• আজ সোমবার, ৩ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৭ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

বাস আটকে আমতলী-তালতলী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ


❏ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী-তালতলী সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী নামক স্থানে বাইপাশ সড়কের খাদায় শুক্রবার সন্ধ্যায় একাধিক পরিবহনের বাস আটকে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পরেছে বাস যাত্রীসহ হাজারো জনগন।AMTALI PICTURE BUS - 13.08-2016

পাউবো ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, আমতলী-তালতলী সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী নামক স্থানে গত পাঁচ বছর পূর্বে পাউবো দু’ব্যান্ডে’র স্লইজ গেট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে। ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজ পায় বরগুনার এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজের শুরুতে গাড়ী চলাচলের জন্য পাশে বাইপাশ সড়ক নির্মাণ করে। পরে রাস্তা কেটে স্লইজ গেট নির্মাণ কাজ শুরু“ করে। কাজ শুরুর তিন মাসের মাথায় অর্থ সংকটের কারনে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত পাঁচ বছর ধরে এ স্লইজ গেটের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ওই থেকে বাইপাশ সড়ক দিয়ে গাড়ী চলাচল করছে। গত বছর বাইপাশ সড়কটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নামে মাত্র সংস্কার করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বর্ণা, শতাব্দি, ভাইভাই পরিবহন ও গ্লোব ফার্মাসিটিউটিক্যাল লিঃ ঔষধ সরবরাহকারী গাড়ী খানাখন্দে আটকে আছে। রাস্তার দু’পাশে একাধিক বাস গাড়ী, অটো,টমটম ও মাল বোঝাই ট্রাক ও লড়ি দাড়িয়ে আছে। খানাখন্দ থেকে বাস উঠানো যাচ্ছে না।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যাল লিঃ ঔধষ সরবরাহকারী গাড়ীর ড্রাইভার টুটুল ও হেলপার হাসান জানান সকালে এ খানাখন্দে গাড়ী আটকা পরায় ঔধষ নিয়ে তালতলী যেতে পারছি না। তারা আরো জানান গাড়ীও খানাখন্দ থেকে উঠাতে পারছি না।

আমতলী স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান স্লুইজ নির্মাণের জন্য সড়ক কেটেছে পাউবো দায়দায়িত্ব তাদের। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী গাজী নুর মোহাম্মাদ রিপন জানান জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের কাজ করা হবে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রথম প্রতিবাদ হয়েছিল বরগুনায়

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও এ জঘন্য হত্যকান্ডের প্রথম প্রতিবাদ হয়েছিল তৎকালীন মহুকুমা শহর বরগুনায়। এসডিও সিরাজউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ সংগঠিত হয়।

বরগুনার বেশ কয়েকজন প্রবীন রাজনীতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা এ প্রতিনিধির সাথে স্মৃতিচারণ করে জানান, তৎকালীন বরগুনার ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তীতে ৪নং কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব মৃধার কাছে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের হত্যাকান্ডের সংবাদ পান এই সাহসী সরকারি কর্মকর্তা। তিনি এককভাবে এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। সিরাজউদ্দীন সাহেব দ্ব্যার্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করেন “বরগুনায় যদি কেউ খুনী সরকারের পক্ষে মিছিল বের করে তবে তাদেরকে গুলি করে লাশ খাকদন নদীতে ফেলে দেয়া হবে।” এই ঘোষণার পর কেউ খুনী সরকারের পক্ষে মিছিল বের করেনি। সারা বাংলাদেশে খুনী সরকারের পক্ষে মিছিল হলেও বরগুনা ছিল তার ব্যতিক্রম।

এসডিও সিরাজউদ্দীনের সাথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন বরগুনা মহকুমার তিনজন সংসদ সদস্য, আসমত আলী শিকদার এমপি, শাহজাদা মালেক খান এমপি, নিজামউদ্দীন আহমেদ এমপিসহ বরগুনার তৎকালীন বহু সরকারী কর্মকর্তা। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্য ছিলেন বাকশালের যুগ্ম স¤পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম শিকদার, ইউনুস শরীফ, বরগুনা কলেজের অধ্যক্ষ শামসুল আলম, ন্যাপ সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ছাত্রলীগ সভাপতি, বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবির, ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ, ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. মান্নান মিঞা, সুলতান জোমাদ্দার, মোতালেব মৃধা, বরগুনা ১ আসনের সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা ১আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

তাদের নেতৃত্বে অনেক উদ্দীপ্ত তরুন-যুবক সশস্ত্র প্রতিরোধ করার জন্য সিরাজউদ্দীনের সাথে যোগ দেন। বরগুনার পুলিশের অস্ত্র তখন বিদ্রোহীদের দখলে। তৎকালীন ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পরবর্তীতে বরগুনার সংসদ সদস্য মরহুম সিদ্দিকুর রহমান যুবকদের নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ভুমিকা রাখেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যথাযথ সহযোগিতার অভাবে এই প্রতিরোধ তিনদিনেই ভেঙ্গে পড়ে। সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রামের বাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়, প্রায় দুই বছর সিদ্দিকুর রহমান কারাবন্দী ছিলেন। এছাড়া অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদের খুঁজে খুঁজে গ্রেফতার করে তাদের অমানসিক নির্যাতন করা হয়। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য সিরাজউদ্দীন আহমেদকে তৎকালীন অবৈধ সরকার চাকরিচ্যুত করে।

সিরাজউদ্দীন আহমেদ তার প্রকাশিত স্মৃতিচারণে লেখেন, ’আমি গৌরবান্বিত যে একমাত্র আমাদের বরগুনায় ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল।’

বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে বরগুনাবাসীর এই গৌরবোজ্জ্বল সাহসিকতার ইতিহাস অজানা।
বরগুনার কমিউনিটি রেডিও লোকবেতারের স্টেশন ম্যানেজার সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল জানান, এ বিষয়টি নিয়ে লোকবেতার বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।