এবার ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করবেন না খালেদা!

৬:১০ অপরাহ্ন | রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর- দেশের বন্যা পরিস্থিতি, নেতাকর্মীদের গুম-খুনসহ নানা কারণে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।khaleda20150815001500দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে গুলশান কার্যালয়ে জন্মদিনের কেক না আনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রোববার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, “প্রতিদিনের মতো গুলশানের কার্যালয়ে যাবেন তিনি (খালেদা)। তবে তবে প্রথম প্রহরে কেক কাটার কোনো আনুষ্ঠানিকতা সেখানে হচ্ছে না।”

অন‌্যান‌্য বারের মতো এবার রাত ১২টার পর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও চেয়ারপারসনের জন্মদিনের কেক কাটার কোনো কর্মসূচি নেই বলে দলের জ‌্যেষ্ঠ নেতাদের কয়েকজন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “উত্তরাঞ্চল-মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক বন্যায় মানুষের দুর্দশা, সর্বত্র গুম-খুনে মানুষের লাশ আর লাশ, দলের নেতা-কর্মীদের ওপর গ্রেপ্তার-নিপীড়ন-নির্যাতনের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই ম্যাডামের জন্মদিনে এবার আমরা কেক কাটার অনুষ্ঠান করছি না।”

বিএনপির ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া সোমবার ৭২ বছরে পা রাখছেন।

গত দুই যুগ ধরে ১৫ অাগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন হলেও তার আরও কয়েকটি জন্মদিনের হদিস পাওয়া যায়। তার জন্মসাল নিয়েও দুই রকম তথ‌্য পাওয়া যায়।

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালে বলে তার নতুন করা পাসপোর্টে থাকলেও গয়েশ্বর রায় গত বছর জানান, তার নেত্রীর জন্ম ১৯৪৫ সালে। বাংলা পিডিয়াসহ খালেদা জিয়ার জীবনীর ওপর রচিত কয়েকটি গ্রন্থে তার জন্ম বছর ১৯৪৫ সালের ১৫ অাগস্ট দেখানো হয়েছে।

১৫ অাগস্ট খালেদার জন্মদিন উদযাপনের বিষয়ে বিএনপি থেকে বেরিয়ে আসা নেতা নাজমুল হুদা সপ্তাহখানেক আগে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, জোটসঙ্গী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর প্ররোচনায় ১৫ অাগস্ট জন্মদিন উদযাপন করা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

“আমি লক্ষ করেছি, যখন চারদলীয় জোট করে জামায়াতকে সঙ্গে নেওয়া হয়, তখন বিএনপির রাজনীতিতে হঠাৎ করে ১৫ অাগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা শুরু হয়।”

“জামায়াতকে সাথে নিয়ে জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে আগস্ট মাসে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলছিল। সেটাকে স্তব্ধ করার জন্যই ১৫ অাগস্ট জন্মদিন পালন নামক নাটকের অবতারণা করেছিলেন খালেদা জিয়া।”

আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনৈতিক নানা আলোচনায় এমনকি শেখ হাসিনা তিন বছর আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময়ও ১৫ অাগস্ট শোকের দিন কেক না কাটার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বিএনপির রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বানের জবাবে ১৫ অাগস্ট কেক না কাটাও অন‌্যতম শর্ত হিসেবে দিয়ে আসছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এর মধ‌্যে গত বছর প্রথম প্রহরে খালেদা জিয়া কেক না কাটলেও ১৫ অাগস্ট সন্ধ‌্যার পর কেক কেটে ঠিকই জন্মদিন উদযাপন করেছিলেন।

এদিকে জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জন্মদিন পালন করায় খালেদা জিয়াকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণীপশোর মানুষের পক্ষ থেকে এদিনে জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করার আহ্বান ছিল খালেদা জিয়ার প্রতি।

সর্বশেষ খালেদা জিয়ার সঙ্গে চা চক্রে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এই শোকের দিনে জন্মদিন পালন না করার অনুরোধ জানান।

এছাড়া দেশের ‘সংকটকালীন’ সময়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ কারণেও হয়ত জন্মদিন পালন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া আগেও ১৫ আগস্ট আনুষ্ঠানিক জন্মদিন পালন করতেন না। দলীয় নেতাকর্মীরা কেক নিয়ে তার কার্যালয়ে যেতেন, তাদের আবেগের কারণে তিনি কেক কাটতেন।