• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

পলাশবাড়ীর পূর্ব কুমারগাড়ী বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে চলছে পাঠদান, দুর্ঘটনার আশংকা


❏ রবিবার, আগস্ট ৭, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

আঃ খালেক মন্ডল, গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্ব কুমারগাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অতি পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান। যে কোন মুহুর্তে বিদ্যালয়টির ভবন ধ্বসে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অথচ কর্তৃপক্ষের নজর নেই।Gaibandha PHOTO-01

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ১৯৭৮ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়টির তিনটি শ্রেণী কক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ নিয়ে বিদ্যালয়টি ভবন নির্মাণ করা হয়। যা এখন শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুকিপূর্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই শ্রেণী কক্ষগুলোর ছাদ চুঁইয়ে চুঁইয়ে কক্ষের ভেতর পানি জমে। অথচ বৃষ্টির পানির মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করতে হচ্ছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন জানান, বৃষ্টি আসলে আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাশ বন্ধ রাখা হয়। পড়ে ছাত্রছাত্রীদের অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে বৃষ্টির সময়ে এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া বিঘিœত হয়। তবে তিনি আরও উলে¬খ করেন, বিদ্যালয়টি একবারে ব্যবহারের অনুপোযোগি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান জানান, বিদ্যালয় ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় ভবনটি ব্যবহার অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। এব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন সহায়তা পাওয়া যায়নি। ছবি সংযুক্ত

সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরবর্তী চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, ঘরে ফেরা বন্যার্তদের দুর্ভোগ

বন্যা পরবর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় চরাঞ্চলের বানভাসি পরিবারগুলো আশ্রয় কেন্দ্র, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি স্বজনদের বাড়ি হতে নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু বন্যার স্রোতে রাস্তা-ঘাট ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার কারণে পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বানভাসিরা। পানি কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও নৌকা এবং কলার গাছের ভেলা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। গৃহপালিত পশু-পাখি এবং গৃহস্থালী মালামাল অতি কষ্টে বাড়ি নিতে হচ্ছে।
বিভিন্ন চরাঞ্চল ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা-ঘাট এবং ব্রীজের কারণে এখনও অনেক এলাকার মানুষকে বাঁশের সাঁকো, কলার গাছের ভেলা, ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। সুন্দরগঞ্জের তারাপুর চরে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই এলাকার বানভাসিরা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোন মতে চলাফেরা করছে। এছাড়া তালুক বেলকা গ্রামের সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই এলাকার বানভাসিদের চলাচল মারাতœক ভাবে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ঘরে ফিরে আসা মানুষদের জন্য এই মহুর্তে কর্মসংস্থান, খাদ্য, পানীয়জল, গবাদি পশুর খাবার, পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেটসহ ঔষধ পত্রাদি জরুরি হয়ে পড়েছে। তাছাড়া যেসব গভীর, অগভীর নলকুপ পানিতে ডুবে গিয়েছিল সেগুলো সংস্কার অত্যন্ত জরুরী। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে চর্মরোগ, সর্দি কাশিসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বেলকা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৬টি ওয়ার্ডের সবগুলো সড়কেই বন্যার ¯্রােতে ধ্বসে গেছে। যার কারণে এক চর হইতে অন্য চরে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নবী সরকার জানান, বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা-ঘাট, কালভাট-সেতু চিহ্নিত করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য সংশি¬ষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। ছবি সংযুক্ত