঙ্গী। একইসাথে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। চলতি মাসেই রাজধানীর গুলশানে  দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও নৃশংসতম জঙ্গী হামলা সহ কদিন বাদেই ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়ার ঈদগাহ নামাযের মাঠে জঙ্গী হামলার পর নড়েচড়ে বসেছে সরকার ও প্রশাসন।

রাজধানীতে বাড়ি ভাড়া নেয়া বেশ ঝক্কির ব্যাপার। আর তা যদি হয় ব্যাচেলরদের জন্য, তবে তো কথাই নেই। বাড়ির মালিককে রাজি করানো যেমন কঠিন, তেমনি কঠিন নানা বিধিনিষেধের মধ্যে টিকে থাকা। সাম্প্রতিক সময়ের জঙ্গি হামলার পর ব্যাচেলরদের বাড়ি ভাড়া দেয়ার ব্যাপারে নতুন করে কড়াকড়ি বেড়েছে। এর মধ্যে গুলশানের হলি আর্টিজান, শোলাকিয়ায় হামলার পর পুলিশ দুজন বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করার পর বাড়ির মালিকদের মধ্যেও ব্যাচেলর ভাড়া দেয়া নিয়ে ভীতি জন্মেছে। সর্বশেষ কল্যাণপুরে একটি বাড়ির ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের অভিযানে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এবং বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তারের কারণে ভবিষ্যতে রাজধানীতে ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরো বাড়তে পারে।

চলমান এই অস্থিরতায় প্রশাসনের জঙ্গী নির্মুল অথবা দমনের টানা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সুশীল সমাজ সহ দেশের সাধারন মানুষ । তবে প্রশাসনের এমন অভিযানের ফলে দারুন বিপাকে পড়েছেন রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে থাকা সাধারন শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পেশার ব্যাচেলরেরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা বহু আগে থেকেই এমনিতেই নানাবিধ কারনে অথবা অকারনে ব্যাচেলরদের ”ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা ভাবতেন ” ।  বরাবরই ব্যাক্তিগত কারনে ব্যাচেলর দেখলেই ”নাক সিটকানোর”  মানসিকতা ছিলো বেশির ভাগ বাড়িওয়ালার। দেশের এমন অস্থির সময় পুলিশ প্রশাসনের অভিযান ও নজরদাড়ি থেকে বাড়িওয়ালারা চাইছেন নিরাপদ দূরত্বে থাকতে । আর বাড়িওয়ালাদের সেই চেষ্টাই অনেকটা ‘মরার উপর খড়ার ঘা’য়ের মতনই পড়ছে ব্যাচেলরদের উপর। সে সুত্রেই  আরও এক দফা ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হতে শুরু করেছে ঢাকায় থাকা লাখো ব্যাচেলর।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে চলছে ব্যপক আলোচনা। আইন শৃংখলা বাহিনীর জঙ্গী দমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়েই নিজেদের  নানা বিড়ম্বনা আর কস্টের কথা প্রকাশ করছেন ব্যাচেলরেরা।

bachelor

জানা গেছে, ইতমধ্যেই রাজধানীর কল্যানপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর সহ প্রায় সব এলাকাতেই বেশিরভাগ বাড়িওয়ালারা ব্যাচেলরদের নোটিশ দিয়ে দিয়েছেন যত দ্রুত সম্ভব বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য। এমনকি অনেক জায়গায় অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য দেয়া স্বত্বেও ব্যাচেলরদের বাসা ছাড়তে চুড়ান্ত নোটিশ দিচ্ছেন অনেক বাড়িওয়ালা।

এমন পরিস্থিতিতে একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি তার  ‘আশংকা’  প্রকাশ করে বলেছেন, (হয়তো অমুলক নয়) ”খুব দ্রুতই ব্যাচেলর শুন্য হয়ে যেতে পারে রাজধানী ঢাকা”।

রুবেল নামের একজন ভুক্তভোগী ব্যাচেলর চাকুরিজিবি অনেক আক্ষেপ নিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছেন,  তারা তিনজনে মিলে ধানমন্ডির ফ্রী স্কুল স্ট্রিটে একটি বাসায় থাকেন। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও পুলিশি ক্লিয়ারেন্সের পরেও বাড়িওয়ালা তাদের নোটিশ করেছেন বাড়ি ছাড়তে । রুবেলের অভিযোগ অন্যজনের কাছ থেকে বেশি ভাড়ায় চুক্তি হবার কারনেই বাড়িওয়ালা তাদের চাপে ফেলেছেন।

এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মানুষদের দাবী, অকারনেই  ব্যাচেলররা যেন এভাবে হয়রানীর শিকার না হয়,  সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের নজরদাড়ি বাড়ানো উচিৎ।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাচেলরদের নানা হয়রানী ও দুর্ভোগের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিশীতা মিতুর লিখা একটি স্ট্যাটাস সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো ।

যেই মানুষটা গ্রামে খেত খামারের কাজ করে তারও ইচ্ছা করে, আমার ছেলেটা বড় হোক, শিক্ষিত হোক। ভালো জায়গায় পড়াশোনা করুক। তাই নিজে যা আছে তা দিয়েই ছেলেকে এই শহরে পাঠায় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার জন্য।

গুলশানের নির্মম জঙ্গী হামলা ও  হত্যাকান্ড, শোলাকিয়ার ঘটনা এবং সবশেষ কল্যাণপুরের  অভিযান । সব মিলিয়ে দেশের অবস্থাটা আসলেই নাজুক । জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলছে এটা বেশ ভালো কথা, তবে এর জন্য সাধারণ ব্যাচেলর ছেলেগুলো কেন ভুক্তভুগি হবে?

ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর সহ প্রায় সব এলাকাতেই বাড়িওয়ালা ইতোমধ্যেই ব্যাচেলরদের নোটিশ দিয়ে দিয়েছে, বাসা ছেড়ে দেয়ার জন্য। অবশ্য এ শহরের বাড়িওয়ালারা বহু আগে থেকেই ব্যাচেলরদের ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা ভাবেন।

তো ধরে নিলাম দেশের অবস্থা খারাপ, এদিকে বাড়িওয়ালা নামিয়ে দিলো। ছেলেটা বাধ্য হয়ে কয়েকদিনের জন্য গ্রামে। কয়দিন পর ফিরে এসেও লাভ নেই। ভার্সিটিতে ১০দিন মিস মানেই সব শেষ! আমাদের বাপ দাদাদের বাপ দাদারা কৃষিকাজ করতো, খেত খামার করতো। আমাদের বাপ দাদারা সেই পেশাকে চাকুরী, ব্যাবসায় এনেছে। এমন পরিস্থিতে কি তাহলে আমরা আবার আগের অবস্থানেই ফিরে যাচ্ছি ?

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি!!!!!!! উরি বাবা, নিশ্চিত জঙ্গী!!! এমন ট্যাগ খাওয়ার চেয়ে বাপ তুই হাল চাষ কর, সেই ভালো!

আমাদের দেশ সুন্দর একটা দেশ। এ দেশে আমরা সুন্দর ভাবেই বাঁচতে চাই। জঙ্গি নামক জানোয়ার এই সমাজে টিকে থাকুক তা কিছুতেই মানা যায়না। কিন্তু কতিপয় নর্দমার কিটের জন্য হাজার হাজার ছেলে কেন ভুক্তভুগি হবে?! তাদের কি অধিকার নেই পরিবার থেকে আলাদা হয়ে ঢাকায় থেকে, প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ে শিক্ষিত হবার???

আমার এলাকায় অনেক ব্যাচেলর থাকে। আশে পাশের বাসাগুলোতেই ভর্তি ব্যাচলর। তাদের পরিমাণ এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তো ঢাকা ব্যাচেলর শূন্য হয়ে যাক।

এই ব্যাচেলরদের উপর নির্ভর করে ব্যবসা করেন পাড়ায় মুদি দোকানদারেরা। ডিম, আলু, পাউরুটি, সিগারেট ক্রেতাদের একটা বড় অংশই হল ব্যাচেলর। তাদের ব্যাবসা এবার চুকুক। ওহ আচ্ছা, এখন তো পাড়া মহল্লার দোকানও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে! কি মজা তাইনা?

বুয়া সমাজের একটা বড় অংশের কাজের স্থান হল মেস। তো ব্যাচেলররাই যখন থাকবেনা, তাদের কাজও ফিনিশ। রাজধানীর রেস্টুরেন্টগুলোর কাস্টোমারদের একটা বড় অংশ হল ব্যাচেলর। কারন গফ নিয়ে তারা সেখানে যায়। এবার তাদের ব্যাবসাও শেষ হোক!

নিশীতা মিতু তার অনুযোগ ও বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাচেলরদের বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে শেষ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ সম্বলিত একটি খোলা আবেদন দিয়ে ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
দেশের যে কোন বাজে পরিস্থিতিতে আপনি সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দয়া করে এবারও নিন। প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ুয়া জঙ্গীদের সবকটাকে আইনের আওতায় আনুন। আর নিরীহ প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া ব্যাচেলর ছেলেগুলোর জন্য কিছু করুন।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ে মানেই সে জঙ্গী নয়! মনে রাখবেন, এদের অনেকেরই বাপ দাদারা ৭১ এ যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলো। ওদের রক্তে ৭১ মিশে আছে। প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ুয়া মানেই বাপের বড় পোলা না। এদের অনেকেই ২টা শার্ট, ৩টা টি শার্ট আর ২টা প্যান্টেই ১২ সেমিস্টার কাটিয়ে দেয়।

আর কোনভাবেই যদি কোন সমাধান না হয়, তবে বরং এমন আইন করুন যে অনার্স বা ডিগ্রির জন্য অবশ্যই যে কোন ছেলে মেয়েকে বিবাহিত হতে হবে। তাহলে তাদের ব্যাচেলর উপাধিটাও ঘুচবে আর পড়ালেখাটাও চলবে।

cyber ফ্রান্সে বড় সাইবার হামলার ঘোষণা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০

selim ইরফান সেলিম কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২০