• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

রংপুরে ১১দিন পর টয়লেট থেকে,স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার


❏ শনিবার, আগস্ট ৬, ২০১৬ আলোচিত, রংপুর

13942198_313323575678720_1191324061_n


শাহরিয়ার মাম,রংপুর ব্যুরো:

নিখোঁজের ১১দিন পর শুক্রবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর ভুরারঘাট থেকে অস্টম শ্রেণির ছাত্র সজল চন্দ্র সবুজের লাশ তার বন্ধুর বাড়ির টয়লেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রংপুর জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার জানান, গত ২৬ জুলাই থেকে নগরীর মধ্য ফতেহপুর এলাকার ধিরেন চন্দ্র ও শংকর চন্দ্রের পরিবারের আট সদস্য নিখোঁজ ছিল। শুক্রবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি সংখ্যালঘু ওই পরিবারদুটির বাড়িতে যান।

জেলা প্রশাসক জানান, শংকর মদকের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয়ার সময় দেখতে পান শংকরের বাড়ির ল্যাট্রিনে নতুন মাটি। এতে সন্দেহ হলে চকিদার ডেকে মাটি খুড়ে দেখা যায়, সজলের পা উপরের দিকে এবং মাথা নিচের করে রাখা। সাথে সাথে পুলিশকে খবর দিয়ে লাশটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, সুপল ফতেহপুর ভুরারঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্টম শ্রেণির ছাত্র। ওই ঘটনায় বাড়ির মালিক শংকর চন্দ্র রায়, তার মা যমুনা রানি সরকার, ভাই পরিমলের স্ত্রী স্বরস্বতী এবং পাশের বাড়ির জোসনা রাণিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, শংকরের বড় ছেলে দীপ্ত সুপলের সাথে একই ক্লাসে একই স্কুলে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, ফতেপুর গ্রামের মৃত মদকের পুত্র শংকর মদক (৪৫) ও পরী মদক (৩৮)। তারা জন্ম সূত্রে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। পেশায় রাজমিস্ত্রী শংকর স্ত্রী জলেশ্বরী, ছেলে দীপ্ত (১৫) ও দিপুকে (১২) নিয়ে তিনি ১৮ শতক জমির ওপর পৈত্রিক বাড়িতে বসবাস করতেন। একই বাড়িতে ছোটভাই গ্যারেজের মিস্ত্রী পরী মদক স্ত্রী স্বরসতি, তিন বছরের ছেলে অপুকে নিয়ে বসবাস করতেন। গত ২৭ জুলাই সকালে এই পরিবারের সাত সদস্য নিখোঁজ হয়ে যায়। বাড়িতে শুধু থাকে সত্তর বছর বয়সী মা যমুনা রানী।

তিনি আরও জানান, তার ছোট ছেলে তৈলক্ষ্য ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হন। তখন তার বয়স ছিল সাত বছর। ওসি আরও জানান, শংকরদের প্রতিবেশী ধীরেন চন্দ্রের ছেলে সজল ওরফে সবুজ নিখোঁজ হয়েছে গত মঙ্গলবার ২৬ জুলাই সকালে। সজলের পিতা ধীরেন চন্দ্র জানান, শংকরের পুত্র দীপ্তের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়তো সজল। মঙ্গলবার সকালে শুধু একটি ট্রাউজার পড়ে খালি হাতে বের হয় সজল। সঙ্গে কোনো টাকা পয়সাও নিয়ে যায়নি। সে তার মোবাইলফোনটি রেখে গেছে। তিনি এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করেছেন। সদ্যপুস্করনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহেল রানা জানান, রহস্যজনক এই নিখোঁজের ঘটনায় শংকরের বাড়ি থেকে সজলের লাশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে ওই ঘটনায় পরিবারের লোকজন জড়িত। তিনি প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন