• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

যদি মোকো কায়ো নেকাপড়া করাইল হয়,তাইল মোর স্বপ্ন আইজ পুরন হইল হয়..!


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর, স্পট লাইট

13900743_315008718843539_1718434368_n


শাহরিয়ার মিম, রংপুর:

লেখাপড়া শিখে বড় হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না পীরগঞ্জ উপজেলার মেরিনার (১০)। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসে বাসে বাদাম ও চানাচুর বিক্রি করে বেড়াচ্ছে সে। শুক্রবার মিঠাপুকুর বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় বাসের যাত্রীদের কাছে বাদাম-চানাচুর বিক্রির সময় মেরিনার সাথে কথা বলে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার উজিরপুরের ঝালমুড়ি বিক্রেতা মমতাজ মিয়া ও শেরিনা বেগমের ৫ সন্তানের মধ্যে ৪র্থ কন্যা মেরিনা। মেরিনার বড় ২ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আরেক বোন ঢাকায় চাকুরি করছে। ছোট ভাই স্কুলে লেখাপড়া করে। অভাব-অনটনের সংসারে পিতা মমতাজ উদ্দিন পারছে না সন্তানদের লেখাপড়া করাতে।

তাই সংসারের কিছুটা সহযোগিতা করার জন্য কন্যা মেরিনা আক্তারকে লাগিয়ে দিয়েছেন বাদাম ও চানাচুর বিক্রির কাজে। যে বয়সে তার হাতে বই-খাতা থাকার কথা ছিলো সেই বয়সে অভাব-অনটনের সংসারে বাস, ট্রেনসহ স্কুল-কলেজের সামনে বাদাম-চানাচুর বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। মেরিনা জানায়, খুব আশা ছিল লেখাপড়া করি অনেক বড় হইম। চাকরি করিম। বাড়ির অভাব দুর করিম। ছোট ভাইক লেখাপড়া করাইম। কিন্তু অভাবের কারণে আজ মোক বাদাম-চানাচুর বেচা লাগেচোল। সে জানায়, ৩ বছর বয়োসত মোর চোকত বিষফোঁড়া উঠে।

টাকা না থাকায় বাপ মোর চিকিৎসা কইরবার পায় নাই। মোর চোকটা নষ্ট হয়ে গেইল। মুই আর ওই চোক দিয়া কিচুই দেইকপার পাও না। তারপর মুই বাপক কোচনু, মুই নেকাপড়া করিম। সবার সাতে স্কুলত যাইম। অনেক বড় হইম। চাকরি করিম। কিন্তু কায়ো মোক স্কুলত যাবার দেয় নাই। বাপ মোক কয়, হামার গরীব মাইনসের নেকাপড়া শিকি কাজ নায়। মোর হাতোত বই-খাতা না দিয়ে ওমরা মোক বাদাম বেচপার পাটাইচে। মোর স্বপ্ন স্বপ্নই থাকি গেইল। সে জানায়, মুই শুনচু প্রধানমন্ত্রী সবাক নাকি বই-খাতা দেয়। হামার মতো গরীব মাইনসের ছাওয়া-পোয়াক নাকি এমনি পড়ায়। কোনো টাকা-পয়সা নেয় না। যদি মোকো কায়ো নেকাপড়া করাইল হয় মোর স্বপ্ন আইজ পুরন হইল হয়।