সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবী করায় এলাকা ছাড়া মনপুরার তরুনী


❏ শুক্রবার, জুলাই ২৯, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি : স্বামীর অধিকার আর শিশু সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবি করায় এলাকা ছাড়তে হয়েছে ভোলার মনপুরা উপজেলার চরফৈজদ্দিন গ্রামের এক তরুণীকে। ওই গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে তরুণীর বাবা-মাকেও। দরিদ্র ও অসহায় এ পরিবারের সাহায্যে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদেরকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব মিথ্যা মামলা ও হয়রানী থেকে রেহাই পেতে মঙ্গলাবার মাবনবন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার দরিদ্র রিক্সা চালক মোঃ ফারুকের মেয়ে লিয়া বেগমকে ২০১৫ সালের জুন মাসে গোপনে বিয়ে করেন একই এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম। লিয়া বেগম গর্ভবতী হয়ে পড়লে নানা কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার পায়তারা শুরু করেন স্বামী আবদুর রহিম। চার মাস আগে লিয়া বেগম এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে লিয়ার পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে শালিস ডাকেন। শালিস বৈঠকে আবদুর রহিম বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করলে হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শারিয়ার চৌধুরী দিপক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধায়নে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত দেন। এর পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যায় আবদুর রহিম।

আবদুর রহিম আত্মগোপনে থাকলেও তার পরিবার এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও সাবেক মেম্বার আবু জাফরের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ লিয়ার পরিবারকে এলাকাছাড়া করতে নানা ষড়যন্ত্র শরু করে। আবদুর রহিমের বোন মাছুমা খাতুনকে বাদী করে লিয়ার বাবা মোঃ ফারুক, মা হালেমা খাতুন ও ভাই রিয়াজসহ স্থানীয় ১৫ জনকে আসামী করে গত ২৪ জুলাই মনপুরা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এছাড়া গত ১৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের আরেকটি মামলায় লিয়ার বাবাকে আসামী করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লিয়ার পরিবার ওইসব মামলার অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক বলে দাবি করেন।

vola-monpura-toruni

অপরদিকে গত ২৭ জুলাই লিয়া বেগম বাদী হয়ে সন্তানসহ তার অধিকার ও নিরাপত্তা চেয়ে আবদুর রহিমসহ ৩জনকে আসামী করে মনপুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। আদালত এ মামলায় অভিযুক্ত আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন খান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছেন, আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আদালাত থেকে কোন গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় আসেনি। গ্রেফতারি পরোয়ানা পেলে ব্যবস্থা নিব ।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন