• আজ বুধবার, ১২ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৬ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

কুড়িগ্রামে ১৫ দিনে দুধ কুমর নদের ভাঙ্গনে ৪০টি পরিবার বসতভিটা হারা


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভয়াবহ বন্যার পর এবার শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন। গত ১৫ দিনে নাগেশ্বরীর কালিগঞ্জ ইউনিয়নের শালমারা, ওয়াপদা, কাচিরভিটা, কুমরিয়ার পাড়, বলদের ভিটা, উত্তর ওয়াবদা ও ধনীর ভিটার ৮টি গ্রামের ৪০টি বসতভিটা আবাদি জমি নদের পেটে বিলীন হয়ে গেছে। নদের ভাঙ্গনে ভিটাহার ওই ৪০টি পরিবার এখন রাস্তার পাশে ও পার্শ্ববর্তী বাঁধে কোন রকমে ঘড় তুলে দিনাতিপাত করছেন।

bosot-vita

এলাকাবাসীরা জানায়, বন্যার পর নদের ভয়াবহ ভাঙ্গনে বেশি ক্ষতি হয়েছে আবাদী জমি। নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, নদের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ ৪০টি পরিবারের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসনে দেয়া হয়েছে। সরকারী ভাবে প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি হারে জিআর এর চাউল দেয়া হয়েছে।

কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ধনীর ভিটা গ্রামের বসতবাড়ী হারা শামসুর হক জানান, বন্যার পানি নামার পর দুধকুমার নদের প্রচন্ড ভাঙ্গনে গত ১৫ দিনে এখানকার ৭টি বাড়ীর ভিটামাটি নদের কবলে চলে গেছে। কুমরিয়ার পাড় গ্রামের মধুসুদন চন্দ্র রায় জানান, আমার অনেক জমা-জমি ছিল। সবই এই নদী খেয়ে ফেলেছে। আমার ছেলেরা এখন দিন মজুরী দিয়েও ভাত পায় না।

কালিগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ওয়াবদা পাড়ের বৃদ্ধা জরিনা বেগম বলেন, হামার থাকার জায়গা নাই। বাধ্য হইয়া রাস্তাত থাকি। বলদেরভিটা গ্রামের কুলসুম বেগম জানান, নদী হামার সব শেষ করে দিছে। বাড়ি-ঘর, জমি-জমা সব কিছু। থাকার জায়গা নাই। মানুষের জায়গায় কোন রকমে ধাপড়ি ঘর তুলি আছি। সরকারের নিকট হামরা আর কিছুই চাই না। সরকার যেন হামার নদীটা বাধি দেয়।

কালিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাক্তন চেয়ারম্যান নুর ইসলাম মিয়া জানান, দুধ কুমারের ভাঙ্গন রোধে বার বার সরকারের বিভিন্ন মহলে লেখা-লেখি করেছি, দেখা করেছি। কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। শুধু আশ্বাস দিয়ে আসছে। গত এক বছরে আমার ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ তাদের সব কিছু হারিয়ে পথে বসেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড পউর উপবিভাগ-৩ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মতিয়ার রহমান মোবাইল ফোনে জানান, দুধ কুমর নদটি কুড়িগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে হলেও এটি লালমনিরহাট জেলার আওতায়। কালিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকার একটি স্টিমেট করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলে নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।