পুরনো বিছানার চাদরেই বাড়ুক আপনার ঘরের সৌন্দর্য


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০১৬ লাইফস্টাইল

পুরোনো পর্দার ব্যবহার

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর। বিছানার চাদরটা বেশ অনেকদিন হল ব্যাবহার করছেন। মাঝে খানিকটা অংশ ছিড়ে গেছে। কিংবা, কোনা দিকে কিছুটা রঙ ফ্যাঁকাসে হয়ে গেছে। স্বাভাবিক ভাবেই বাতিলের খাতায় তখন নাম লেখাবে বিছানার চাদরটি। তাই বলে কি একাবারেই বাতিল হয়ে যাবে চাদরটি? ভিন্নভাবে বাতিল চাদরটিকেই ব্যাবহার করতে পারেন আপনার ঘর সাজানোর কাজে। চলুন তেমন কিছু টিপসই জেনে নেওয়া যাক।

বাতিল চাদরে হোক পর্দাঃ এক রঙা চাদর হলে সেটাকে পর্দা বানিয়ে ফেলুন। সুই সুতা দিয়ে ছেড়া বা ফ্যাঁকাসে হয়ে যাওয়া স্থানে একটু কারুকাজ করতে পারেন। পর্দার মত কুচি করে বাহারি লেস লাগিয়ে নিন। এবার বাজার থেকে কেনা হুক লাগিয়ে নিলেই হল। জানালায় ঝুলিয়ে দিন চাদর দিয়ে বানানো পর্দা। ফেলনা জিনিসে বেশ কাজ হবে।

বানিয়ে ফেলুন টেবিল ক্লথঃ নকশাওয়ালা চাদরটাই বেশ পুরনো হয়ে গেছে। তাই বিছানায় ওটাকে আর মানায় না। তাতে কি? ছোট করে কেটে চারপাশ মুড়ে সেলাই করে নিন। আপনার ড্রয়িং রুমের টি টেবিলের জন্য সুন্দর টেবিল ক্লথ হয়ে যাবে। চাইলে ড্রেসিং টেবিলের জিনিসপত্র রাখার জায়গাটাতেও এক টুকরো কাপড়ে সাজিয়ে দিতে পারেন।

পুরনো চাদরে বালিশের কভারঃ বাসার চাদরটা পুরোনো হয়ে গেলে সেটা কেটে দু চারটা বালিশের কভার বানিয়ে রাখুন। কাজে দিবে। ড্রয়িং রুমে যদি ফ্লোরিং এর ব্যবস্থা থাকে, তাহলে বাজার থেকে কয়েকটা গোল কুশন কিনে চাদরের কভার বানিয়ে সেগুলোকে সাজিয়ে রাখতে পারেন। ঘরের চেহারাই বদলে যাবে।

পোষা প্রাণীর চাদরঃ ঘরে আদর করে বিড়াল কিংবা কুকুর পোষেন? তবে আর কি, বিছানার চাদরটা পুরনো হয়ে গেলে ওদের বিছানার চাদর হিসেবেই সেটিকেই কাজে লাগিয়ে দিন।

পুরনো চাদরেই হোক রঙিন পাপোশঃ কোনভাবেই আর বিছানার চাদরটা ব্যবহার যোগ্য মনে হচ্ছে না? স্টোর রুমে ফেলে দেওয়ার আগে একটু থামুন। সুন্দর শেপে ভাঁজ করে, ইচ্ছেমত আঁকাবাঁকা করে এফোঁড় ওফোঁড় সেলাই করে ফেলুন। এবার ঘরের দরজার সামনে দিয়ে দিন। ব্যাস, ঘরের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা আনতে আর কি চাই।

আসলে কোন জিনিসই খুব সহজে ফেলনা হয়না। একটু সময় আর বুদ্ধি কাজে লাগালেই ব্যবহার অনুপযোগী জিনিসগুলো খুব সহজে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়। এই যে বিছানার চাদরের কথাই ধরুন। ছিড়ে যাওয়া বা ফ্যাঁকাসে হয়ে যাওয়া পুরোনো চাদরটাকে কেটেকুটে কত কিছুই না করতে পারেন আপনি। টোস্টার বা স্যান্ডউইচ মেকারের কভার বানিয়ে ফেলতে পারেন। মাইক্রোওভেনের উপরটা ঢেকে রাখার কাজটা করতে পারেন। একটু এদিক ওদিক করলেই অনেক কাজেই লাগানো যায় পুরোনো জিনিসগুলো।