• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

দালাল চক্রের মাধ্যমে সিডিএম হাসপাতালের অতিরিক্ত অর্থ আদায়


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অযৌক্তিক পরীক্ষা এবং হাসপাতালের অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনেরা। সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হবে না, উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাত্র ১০-১২ হাজার টাকায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে – এমন প্রলোভন দেখিয়ে রোগীক সিডিএম হাসপাতালে রবিউলকে ভর্তির ব্যবস্থা করে দালাল মোস্তাফিজ। এভাবে প্রতিদিন আইসিইউ এর ১২ থেকে ১৮ হাজার টাকা বিল হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।

otho

একইভাবে নওগাঁর মহাদেবপুরের মহিষবাথান থেকে আসা এক রোগী স্বজন বেলাল হোসেনের অভিযোগ, তার ছেলে রবিউল ইসলাম (২০) গত ৫ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রোগীর বাবা বেলাল বলেন, দালাল মোস্তাফিজ লক্ষীপুর সংলগ্ন সিডিএম হাসপাতালে রোগী ভর্তির জন বিভিন্ন প্রলোভন দেখাচ্ছে। ভুক্তভোগী বেলাল আরো জানান, রবিবার সকাল ৮ টার সময় রবিউলের মস্তিস্কের অপারেশন করা হয়। ঘন্টা ব্যাপী অপারেশনের পর রোগীর সুস্থতা নিশ্চিত করে ডাক্তার এবং কর্তব্যরত নাসরা। আর অপারেশন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। তবে এ টাকার কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।

অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার দুইদিন পর মঙ্গলবার সিডিএম হাসপাতাল থেকে জানানো হয় রোগীর অবস্থা খুব খারাপ ফুসফুসে সমস্যা হয়েছে পরীক্ষা করতে হবে। আবারো রক্ত পরীক্ষা ও ফুসফুসের জন্য বুকের এক্সরে করতে দেয়া হয়। রোগীর অবস্থা ভালো না দেখায় বাধ্য হয়ে রবিউলের বাবা সে পরীক্ষাগুলো করতে বাধ্য হন। নানা পরীক্ষা, হাসপাতালের ফি, আইসিইউ ফি, ঔষুধ বাবদ রোগীর স্বজনদের ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। এরপর টাকার অভাবে চিকিৎসার খরচ না যোগাতে পেরে রোগী ছাড়িয়ে নিতে চাইলে সিডিএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনের কাছে আরো ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। তাদের দাবি মেডিসিন এবং হাসপাতাল ফি বাবদ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যেতে পারবে।

রবিউলের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ইচ্ছা করে আমাদের হাসপাতালে জিম্মি  করে রেখেছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে প্রতিদিন গুনতে হয় হাজার হাজার টাকা। চিকিৎসার নামে বেসরকারী হাসপাতার গুলো অর্থ বানিজ্য করছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।