• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

জামায়াতের আমির নির্বাচিত প্যানেলে জায়গা হয়নি সাঈদীর


❏ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – যুদ্ধাপরাধের কলঙ্ক মুছে ফেলতে চাইছে জামায়াত। হাতে একাত্তরের রক্তের দাগ নেই এমন নেতাদের বেছে নিয়ে দলটিকে নতুন করে সাজাতে চাইছে তারা। এরই অংশ হিসেবে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার গোপন ব্যালটে আমির প্যানেলে এমন তিনজন নেতাকে বেছে নিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি।

ইতিমধ্যে জামায়াতের আমির প্যানেল নির্বাচিত হয়ে গেছে । নির্বাচিত প্যানেলে রয়েছেন মকবুল আহমাদ, মুজিবুর রহমান ও শফিকুর রহমান। আমির প্যানেল নির্বাচনের দৌড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ড পাওয়া ও কারাবন্দী দুই জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আবদুস সুবহানের নাম থাকলেও আসেনি তাদের নাম।

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন সদস্যের আমির প্যানেলের নির্বাচন চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়েছে। মজলিশে শুরার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত তিনজনের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন মকবুল আহমাদ। তিনি এখন দলের ভারপ্রাপ্ত আমির। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুজিবুর রহমান নায়েবে আমির ও দলের সাবেক সাংসদ। শফিকুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল।

saidi

আগামী সপ্তাহের দিকে দলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম মাসুম এই তিনজনের নাম প্রকাশ করে রুকনদের (শপথধারী সদস্য) কাছে ভোটাভুটির জন্য পাঠাবেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা আমির পদে প্রার্থিতার জন্য তিনজনের প্যানেল নির্বাচন করে। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্যসংখ্যা ২৭৭। এরপর সারা দেশের রুকনরা ভোট দিয়ে আমির নির্বাচন করেন। রুকনের সংখ্যা ৪২ হাজার। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী।

জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, রুকনদের কাছে ফরম পাঠিয়ে ভোট সংগ্রহ করতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগতে পারে।

এর আগে আমির পদে নির্বাচনের প্রক্রিয়ার শুরুতে দলের নীতিনির্ধারকেরা চিন্তায় ছিলেন, তিন সদস্যের আমির প্যানেলে কারা নির্বাচিত হয়ে আসেন। কারণ, বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চারজন নায়েবে আমির আছেন।

তাঁরা হলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আবদুস সুবহান ও আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং মকবুল আহমাদ ও মুজিবুর রহমান। গঠনতান্ত্রিকভাবে নায়েবে আমিরদের মধ্য থেকেই সাধারণত আমিরের প্যানেল নির্বাচিত হয়। কিন্তু সাঈদী দলের ভেতরে অন্যদের চেয়ে জনপ্রিয় হওয়ায় বর্তমানে নীতিনির্ধারণে থাকা দলীয় নেতারা কিছুটা চিন্তায় পড়ে যান।