• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ফেসবুক স্ট্যাটাসে ভুল তথ্য দেওয়ায় জরিমানা, ব্যাবহারকারীরা সাবধান!


❏ বুধবার, আগস্ট ১০, ২০১৬ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, স্পট লাইট

প্রযুক্তি ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর – ফেসবুকে অন্য কাউকে অপমান করে কোনো কমেন্ট করা বা কিছু পোস্ট করা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কারোর ওপর রাগ হলে বা বিরক্তি বোধ করলে অনেকেই সেই ক্ষোভ উগরে দেন ফেসবুক কমেন্ট কিংবা স্ট্যাটাসে।

ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ডেভিড স্কটও তেমনটাই করেছিলেন। কিন্তু তার পরিণাম যে এমন ভয়াবহ হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি।

৭৪ বছরের কেনেথ রথ ছিলেন একটি কলেজের উপ-অধ্যক্ষ। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরে স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসে দু’টি মোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। দিব্যি সুখেই কাটছিল জীবন। কিন্তু সমস্ত কিছু গোলমাল করে দেয় ইলেকট্রিশিয়ান ডেভিড স্কটের কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট। সেই পোস্টগুলোতে ডেভিড দাবি করেন, নিজের মোটেলগুলোতে জেলপালানো আসামীদের ঠাঁই দিচ্ছেন কেনেথ, তাছাড়াও শিশুদের দিয়ে চালানো হচ্ছে যৌন ব্যবসা।

এই পোস্ট দেখে হতভম্ব হয়ে যান কেনেথ। কারণ নিজের মোটেলে মাঝেমধ্যে গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় দিলেও, অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া কিংবা শিশুদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানোর কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। তাছাড়া ডেভিড নামের এই ব্যক্তিকে তিনি চেনেন না।

fb stetus

কিন্তু ফেসবুকের অন্য ব্যবহারকারীরা তো সেকথা জানেন না। ফেসবুকে শেয়ার হতে থাকে ডেভিডের পোস্ট। ফলে ক্রমশ কেনেথের মোটেল দু’টিতে লোক আসার সংখ্যা কমতে থাকে। তারপর শুরু হয় ফোনে হুমকি এবং গালাগালের বন্যা। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত কেনেথ ফেসবুকে ডেভিডকে অনুরোধ করেন, তিনি যেন অবমাননাকর ওই কথাগুলো প্রত্যাহার করেন এবং মিথ্যা বলার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু বৃদ্ধের অনুনয়ে মন গলেনি ডেভিডের। তিনি তার পোস্টটি প্রত্যাহার তো করেনইনি, উল্টো কেনেথের স্ত্রীকে কারা যেন ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া শুরু করে।

এই সামাজিক অবমাননা সহ্য করতে পারেননি কেনেথ। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে মাস ছয়েক শুয়ে থাকতে হয় তাকে। তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র বসতি গড়েন। কিন্তু বাড়ি বদলালেও মনের জোর হারাননি কেনেথের পরিবার। কেনেথের স্ত্রী-পুত্র স্থির করেন, রুখে দাঁড়ানো উচিত। তারা নিউ সাউথ ওয়েলসের আদালতে ডেভিডের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

আদালত পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করার পরে রায়ে জানিয়েছে, ডেভিডের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন। ডেভিডকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের জন্য কেনেথে এবং তার পরিবারকে যে চরম মানসিক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, তার জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ দেড় লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দিতে ডেভিডকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতে যখন ডেভিডকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে ওই অবমাননাকর পোস্টগুলো করেছেন ফেসবুকে, ডেভিড জানান, তিনিও কেনেথকে চেনেন না। কিন্তু লোকমুখে শুনেছিলেন, কেনেথের মোটেলগুলোতে অবৈধ কাজকর্ম চলছে। স্রেফ তারই ভিত্তিতে ফেসবুকে ওই পোস্ট তিনি করেন। কিন্তু চিন্তাভাবনা না করেই ফেসবুকে কাউকে অপমান করার যে এরকম ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা তিনি দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি।