• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

সারা দিন যায় খুব কষ্টে আর ব্যস্ত সময়ের মাঝে খাবারের সময়টাও কম – আব্দুল কদ্দুস


❏ শনিবার, আগস্ট ৬, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সারা দিন যায় খুব কষ্ট আর ব্যস্ত সময়ের মাঝে, খাবারের সময়টাও কম। আজ প্রায় ৪ থেকে ৫ বছর ধরে দোকানদারী করে আসছি। কথা গুলো বলছিলেন তরুন উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী শারীরিক প্রতিবন্ধি আব্দুল কুদ্দুস।

poti

কুদ্দুসের ছোট থেকে বেড়ে ওঠা টাংগাইলের মধুপুর উপজেলার অরখোলা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। সংসারের অভাব অনটনের কারনে লেখা পড়া করতে পারেনি। নেমে যায় জীবন যুদ্ধে। বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র থেকে নিজের নাম স্বাক্ষর, হিসাব টুকু অর্জন করেন।

ভ্যান ও দিন মুজুরী ছিল তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। ২০০৯ইং সালে শুরু করেন নতুন জীবন। তাদের মাঝে একে একে দুই মেয়ে সন্তানে আগমন ঘটে। সামান্য দিন মুজুর ও ভ্যান চালিয়ে স্ত্রী, ২ সন্তান সহ ও বাবা-মার খরচ বহন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। বাস্তবতা ছিল তার কাছে নিছির্দ্র অন্ধকার।

তিনি জানান, তখন আল্লাহ রহমতে আরেক জন তরুন ব্যবসায়ী কাবিল হোসেন সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে তার নিজের মনোহারী দোকানে কর্মচারী হিসেবে রাখেন। তারপর থেকে ভালোই চলছিলো কদ্দুসের সংসার। ২০১৪ইং সালের ৪ এপ্রিল মর্মান্তীক এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ৫ মাস চিকিসা পর ডান পা হাড়ান।

গ্রামবসী, আত্বীয় স্বজন ও বন্ধদের সার্বিক ও আর্থিক সহযোগীতায় এক পা হারিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেন। তার এই অবস্থায় দোকানদার কারিল হোসেন নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগীতা করেন এবং সুস্থ্য আসার পর কদ্দুসকে আবারো কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন। তারপর এক পা দিয়েই শুরু করেন জীবন যোদ্ধ। শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়।

এভাবে দিন যায় মাস যায় ঘুরে আসে বছর। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বদলে যায় তার কর্মের বুদ্ধি মত্তা। নিজে নিজে কিছু একটা করার সিদ্ধান্ত নেয় কদ্দুস। যেই ভাবনা সেই কাজ, ৫-৬ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ৭/৮ মাসে উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামে শান্তির বাজার মোড়ে মনোহারী দোকান দেন। এলাকাবাসী থেকে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জাঙ্গালিয়া গ্রামে শান্তির বাজার মোড়ে আঃ কুদ্দুসের দোকান ভালো চলছে।

এ ব্যাপারে আব্দুল কদ্দুস সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, স্ত্রী, ২ মেয়ে নিয়ে সুখে আছে। আগের চেয়ে তারা বর্তমানে ভালো চলছে। ২ মেয়েকেই ভালো একটি মাদ্রাসায় পড়াশুনা করাচ্ছে। তাই সে এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী।

তবে তার অন্তরের মধ্যে এই ব্যবসাকে প্রসার ঘটানোর জন্য প্রতি দিন স্বপ্ন বীজ বুনে যাচ্ছেন। ইচ্ছা বড় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দার করানো। তার মতো আরো অনেকেই কাজ করবে। কাজ করে তারা তাদের সংসার থেকে দুর করবে সেই ভয়ানক অভাব নামক জিনিসটা।

তিনি আরো বলেন, অসুস্থ্য সময় আমাদের ওয়ার্ড মেম্বার বিভিন্ন আশা দিয়েও পরবর্তিতে কোন খোঁজ খবর নেইনি। আমাকে সরকারী প্রবিন্ধি কার্ড করে দিতে চেয়েও দেয় নাই। আব্দুল কদ্দুস তার গ্রামবাসী, আত্বীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধবের প্রতি কৃতজ্ঞ জানান। তাদের ভালবাসা আর দোয়া নিয়া বেঁচে থাকতে চাই।