🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

হিজাব পরা ছিল বলেই এরকম হেনস্থার শিকার মুসলিম তরুণী ইতেমিদ আল-মাতার,


❏ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৬ Uncategorized

ইসলাম ধর্মে নির্দেশিত আপাদমস্তক  ধর্মীয় পোশাক পরে আমেরিকার শিকাগো শহরের একটি সাবওয়ে স্টেশনের সামনে দিয়ে ব্যাক্তিগত কাজে  দ্রুত গতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন তরুনী । পুরো শরীরের মতই মুখও ছিলো নেকাবে  ঢাকা। পিঠে ছিল ভারী ব্যাগ।তাতেই যত  বিপত্তি । বোরখার সাথে ভারী ব্যাগ দেখেই  নাকি প্রাথমিক সন্দেহে জঙ্গি হিসাবে চিহ্নিত করা হয় তরুনীকে । কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা  দৌড়ে গিয়ে এক ধাক্কায় মেঝেয় ফেলে দেয় তরুনীকে । একটানে তাঁর হিজাব খুলে ফেলে পুলিশ। তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালানো হয় তাঁর ব্যাগে।

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগের সেই ঘটনা তুমুল সমালোচনার জন্মও দিয়েছিলো সেসময়।  কিন্তু সেই অপমান ভুলতে পারেননি ওই মহিলা। ন্যায়-বিচার চেয়ে এবার সেই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তিনি। শুক্রবার তাঁর উপরে বল প্রয়োগ, মিথ্যা অভিযোগ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে শিকাগো পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করলেন ওই মুসলিম ধর্মাবলম্বী মহিলা ইতেমিদ আল মাতার।
সাংবাদিকদের ওই মহিলা জানান, গত বছরের ৪ জুলাই তিনি শিকাগো শহরের এক সাবওয়ে স্টেশনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। মাথায় হিজাব পরা ছিল। কাঁধে একটি ব্যাগ ছিল। সাবওয়ে স্টেশন দিয়েই যখন হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন হঠাত্ই তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন কয়েকজন পুলিশকর্মী। মেঝেয় ফেলে তাঁর মাথার হিজাব টেনে খুলে দেওয়া হয়। ব্যাগ খুলে তল্লাশি চালানো হয়। আচমকাই এমন ব্যবহারে হতভম্ব হয়ে যান তিনি। কেন তাঁর সঙ্গে এই দুর্ব্যবহার তাও তাঁকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি পুলিশ। তারপর কোনও কারণ ছাড়াই মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ আনা হয়, তিনি নাকি জঙ্গি। আত্মঘাতী হামলা চালানোর উদ্দেশেই এখানে ঘোরাফেরা করছিলেন। সাবওয়েতে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজেও এই একই চিত্র ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্
২০১৫ সালের ৪ জুলাই মাথায় স্কার্ফ পরে এবং মুখমণ্ডল আবৃত করে মেট্রো স্টেশন থেকে বের হয়ে আসছিলেন ইতেমিদ আল-মাতার। এ সময় শিকাগো পুলিশ সহিংস কায়দায় কিল-ঘুষি মেরে তাকে আটক করে।

তিনি বলেন, পুলিশ জনসমক্ষে তার মাথার স্কার্ফ টান দিয়ে খুলে ফেলে এবং পরে থানায় নিয়ে গোটা দেহে তল্লাশি চালায়। এর মাধ্যমে তার নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাতার। পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে বলা হয়, মাতারের বিরুদ্ধে অত্যধিক বলপ্রয়োগের পাশাপাশি তাকে মিথ্যা অপবাদে আটক করা হয়েছে এবং তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগের অধিকার লঙ্ঘন করেছে পুলিশ।

সে সময় পুলিশ দাবি করেছিল, ওই মুসলিম তরুণী সন্দেহজনক আচরণ করছিল।আর এভাবে আপাদমস্তক  ধর্মীয় পোশাক বোরখা ও  মাথার হিজাব পরে ধর্মকে সামনে রেখে জঙ্গি সন্ত্রাস করছে নারীরা ;

বর্তমান সময়ে 
পরে অবশ্য কোনও প্রমাণ না পেয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অপমান ভুলতে পারেননি ইতেমিদ। শুধুমাত্র তিনি মুসলিম ধর্মাবলম্বীর বলেই কি তাঁকে অকারণে জঙ্গি বলে ‘ভুল’ করা হল? শুধুমাত্র তাঁর মাথায় হিজাব পরা ছিল বলেই কি তাঁকে এরকম হেনস্থার শিকার হতে হল? প্রশ্নটা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল তাঁর মনে। এবার তাই বিচার চেয়ে সরাসরি শিকাগো পুলিশের বিরুদ্ধেই ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করলেন ইতেমিদ।