• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

চরফ্যাশনে ‘কালেমার দাওয়াত’ পল্লী নিয়ে নানা শঙ্কা!


❏ শনিবার, আগস্ট ৬, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এস আই মুকুল, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের কুলসুমবাগ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কথিত সংগঠন ‘কালেমার দাওয়াত’ পল্লীতে বর্তমানে অবস্থানরত ‘সাথীদের’ হালনাগাদ তথ্য নেই এর প্রতিষ্ঠাতা আমীরের কাছে, এমনকি পুলিশের কাছেও। উক্ত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও আমীর বর্তমানে চোখের দৃষ্টশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তাকে স্থানীয়রা একজন ভালো মানুষ হিসেবে মানলেও তার সরলতার সুযোগ নিয়ে সেখানে জঙ্গিসংশ্লিষ্টরা আশ্রয় নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।polli pic

জানা গেছে, চরফ্যাশন কলেজের কৃষি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবদুল মজিদ তাবলীগ করতে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত প্রচারের জন্য প্রায় ১৫ বছর আগে ‘কালেমার দাওয়াত’ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। চরফ্যাশনের কুলসুমবাগে ৫ টি ভিন্ন ভিন্ন পয়েণ্ট ১০টি দ্বিতল ভবনে বর্তমানে প্রায় সাতশত নারী পুরুষ সংগঠনের ‘সাথী’ পরিচয়ে এখানে বাস করছে।

শনিবার (৬ আগস্ট) সরজমিনে ‘কালেমার দাওয়াত’ পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা প্রায় সাতশত নারী পুরুষ এখানে থাকছে । অনেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে আসেন এবং বেশ কয়েকদিন থেকে চলে যান । আবার কেউ কেউ দীর্ঘদিন যাবত এখানে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন । অনেকেই এখানে থেকে ভ্রাম্যমান ব্যবসাও করছেন । কালেমার দাওয়াত পল্লীতে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ভবনে বসবাসকারীরা এখানে গ্রুফ করে তাদের রান্না বান্না ও খাওয়া দাওয়া করে থাকেন । চরফ্যাশন এলাকার সকলের কাছে ভাল মানুষ খ্যাত ‘কালেমার দাওয়াত’র প্রতিষ্ঠাতা ও আমীর অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবদুল মজিদ এখন চোখেও দেখেন না । পল্লী একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে তিনি থাকেন ।

আবদুল মজিদ জানান, নবী করিম (সা:) ইসলামের দাওয়াত প্রচার করতেন । অনেকেই এটা করেন না, তাই তিনি তার ভক্তদের দিয়ে এটা করাচ্ছেন । এ পল্লীতে প্রতিষ্ঠিত মসজিদে তাকওয়ায় প্রতিদিন জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজের পর ধর্মীয় বয়ান হয়, সেখান থেকে সাথীরা জ্ঞান নিয়ে ইসলামের দাওয়াত প্রচার করে থাকেন । তিনি আরও জানান, দেশের সব জেলায় তার ভক্ত রয়েছে, তারা এখানে আসেন এমনকি দেশের বাইরে থেকেও আসেন । সাথীদের নাম ঠিকানাসহ তালিকা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকমাস পূর্বে থানা পুলিশ একবার নিয়েছিল । তবে বর্তমান হালনাগাদ তালিকা নেই। তিনি আরো জানান, তথাকথিত আইএস ইসলামের শত্রু। ইসলাম শান্তির ধর্ম । ইসলামে জঙ্গিবাদ ও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না ।

পল্লীতে বসবাসকারী ‘সাথী’ ব্রাক্ষ্ণবাড়িয়ার মোঃ লোকমান (২৩), বানড়িপাড়া বরিশালের মোঃ রবিয়া (২৪), পঞ্চগড়ের আবদুল আজিম (৩৪) জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবত এখানে পরিবার নিয়ে থাকছেন। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল এনে এখানকার দোকানে পাইকারি এবং বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করেন। তাদের ভাষায় যখন তারা তাদের পণ্য বিক্রি করতে যান, তখন তারা ইসলামের প্রচার করে থাকেন। তাদের মত অনেকেই এখানে থেকে ছোট ব্যবসা করছেন।
চরফ্যাশন পৌরসভা মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, মজিদ স্যার ভাল মানুষ, আমাদের এলার্ট থাকতে হবে তার সরলতার সুযোগে কোন দুস্কৃতিকারী বা জঙ্গি যেনও এখানে আশ্রয় নিতে না পারে।

এ ব্যপারে চরফ্যাশন থানার ওসি এনামুল হক জানান, কলেমার দাওয়াত পল্লীর বিদেশীদের তালিকা থানায় আছে। কিন্তু সাথীদের হালনাগাদ কোন তালিকা নেই ।