• আজ বৃহস্পতিবার, ১৩ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

মায়ের জীবন বাঁচাতে অবুঝ শিশুর কান্না


❏ রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি- আমাদের মা’ কে বাঁচান! আমাদের মা ধিরে ধিরে বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। আমাদের মা আমাদের সাথে অনেক দিন ধরে কথা বলে না। আমাদের সৎ মা আমারে ঠিকমতো খেতে দেয় না, খালি মারে। আমাদের মায়ের কাছে যেতে দেয়না। আপনারা আমাদের মাকে ভালো করে দেন। unnamedএ প্রতিনিধিকে দেখে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন হতভাগী খোতেজার দুই অবুঝ শিশু স্বপ্না ও শরিফা। খোতেজার বাড়ী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দিগদারী গ্রামে। খোতেজা আজ ৫ বছর থেকে মস্তিক্কের (ব্রেনের) গুরুত্বর সমস্যায় ভুগছেন। এ সমস্যায় তার জবান বন্ধ হয়ে গেছে,স্মৃতি শক্তি হারিয়ে গেছে। এখন শুধু অসহ্য যন্ত্রনায় সারাদিন চিৎকার করে থাকে।

৫ বছর আগে স্বামী রফিকুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে কবিরাজি চিকিৎসা করে রোগ ভালো না হওয়ায় খোতেজাকে ফেলে ২য় বিবাহ করেন। এবং খোতেজার খোঁজ খবর নেয়া বাদ দেন। এখন খোতেজা অন্যের গোয়াল ঘড়ে গরুর সাথে আদিম যুগীও কায়দায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। যেখানে খোতেজা দিনে রাতে মিলে ১ বেলা খেলো কি না তার খোজ কেউ রাখেনা। খোতেজার তিন মেয়ে বড় মেয়ে মাহমুদাকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছোটো দুটি অবুঝ শিশু স্বপ্না ও শরিফা সৎ মায়ের ঘড়ে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছেন।

ওই গ্রামের মানুষের প্রবল অনুরোধে ১ টি নদী পাড় হয়ে এ প্রতিনিধি খোতেজার কাছে পৌঁছালেও সেখানে গিয়ে পড়েন নতুন সমস্যায় খোতেজার সতিন খোতেজার কোন ছবি তুলতে দেবেন না! তার যুক্তি চিকিৎসা শেষে খোতেজা সুস্থ হয়ে উঠলে তার কি হবে! সংসারের কতৃত্ব যে তখন দুই ভাগ হয়ে যাবে! পরে অনেক কষ্টে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে দেখা হয় খোতেজার সাথে। সেখানে এ প্রতিবেদক দেখতে পারেন একটি র্জীন স্যাতস্যাতে ঘড়ে শুয়ে আছে খোতেজা। তার সাথে অনেক কথা বললেও সে কোনো কথা বলেনি। বরং ছবি তোলার সময় তার মেয়ে শরিফা ও স্বপ্নাকে কাছে পেয়ে তাদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদেছে মাত্র। এ যেনো এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।

মা ও সন্তানের এ অপূর্ব মিলন খানিকটা সময়ের জন্য আবেগআপ্লুত করে তোলে উপস্থিত সবাইকে। খোতেজার মেয়ে স্বপ্না এ প্রতিনিধির কাছে কাঁদতে কাঁদতে বলেন- আমার মা অনেক দিন থাকি অসুস্থ! কোনো চিকিৎসা আমার বাবা করেনা! আমাদের সৎ মা আমাদের কোনো আদর করে না। খালি মারে। আপনারা আমার মাকে বাঁচান! আপনারা আমাদের মুখের দিকে দেখেন! আমাদের মা হারা করবেন না।

প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ সন্মানীত পাঠক আমার জীবনে আমি ৫ টি সহযোগিতামুলক খবর প্রকাশ করেছি। এখন আল্লাহ রহমতে এই ৫ জনের সবাই ভালো আছেন। কিন্তু আমার সাংবাদিকতা জীবনে আমি একজন মায়ের এ রকম করুন পরিণতি দেখিনি! অবুঝ বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকানো যায়না ! আপনাদের কাছে অনুরোধ আসুন একজন মায়ের জীবন ফিরিয়ে দিতে এই অসহায় মায়ের পাশে দাড়াই।

খোতেজার পাশে দাড়াতে- হিসাবের নামঃ মোছাঃ খোতেজা বেগম, সঞ্চয়ী হিসাব নংঃ ১২০৯৮ অগ্রণী ব্যাংক লিঃ ভিতরবন্দ হাট শাখা- কুড়িগ্রাম।

খোতেজার ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১