• আজ মঙ্গলবার, ৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বাছাই করবে এনটিআরসিএ’


❏ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়, শিক্ষাঙ্গন

সময়ের কণ্ঠস্বর – শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে প্রতিষ্ঠানের ব‌্যবস্থাপনা কমিটির কোনো অধিকার নেই। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত‌্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যাকে ঠিক করে দিবে তাকেই নিতে হবে।

শনিবার এনটিআরসিএ আয়োজিত ১৩তম বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ঢাকা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নিয়োগে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে শিক্ষক নিয়োগ দেই সেটা স্বচ্ছ হয় না কিংবা সেটা ধরতে পারেন, সঠিকভাবে হয় না। যার ফলে আমরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে পারি না, আবার করতে পারলেও আমরা তাকে ঠিকভাবে নিয়োগ দিতে পারি না।

দেশে ৩৭ হাজার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেটা প্রযোজ্য না হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন‌্য প্রযোজ্য। সুতরাং বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা যদি উন্নতমানের নিয়োগ দিতে পারি- এটা আমাদের জন্য পজেটিভ হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে আমরা এখান (এনটিআরসিএ) থেকেই নিয়োগ দিব এবং পরীক্ষা নেওয়া হবে।

nahid

বেসরকারি স্কুল-কলেজে শিক্ষক হতে চাইলে অবশ্যই শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সনদ থাকতে হয়। নিয়োগ বাণিজ্য ঠেকাতে গত বছরের ২১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা সংশোধন করে, যার ফলে শিক্ষক নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা খর্ব হয়। নতুন নিয়মে বেসরকারি স্কুল-কলেজে মেধার ভিত্তিতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রক্রিয়া শেষ করতে না পারায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ আছে।

প্রায় ছয় লাখ পরীক্ষার্থীর মধ‌্যে মে ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বাছাইয়ে এক লাখ ৪৭ হাজার জন উত্তীর্ণ হন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তাদের মধ‌্যে শুক্রবার পরীক্ষা দেন স্কুল পর্যায়ের ৯০ হাজার ৯৪৪ জন এবং মাদ্রাসা ও টেকনিক্যালের ৬২০ জন। শনিবার ৫৫ হাজার ৬৯৮ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন কলেজ শিক্ষক হওয়া জন্য।

তিনি বলেন, এই পরীক্ষায় যারা ভালো করবেন তাদের শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করা হবে। নিয়ম করেছি, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনে খাতা দেখবেন এবং পরের ১৫ দিন প্রধান পরীক্ষকের কাছে খাতা পৌঁছবেন। তিনি খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জমা দিবেন। সেখন থেকে বাছাই করে মৌখিক পরীক্ষা নিব।

অক্টোবরের শেষদিকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মৌখিক পরীক্ষা শেষ করার ৩০ দিনের মধ্যে ফল দিতে পারব। এই প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে অক্টোবর শেষ দিক পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে চাহিদা নেওয়ার কথা জানিয়ে সে অনুসারে ছয় মাসে শূন‌্য পদে শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে থানা খালি সেখানকার স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া হবে। না থাকলে জেলা পর্যায় এবং তারপর বিভাগীয় পর্যায় থেকে।

এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগপ্রাপ্তকেই নিয়োগ দিতে হবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বা কারও কোনো হস্তক্ষেপ হবে না। তাদের হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার বা সুযোগ নাই। আমরা একজনকে ঠিক করে দিব তাকে নিতে হবে।