🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

যেভাবে বিজ্ঞাপন থেকে অভিনয়ে আসলেন ‘বেসম্ভব ঠাণ্ডা’র এই ছেলেটি


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১১, ২০১৬ বিনোদন, স্পট লাইট

বিনোদন ডেস্ক – মনে আছে ছবিটির এই ছেলেটিকে। না থাকলে, আবার মনে করিয়ে দিচ্ছি। এই হচ্ছে বেসম্ভব ঠাণ্ডার সেই শরিফুল। ‘হু টোল্ড ইউ? অয়েল ইওর ওন মেশিন’, ফ্রিজিং মানে ‘বেসম্ভব ঠাণ্ডা’—এই সংলাপগুলো মনে পড়ে। রবির ইন্টারনেটে ইংরেজি শেখার বিজ্ঞাপনে সে এই সংলাপগুলো উচ্চারণ করে । আর সেই বিজ্ঞাপনের মধ্যে দিয়েই সুনাম-খ্যাতি অর্জন করেছে।

এই শরিফুলের বিজ্ঞাপনে আসাটা ছিল অপ্রস্তুতভাবে। ঘুরতে আসা মোটাসোটা ছেলেটা একজন বিজ্ঞাপন তারকা হয়ে যাবে সে এটা নিজেই ভাবে নি।

বিজ্ঞাপনে শরিফুলের মডেলিং ছিল হঠাৎ। শুটিং দেখতে আসা মোটাসোটা শরিফুলকে দেখে সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামানের খুব পছন্দ হয়। প্রস্তাব দেওয়া হয় বাড়িতে। রাজি হন শরিফুলের বাবা। এরপর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় শরিফুল।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং বিজ্ঞাপনটির কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। এতে সুহাস জামদানি ঘর কোন দিকে প্রশ্নের জবাবে স্কুলপডুয়া ফোকলা দাঁতের ছোট্ট ছেলেটির উত্তর—সুউজা। একের পর এক এই প্রশ্নে ধৈর্য হারিয়ে বারবার বলতে থাকে ‘সুউজা, সুউজা’। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বলে, ‘ধুর! সুজা সুজা করতে আর ভালো লাগে না।’ এই বিজ্ঞাপন দিয়ে শরিফুলের শুরু।

প্রথম বিজ্ঞাপনের শুটিং সম্পর্কে শরিফুল জানায়, শুটিং তার কাছে অনেকটা বাড়ির কাজের মতোই মনে হয়েছিল। প্রথম দিনের শুটিং ছিল তাদের বাড়ির পাশে। চায়ের স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে সুহাস জামদানি ঘরের খোঁজে আসা ক্রেতাদের সুউজা বলে পথ দেখিয়ে দেবে। ব্যস! এতটুকুই। তার বলা ‘সুউজা’ সংলাপই তারকা বানিয়ে দেয় শরিফুলকে। মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে—সুউজা। শরিফুলকেও এই খ্যাতির বিড়ম্বনা কম পোহাতে হয়নি। তার সামনে কেউ কিছু জানতে চাইলে সবাই তার মতো করে ‘সুউজা’ বলে দেখিয়ে দিত। কেমন লাগত তোমার?

শরিফুল বলে, ‘খুব মজা পেতাম। ভালো লাগত।’ গাজীপুরের শ্রীপুরে বিজ্ঞাপনটির শুটিং হয়। পরিচালক ছিলেন অমিতাভ রেজা। তাকে শরিফুল ডাকত ‘অমিতাভ বন্ধু’। গাজীপুরে শরিফুলদের গ্রামে শুটিংয়ের ফলে অমিতাভের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। কম বয়সে করা ওই বিজ্ঞাপনটি তখন ততটা না বুঝলেও এখন ইউটিউবে দেখে বেশ মজা লাগে তার। এরপর শরিফুলকে দেখা যায় রবির ইন্টারনেটে ইংরেজি শেখার বিজ্ঞাপনে। এতে পুকুরপাড়ে একটি ছেলেকে শীতের মধ্যে গোসল করে কাঁপতে দেখা যায়। তখন শরিফুল গোসল করতে আসে। ছেলেটি কাঁপতে কাঁপতে বলে, ‘ডোন্ট জাম্প। ইটস কোল্ড।’

soiriful

এ সময় শরিফুল দুই হাত দুই দিকে ছড়িয়ে ব্যায়াম করে ছেলেটির দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়—‘হু টোল্ড ইউ? অয়েল ইওর ওন মেশিন।’ বলতে দেরি কিন্তু পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেরি হয় না। তারপর তীব্র ঠাণ্ডায় কাঁপতে শুরু করে। এরপরই ইংরেজিতে পারদর্শী শরিফুলের দেখা মেলে। শিক্ষকের ফ্রিজিং শব্দের উত্তরে সবার আগে হাত তুলে উত্তর দেয়—‘বেসম্ভব ঠাণ্ডা’। এই বিজ্ঞাপনটি দিয়ে আরো বেশি পরিচিত হয় শরিফুল। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর তেলের বিজ্ঞাপনে কোথাও যখন ঘানি পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন সে নিজের বইয়ে থাকা ঘানির ছবি বের করে দেখায়।

বলে—‘আগে ঘানি বড় আছিল। এখন সরকার ছোট বানায়া দিছে। আগে পুরা পৃষ্ঠা আছিল।’ তার প্রিয় বিজ্ঞাপন রবির ‘বেসম্ভব ঠাণ্ডা’। এই সংলাপটির জন্য সবাই তাকে চিনেছে। অনেকে এখনো তার মুখে ফ্রিজিং শব্দের অর্থ শুনতে চায়। শরিফুল গাজীপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের বাড়ি মনিপুরের জয়নাকুনি। পরিবারের সবাই শরিফুল নামে ডাকলেও স্কুলের বন্ধুরা বান্টি আর শিক্ষকরা মনা ও বল্টু ডাকে।

পড়াশোনার সঙ্গে সমানতালে মডেলিং চালিয়ে যেতে চায় শরিফুল। বড় হয়ে ডাক্তার হবে। প্রিয় তারকা মোশারফ করিম। তাঁর সঙ্গে একটি নাটকেও অভিনয় করেছে।