🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নানা দুর্ভোগে বন্যা দুর্গতরা


❏ রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

ফয়সাল শামীম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও নানা দুর্ভোগে দিন কাটছে বন্যা দুর্গত মানুষের। চর্ম রোগ সহ পানি বাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষজন।

madical

সরকারী ভাবে জেলায় ৮৫টি মেডিকেল টিম বন্যা দুর্গতদের জন্য কাজ করার কথা বলা হলেও তাদের দেখা পাচ্ছেন না নদ-নদী অববাহিকার ২ শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের বানভাসী মানুষেরা। এ অবস্থায় দুর্গম চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষেরা চর্ম রোগ, ডায়রিয়া, আমাশয় সহ নানা পানি বাহিত রোগে ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না তারা। অন্যদিকে হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন বানভাসীরা। মেরামত করতে পারছেন না তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ী।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম জানান, জেলার ৯ উপজেলায় বন্যা দুর্গতদের জন্য ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। কিন্তু চরাঞ্চলের বন্যা দুর্গতরা জানান, তারা কোন মেডিকেল টিমের লোকজনের দেখা পাননি।

এদিকে বন্যা দুর্গতের ত্রান সহায়তা সহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল গুলোতে সহস্রাতাধিক বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে চিকিৎসা সেবা ও বিনা মূল্যে ২ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ বিতরন করেছেন কুড়িগ্রাম সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দেন সরকারী উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার স্বপন কুমার বিশ্বাস।

এ সময় ১৯৯৪ ব্যাচের ব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম, এ্যপোলো ইস্পাতের উর্ধতন কর্মকর্তা মিঠুন বকসী, ব্যাংক কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, এডভোকেট মতিউর রহমান তুষার, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মোঃ জুয়েল হোসেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান অরেঞ্জ, মোশারফ হোসেন সোহেল, মাইদুল ইসলাম মুকুল, তাজুল ইসলাম, ঠিকাদার ফরিদ, ব্যবসায়ী লিটন, বসুন্ধরা সিমেন্টের কর্মকর্তা শাহিনুর আলম অপু, অগ্রনী ব্যাংক কর্মকর্তা টিটুল, এডভোকেট মাসুম বিল্লাহ্, সাংবাদিক বাদশাহ্ সৈকতসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রামে উপবৃত্তির প্রদানে অনিয়ম

কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা আত্বসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যোগসাজসে শিক্ষা উপবৃত্তির ১ হাজার ২শ টাকার স্থলে ৬শ টাকা এবং কিছু ছাত্র/ছাত্রীদের ৩শ টাকা দেয়ার সুর্নিদিষ্ট আভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও কোন কোন বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন ও বিদ্যালয়ের সংস্কারের টাকা আত্বসাতের অভিযোগ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের গোয়াইলপুরী মন্ডল পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ও অবিভাবক বৃন্দের পক্ষে মোঃ মোনা মোল্লা অভিযোগ করেছেন গত ২০ জুলাই রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা বেলাল হোসেন ও হুরমুজ আলী যাত্রাপুর ইউনিয়নের গোয়াইলপুরী মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা প্রদান করেন। প্রতিজন ছাত্র/ছাত্রী ১ হাজার ২শ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছে ৬শ টাকা। আবার কোন কোন ছাত্র/ছাত্রী পেয়েছে মাত্র ৩শ টাকা। বাকী টাকা বিভিন্ন খাতে খরচের কথা বলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মমতাজ বেগম ও ব্যাংক কর্মকর্তা বেলাল হোসেন আত্বসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও শিক্ষা উপবৃত্তির কার্ড দেয়ার কথা বলে ১শ ২০ টাকা কর্তন করা হয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শহিদ মন্ডল ও সদস্য গন জানান, শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা ছাড়াও গোয়াইলপুরী মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মমতাজ বেগম বিদ্যালয়ে বৃক্ষ রোপন ও বিদ্যালয় সংস্করের জন্য বরাদ্দকৃত ৪০ হাজার টাকা আমাদের সাক্ষর জাল করে উত্তোলন পূর্বক আত্বসাত করেছেন। গোয়াইলপুরী মন্ডলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দূর্নীতি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যে আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা এবং এটি সাজানো, একই দিনে ওনারা আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করেছেন। রূপলী ব্যাংক কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি ঐ স্কুলে যাইনি সেখানে গিয়েছিল হুরমুজ আলী।

হুরমুজ আলীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদায়ী পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রীদের ৩শ করে টাকা দেয়া হলে বির্তকের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কার্ডে যা লেখা ছিল তাই বিতরন করা হয়েছে।