• আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

কে এই বিজ্ঞানী ড.মেঘনাদ সাহা..?


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০১৬ গুণীজন সংবাদ, স্পট লাইট

14012144_755672094536414_957127958_n


আজিজুল হাকিম বাদল, সময়ের কণ্ঠস্বরঃ

১৮৯৩ সালের ৬ই অক্টোবর বর্তমান গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াতলী গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে তার জন্ম। জগন্নাথ সাহা ও ভুবনেশ্বরী সাহার ৫ম সন্তান ছিলেন তিনি। মেঘনাদ সাহার শিক্ষা জীবন শুরু হয় তার গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষকরা তখনই আচ করতে পেরেছিলেন ছেলেটির মেধা অসাধারণ। গ্রামের পাঠশালায় লেখাপড়া শেষ হলে তার পিতা চেয়েছিলেন মেঘনাদ সাহাকে তার সাথে মুদি দোকানে বসাতে। কিন্তু মেঘনাদ সাহা লেখাপড়া করতে চাইলে তার পিতা আর বাধাঁ দেননি। বাড়ির আশেপাশে কোন স্কুল না থাকায় গ্রাম থেকে সাত মাইল দূরে শিমুলিয়া এসপি হাই স্কুলে ভর্তি হন। প্রথমে কিছুদিন এই সাত মাইল পথ পায়ে হেটে তাকে যাতায়াত করতে হত। পরে দাদা জয়নাথ সাহা শিমুলিয়া গ্রামের ডাক্তার অনন্ত কুমার দাসের বাড়িতে বাড়ির কাজকর্ম করে দেওয়ার বিনিময়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

১২ বছর বয়সে তিনি মাইনর পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগে প্রথম হয়ে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলার গর্ভনর হন। লর্ড কার্জন বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করার ফন্দি আটেন। শুরু হয় বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন। এই আন্দোলনে তিনি জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা কলিজিয়েট স্কুলে স্যার বামফিল্ড ফুলার স্কুল পরিদর্শনে এলে স্কু্েলর ছাত্ররা তার প্রতি অসম্মান দেখানোর জন্য খালি পায়ে স্কুলে আসে এবং বিক্ষোভ করে এই আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দান করেন। ফলে তাকে সহ আরো অনেক ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি পড়েন মহাবিপাকে। ভাল ছাত্র হিসেবে তার নামডাক থাকায় ঢাকার বালিয়াটি গতিনি স্কুলে ভর্তি হন। ১৯০৯ সালে এন্ট্রাস (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় তৎকালীন পূর্ববাংলার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। ইংরেজী, বাংলা ও অংকে সর্বোচ্চ নাম্বার পান।

এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। এখানেও তিনি কৃতিত্বের পরিচয় রাখেন। ১৯১১সালে আইএসসি (ইন্টারমিডিয়েট) পরীক্ষায় তৃতীয়স্থান লাভ করেন। ১৯১৩ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজ হতে বিএসসি গণিত বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন। ১৯১৫সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিত বিষয়ে এমএসসি প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন।এসময় জার্মান ও ইউরোপে পদার্থ বিদ্যার অনেক নতুন দিক আবিষ্কার হলেও তা ভারতবর্ষে প্রচার হয়নি। কারণ জার্মান ভাষা শেখা শিক্ষকের সংখ্যা ছিল খুবই কম। আলবার্ট আইনস্টাইন, নীলবোরস প্রমুখ বিজ্ঞানীদের নাম জানা থাকলেও তাদের আবিষ্কারের বিবরণ জানা ছিলনা। এমতাবস্থায় তিনি এক বছর ধরে জার্মান ভাষা শিখলেন। পরবর্তিতে তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।

১৯১৬ সালে স্যার আশুতোষ মুখার্জীর আহবানে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট গণিত বিভাগে গবেষক হিসেবে যোগদান করেন এবং তার উপর বিভাগটির দায়িত্ব দেওয়া হয়। গবেষণায় তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দেন। এক বছরের মধ্যে তিনি আপেক্ষিক তত্ত্ব ও জ্যোতিবিজ্ঞানের ওপর মৌলিক গবেষণার জন্য ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ উপাধি পান। ১৯১৭ সালে তিনি বিদ‍্যুৎ চুম্বকের উপর গবেষণালব্ধ নিবন্ধ ‘ম্যাকওয়েল ষ্টাসেস’ ফিলোসফিকাল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। তিনি ‘তেজস্ক্রিয় চাপ’এবং ‘নভো পদার্থ’ উপর অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালনা করেন।

১৯১৮সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘বিদ‍্যুৎ চুম্বক তত্ত্ব ও তেজস্ক্রিয়’ মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ ডি.এস.সি খেতাব প্রদান করে। ১৯১৯সালে তার ‘বিকরন তাপ ও আপেক্ষিকতত্ত্ব’ শিরোনামে একটি মৌলিক নিবন্ধ এষ্ট্রোফিজিকাল জার্মানে প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ বৃত্তি অর্জন করেন। এরকম অসংখ্য অজানা জিনিস রয়েছে যা হয়ত আমরা সবাই জানি না।আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই মহান বিজ্ঞানী ড.মেঘনাদ সাহার নাম এখন অনেকেই ভুলে গেছে।

কৃর্তিমান এই বিজ্ঞানীর জন্মদিন কিংবা মৃত্যু বার্ষিকী পালনে নেই কোন সরকারী-বেসরকারী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগ। আস্তে আস্তে এই নামটা হয়তো বাংলাদেশের মানুষের মন থেকে মুছে যাবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম জানার আর কোনো সুযোগও পাবে না যদি এখনি কোনো উদ‍্যোগ গ্রহণ করা না হয়। সরকারের সহায়তা পেলে হয়ত তার আদি নিবাসে তার নামে একটা জাদুঘর করে তার শেষ স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

তথ্য অনুসন্ধান বিশ্লেষণঃ ঋত্বিক সাহা